শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

যোগ্যতা ছাড়াই চসিকের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক!

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ


ইমরান এমি : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক হওয়া যায় পদোন্নতির মাধ্যমে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্নাতক পাশের সনদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে ৫ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

অথচ যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা ছাড়াই চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মী আবুল মনছুরকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে। এ জন্য নেয়া হয়েছে অপকৌশলের আশ্রয়। সরাসরি স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে না বসিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উক্ত পদে বসানো হয়েছে। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সিটি কর্পোরেশনে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের শেষ কর্মদিবসে এক অফিস আদেশে আবুল মনছুরকে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ দিয়ে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে বসানো হয়।

উক্ত অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেন চসিকের সচিব। এতে লেখা হয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ আবুল মনছুরকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কর্পোরেশনের স্বার্থে এ আদেশ জারী করা হয়েছে।

এদিকে প্রায় ৩১ বছর আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মী পদে যোগদান করেছিলেন আবুল মনছুর। পরে লাইসেন্স পরিদর্শ ও সাইনবোর্ড পরিদর্শক পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

হঠাৎ করে আবুল মনছুরকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানেন না চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।

শনিবার জানতে চাইলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, “আমার ডিপার্টমেন্টের একজন পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মীকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ সেটা আমি জানি না। এখন জানলাম। তাকে কে বা কারা দিয়েছে সেটাও বলতে পারি না।”

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই আবুল মনছুরকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনিকভাবে অসন্তোষ বিরাজ করার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এখানে এভাবে নিয়োগ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। এছাড়াও স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে তার অন্তত ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা ডিগ্রি থাকতে হবে। কিন্তু তার সেটা নেই।”

ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, “মনসুর লাইসেন্স ইন্সপেক্টর ছিলেন। মনজুর আলম মেয়র থাকাকালীন সময়ে সাইনবোর্ড পরিদর্শক ছিলেন। সে সময়ে যত আকাম-কুকাম ছিল সব করেছে।”

“আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সময় মন্তব্য করেছিলেন, কে এই মনসুর, সে এত শক্তিশালী কেন, যা মিডিয়াতে এসেছে।”

আবুল মনছুরকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে মতামত নেয়া হয়নি জানিয়ে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, “আমি একজন ডাক্তার। আমাকে যদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমার দ্বারা কি সেখানে কোন কাজ করা সম্ভব?”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মী থেকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক হওয়া আবুল মনসুর বলেন, আমাকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি কোন দুর্নীতি করিনি।

এ বিষয়ে জানতে চসিকের সচিব আবু শাহেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা একুশে পত্রিকাকে বলেন, অভিজ্ঞতা না থাকলে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দেওয়া যায় না। তাই আবুল মনছুরকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক পদে সরাসরি না দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে কোন সমস্যা হবে না।