শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

মাইজভাণ্ডারি সংগীত : হতে পারে ব্র্যান্ডিংয়ের উৎস

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুলাই ২০, ২০২০, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ


রিদওয়ানুল ইসলাম : কোক স্টুডিও চিনেন না এমন কেউ নেই, বা আমাদের গান বাংলা চ্যানেলের অনুষ্ঠান পছন্দ করেন না এমন কাউকে দেখিনি আমি। মানুষের টেস্ট, রুচিতে আসলে পরিবর্তন আসছে, আসছে ধরন-ধারণেও। পুরোনো গানগুলোই এখন ফিরে ফিরে আসছে। বাংলার ফোক সংগীতের একটা বিশাল ধারা হলো মাইজভাণ্ডারি সংগীত। অনেকেই মুর্শিদী বা মারফতি বলেন এটাকে।

আধ্যাত্মিক সংগীত বলে এর একটা আলাদা আবেদনও আছে। গবেষকরা বলেছেন, ১০ হাজারেরও অধিক গানে সমৃদ্ধ এ ধারা। সম্ভবত বাংলার অন্যতম সমৃদ্ধ সংগীত ধারাই এটা।চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফকে কেন্দ্র করেই মুলত এ ধারার উৎপত্তি। এই ধারার পূর্বতন ধারা হিসেবে ‘সামা সংগীত’ কে বিবেচনা করা হয়। প্রথাগত সংগীত থেকে এই ধারা আলাদা।স্বকীয়তায় অনন্য এই ধারা।

শুরু থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে এই ধারার চর্চা। অথচ একটা সমন্বিত উদ্যোগে হতে পারে এই ধারার বিকাশ। আমরা ফোক ফেস্ট হতে দেখেছি এই দেশে, সুফি ফেস্টও নতুন নয় এই অঙ্গনে। ১০ হাজার গানে সমৃদ্ধ মাইজভাণ্ডারি ফেস্ট কেন নয়।

ভারত ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া নামকরণের মাধ্যমে তাদের ব্র্যান্ডিং চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরও জেলা ব্র্যান্ডিং আছে। চাঁটগার ঐতিহ্যের কথা বললে আমরা মেজবান আর শুটকি থেকে বের হতে পারি না। অথচ রমেশ শীল, গফুর হালী, মন্দাকিনীদের হাতে সমৃদ্ধ এই সংগীত ধারার কথা কেউই বলেন না।

গবেষণা বলুন, ব্র্যান্ডিং বলুন, ফেস্ট বলুন বা আধ্যাত্মিক দিকটাই বলুন-উদ্যোগ জগতের বাইরে আসলে কিছুই নাই।
কেউ একজন ভেবেছিলো বলেই কোক স্টুডিও ভারতের ফোক মিউজিককে অন্য লেভেলে নিয়ে যেতে পেরেছে, নিজেই একটা স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছে কোক স্টুডিও।

ব্র্যান্ডিং শুধু পোশাকে বা কাপড়ে হয় এটা ভুল ধারণা। ব্র্যান্ডিং হতে পারে আপনার কালচার নিয়েও। চাঁটগার মাইজভাণ্ডারি সংগীত চাঁটগার কালচারের অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ। ১০ হাজার তৈরি গান থাকা মানেই আপনি রেডি একটা কন্টেন্ট পেয়েই গিয়েছেন।

সেই জায়গাতে কাজ করার সুযোগ নেয়া উচিত! মেজবানি বা শুটকির বাইরেও চাঁটগার ব্র্যান্ডিং হওয়া উচিত।