শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা নিয়ে রিজেন্ট ও জেকেজির প্রতারণা, যা বললো র‍্যাব-দুদক

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ


ঢাকা : করোনা টেস্ট না করেই ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি, করোনা রোগীদের থেকে বিপুল অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগের মামলায় ঢাকার বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ৮ আসামির ৭ জনকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ায় গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলেই উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

এর পরপরই রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহেদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা (মামলা নম্বর-৫) করে র‌্যাব। এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার রয়েছেন। ওই মামলায় শাহেদসহ নয়জনকে পলাতক হিসেবে এজাহারভুক্ত করা হয়। এর আগে র‍্যাবের একটি ভ্রাম্যমান আদালত উত্তরার প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার প্রমাণ পান।

এদিকে আজ (বুধবার) দুপুরে র‍্যাবের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান সারোয়ার বিন কাশেম জানিয়েছেন, রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদের প্রধান ব্যবসাই ছিল প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ।

শাহেদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারকদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যখন যার নাম পারে তখন সেটা বেচে নিজের জীবনকে অগ্রগামী করার চেষ্টা করে।’

এর আগে বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ করেছে, রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: শাহেদ সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকেই দুর্নীতি করেছে। আর সরকার করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে তার দলের লোকদের চুরি দুর্নীতি এবং আখের গুছানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

অপরদিকে, টেস্ট না করেই করোনার রেজাল্ট নিয়ে প্রতারণার দায়ে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারের অপকর্ম ধরা পরার পরও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশ বলছে, জেকেজির এই অপকর্মের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারা জড়িত আছেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে রেজিস্টার চিকিৎসক হিসেবে চাকরিরত অবস্থাতেই জেকেজি হেলথ-কেয়ারের চেয়ারম্যানের পদে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। করোনা টেস্টের নামে দিনের পর দিন মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল তার প্রতিষ্ঠান। এর দায়ে স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৬ জন। কিন্তু এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ডা. সাবরিনা।

ওদিকে, করোনাভাইরাসের সুরক্ষা সরঞ্জাম মাস্ক-পিপিই ক্রয় দুর্নীতির অনুসন্ধানের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেএমআই’র চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা মতিউর রহমানের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠার পর এ তদন্ত শুরু হয়।

দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের জানান মাস্ক-সুরক্ষাসামগ্রীর অনিয়মের অনুসন্ধান দ্রুত শেষ হবে। জড়িত কেউই ছাড় পাবেন না।