শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

বিদেশগামীদের জন্য করোনা সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০, ৯:১১ অপরাহ্ণ


ঢাকা : গত ২৩ জুলাই থেকে বিদেশগামী সকল যাত্রীর জন্য কভিড-১৯ এর নেগেটিভ সনদ নেয়া বাধ্যতামূল করেছিল সরকার। তবে নানান জটিলতায় সকল বিদেশগামী যাত্রীকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সার্টিফিকেট নেয়ার বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গন্তব্য দেশ যদি সার্টিফিকেট চায় তবেই নিতে হবে, অন্যথায় সার্টিফিকেট ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবে বাংলাদেশীরা।

আজ (বৃহস্পতিবার) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য করণীয় বিষয়ে একটি জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বর্তমানে করোনা-নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক আছে। এই ব্যবস্থায় আংশিক সংশোধন করে যে সকল দেশ যাত্রীদের জন্য করোনা-নেগেটিভ সনদ চাইবে, কেবলমাত্র সে সকল দেশের যাত্রীদের জন্য করোনা-নেগেটিভ সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে। তবে বিমানবন্দরে বিদেশগামী সকল যাত্রীর সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করতে হবে, এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের করোনা পরীক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিকট হতে প্রাপ্ত এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) সমূহ থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে পরামর্শ করে উপযুক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশ ফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ত্রাণ সহায়তা, বিদেশ হতে দেশে প্রত্যাবাসনে সহায়তা এবং রিইন্টিগ্রেশনে সহায়তা প্রদানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মানবপাঁচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ আরো বেগবান করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এর সঞ্চালনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেঃ জেনারেল মাহফুজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

সভায় অন্যান্যদের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মফিদুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী বিদেশগামী সকল যাত্রীদের কভিড-১৯ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। যা গত ২৩ জুলাই থেকে কার্যক্রর হয়েছে। বিদেশ গমনে কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ নিতে যাত্রীদের ১৬টি নির্ধারিত পিসিআর ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। বিদেশ যাত্রীদের কভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ প্রাপ্তির জন্য ল্যাবে গিয়ে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে ৩৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে ৪৫০০ টাকা ফি দিতে হচ্ছে।

কভিড-১৯ পরীক্ষায় বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য ১৬টি পিসিআর ল্যাব নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে এসব ল্যাব থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের যাত্রার ৭২ ঘণ্টার আগে কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হবে না এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগরে রিপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। নমুনা দেওয়ার সময় পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকেট ও পাসপোর্ট উপস্থাপন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তবে করোনা নেগেটিভ সনদ সংগ্রহ নিয়ে গত কয়েক দিনে নানান ভোগান্তির মধ্যে পরেছেন বিদেশগামীরা। সময় মত সনদ না পাওয়ায় অনেক প্রবাসী কর্মীর ফ্লাইট মিস হয়ে গেছে। শেষ হয়ে যাচ্ছে ভিসার মেয়াদ। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রীকে নমুনা দিয়ে সঠিক সময়ে করোনা সনদ না পাওয়ায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেনি। তাতে গচ্চা গেছে যাত্রীদের টিকিটের অর্থ।

উল্লেখ্য, কভিড-১৯ পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ১৬টি পিসিআর ল্যাবের তালিকায় রয়েছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ, বরিশালের শেরে-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকেল অ্যান্ড ইনফেক্টিয়াস ডায়াসিস, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরোটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ ঢাকা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ দিনাজপুর ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব।