বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

একুশের ঈদ-আয়োজন : খ ম হারুন-চীনা বেতারের ভ্রমণ কথোপকথন

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুন ২৪, ২০১৭, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

১৪ তম এশিয়া গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলন গত ৫ থেকে ৮ জুন চীনের উপকূলীয় শহর ছিংতাও-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব খ ম হারুন এবারের সম্মেলনের যোগ দেন। এটা ছিলো খ ম হারুনের পঞ্চমবারের চীন সফর।

চীনের উন্নয়ন, পর্যটন, বর্তমান অবস্থা সর্বোপরি খ ম হারুনের চীন ভ্রমণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে তার সাথে কথা বলেছে চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠান বিভাগ। সম্মেলন চলাকালে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ওয়ানতাম পু রুবি।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : আমাদের সাথে আছেন খ ম হারুন। তিনি বাংলাদেশের একজন টেলিভিশন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজ করছেন। খ ম হারুন আমার পুরোনো বন্ধু। আমি ১২ বছর ধরে তাকে চিনি। ক’দিন ধরে তিনি ছিংতাও-এ আছেন। ২০১৭ সালের এশিয়া গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনে এসেছেন তিনি। ৯ বছর পর তাঁর সাথে আমার দেখা হলো।
খ ম হারুন : না, নয় বছর না। তোমার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ২০০৯ সালে। তাহলে ৮ বছর পর আমি আবার চীনে এসেছি। আমি চীনে প্রথম আসি, তখন তুমি বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসে কাজ করতে।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : সে সময় থেকেই আমাদের দুজনের পরিচয়।
খ ম হারুন : তখন সিসিটিভির আমন্ত্রণে, ওখানে তখন কাউন্সিলর ছিলেন লিউ সাং জিং, তুমি ছিলে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগের দায়িত্বে। তোমাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি চীনে আসি। চীনের সমস্ত যাতায়াত এবং বিভিন্ন শহর ঘোরা…। আমি তখন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য চীনের উপর অনেকগুলো ডকুমেন্টারি নির্মাণ করি। আমার সাথে তখন শাকুর মজিদ, কায়েস চৌধুরী দুইজন এসেছিলেন। তারা চিত্রগ্রহণ ও অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করেছিলেন। শাকুর মজিদের তত্ত্বাবধানে চীনের উপর অনেক ধরনের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করি।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : হ্যাঁ, আমার মনে পড়েছে। প্রথম চীন ভ্রমণে আপনি তিনটি প্রদেশে গিয়েছিলেন।
খ ম হারুন : হ্যাঁ। প্রথমেই বেইজিং। শহরটির আশপাশে কিছু কাজ আমরা করেছিলাম। নানা ধরনের বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করেছিলাম। এরপর সাংহাইতে গেলাম। সেখান থেকে আমরা হাংজুতে যাই। সেদিকে চীনের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প, রেশম শিল্প, এসব আমরা দেখি, এসবের উপর কাজ করি। হাংজুতে অসাধারণ একটা লেক আছে।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : ওয়েস্ট লেক। চীনের বিখ্যাত লেক। ওয়েস্ট লেকের অন্য একটা নাম আছে। সেই নামেই ওয়েস্ট লেক খ্যাত।
খ ম হারুন : অসাধারণ একটা জায়গা। ওখানে চায়ের বাগান এবং চা ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেছিলাম। কত রকমের ও কত স্বাদের চা যে হতে পারে-সেগুলো আমাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। চীনের ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প। সিল্কের আবিস্কার তো চীন থেকেই হয়। এমনকি চায়ের আবিস্কারও চীন থেকে। এই দুটি জিনিস- চা এবং সিল্ক এর উপর আমরা কাজ করেছিলাম।

এরপর সাংহাইয়ের স্থাপত্য শিল্প, বিশাল বিস্তৃতি, পুরোনো ইতিহাস-ঐতিহ্য এই বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরি সে সময়ে। আমরা সাংহাই থেকে পরবর্তীতে যাই ইউনান প্রদেশে।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : ইউনান তো বাংলাদেশের কাছে।
খ ম হারুন : হ্যাঁ, বাংলাদেশের অনেক কাছে। আমার ধারণা ছিল না যে, বাংলাদেশ থেকে এতটা কাছে চীনের একটা এত সুন্দর শহর আছে। প্রথমে আমরা কুনমিং পর্যন্ত আসি, সেখানে থাকিনি। ইউনান প্রদেশের একেবারে উত্তরের দিকে, লিজিয়াং। লিজিয়াং জেড মাউন্টেন পরিবেষ্টিত। সেখানে অপরূপ একটা সৌন্দর্য্য দেখতে পাই। পর্বতমালায় কীভাবে যে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে তা দেখে আশ্চর্য্য হই। পর্বতে কত পর্যটকের ভিড়। সেখানে সুন্দর একটা আবহ তৈরি হয়। সেখানে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে আমরা ভ্রমণ করি। চীনের বিভিন্ন উপজাতিদের জীবনধারা দেখার সৌভাগ্য হয়।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : ইউনান প্রদেশে চীনের অনেক সংখ্যালঘু জাতি বসবাস করে।
খ ম হারুন : সেখানে আমরা দেখেছি, মুসলিম সম্প্রদায়েরও বিশাল গ্রাম আছে। সেখান থেকে আমরা আসি দালি। পাথরের বিভিন্ন শিল্প, পাথর দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পসামগ্রীর জন্য দালি খুব প্রসিদ্ধ। তারপর আমরা কুনমিংয়ে যাই। মাউন্টেনের পাশাপাশি ওখানে আরও কিছু ঐতিহ্যবাহী বিষয় আছে। একটি হচ্ছে, মাউন্টেন ফরেস্ট। এরপরে কুনমিংয়ে আমরা অনেক সুন্দর সুন্দর লোকেশনে যাই। তারমধ্যে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে স্টোন ফরেস্ট। স্টোন ফরেস্টের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং কীভাবে এটা তৈরি হয়েছে- তা যে কাউকেই ভাবনায় ফেলবে। এছাড়া পরবর্তীকালে আমার কুনমিং দেখার সৌভাগ্য ২০০৮ সালেও হয়েছে। আরও বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছিলাম। আমি ২০০৬ এর পর ২০০৭ সালে আরও একবার আসি। সেখানেও আমরা কিছু ডকুমেন্টারির কাজ করেছিলাম। তখন বেইজিং, সাংহাই ছাড়াও আমরা আরও কয়েকটা জায়গায় গিয়েছিলাম। সিয়ানে গিয়েছিলাম।


চীন আন্তর্জাতিক বেতার : দ্বিতীয়বার ভ্রমণের সময় সিয়ানে গিয়েছিলেন?
খ ম হারুন : হ্যাঁ, ২০০৭ সালে। আর ২০০৮ সালে আমরা মূলত এসেছিলাম, ইউনান টেলিভিশনের আমন্ত্রণে। সেবার ইউনান প্রদেশের কিছু বিষয় নিয়ে আমরা ভ্রমণ করি। পরবর্তীতে আমি ভ্রমণ করি ২০০৯ সালে। তার মানে আমি পরপর ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে চীনে ভ্রমণ করি। ২০০৯ সালে আমি যখন ভ্রমণ করি তখন আমি বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে আসি। তখন আমাদেরকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সেখানকার রেডিও, টিভি, ফিল্ম ও প্রেস নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা। এই সংস্থার আমন্ত্রণে অনেক দেশ থেকে অনেক প্রতিনিধি চীনে গিয়েছিলেন। তাদের সাথে মতবিনিময় করার সৌভাগ্য হয় আমার। তখন মূল কনফারেন্সটা ছিল বেইজিংয়ে। ওই কনফারেন্সের পরেই আমরা যাই হাইনান প্রদেশের সানিয়া।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : সানিয়া অনেক সুন্দর। একেবারে দক্ষিণে সমুদ্রের তীরবর্তী শহর।
খ ম হারুন : সানিয়া একটা সুন্দর শহর। সমুদ্র পরিবেষ্টিত শহরটিতে পর্যটকদের ভিড় ছিল। সেখানে অনেক বন আছে। সেসব দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। মোটামুটি চীনের অনেক কিছুই আমি দেখেছি এবং মুগ্ধ হয়েছি। চীনের ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থাপত্যশিল্প, সেগুলোর পাশাপাশি চীনের সংস্কৃতি তো অনেক পুরোনো। পাশাপাশি চীনের মানুষগুলো অসাধারণ। সবকিছুর অবদান কিন্তু চীনের মানুষেরই। চীনের মানুষের ব্যাপারে আমি বলতে পারি যে, তারা যেমন তাদের পেশায় দক্ষ, তারা মানুষ হিসেবে অত্যন্ত বিনয়ী। তারা মানুষের জন্য এবং দেশের জন্য চিন্তা করে এবং সেভাবে কাজ করে। সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে চীনের আজকের অবস্থান। সবদিক থেকে বিশ্বের একটা প্রধান শক্তি আজ চীন। প্রধান শক্তি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে চীনের মানুষেরা। চীন অনেক বড় একটা দেশ এবং এত ঐতিহ্য, এত সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান সমস্ত দিক থেকে চীন আজ অনুকরণীয় হিসেবে বিশ্বের সামনে তার অবস্থান তৈরি করেছে।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : আমার দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রীতিময় একটা সমাজ গঠনের লক্ষ্য স্থাপন করেছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে, উন্নয়ন সাধনে তিনি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এটাই হয়তো চীনের উন্নয়নের মূল শক্তি।
খ ম হারুন : অবশ্যই। কারণ নেতৃত্ব তো থাকতেই হবে। নেতৃত্ব ছাড়া তো একটা দেশ কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। কারণ একদিকে মানুষ থাকতে হবে পরিশ্রমী, দক্ষ জনবল। আর তাদেরকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, দক্ষ নেতা থাকতে হবে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমার ধারণায় তিনি এ দিক থেকে সারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণাবলি রাখেন।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : আপনি তো পাঁচবার চীনে ভ্রমণ করেছেন। এই পাঁচবার চীনকে দেখেছেন। এই সময়ে চীনে কী কী পরিবর্তন ঘটেছে?
খ ম হারুন : আমি যদি আরও আগে আসতে পারতাম, যখন চীনের এই ধরনের শিল্প-সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়। ওই সময় তো আমার আসার সৌভাগ্য হয়নি। তবে আগে যারা চীনে এসেছে। ধরুন, এখন থেকে ২৫ বছর বা ৫০ বছর আগে, তাদের কাছে যেটা শুনি সেদিক থেকে চিন্তা করলে চীনের পরিবর্তন অসাধারণ। পৃথিবীর কোনো দেশ এত দ্রুত বিকশিত হতে পেরেছে বলে আমার জানা নেই। তবে আমি তো প্রথম এসেছি ২০০৬ সালে। গত ১১ বছরে আমি চীনের যে উন্নয়ন লক্ষ করেছি সে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কিন্তু রয়ে গেছে। অনেক দেশ আছে তারা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আবার হঠাৎ করেই সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। চীনে কিন্তু এটা হয়নি। যার কারণে চীন তার ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে।

সেদিক থেকে আমি যদি বলি, চীনের অনেক গহীন এলাকায় আমি গিয়েছি। চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেসব জায়গায় যে উন্নয়ন, সে সব জায়গায় যে সড়ক, বিশাল বিশাল সড়ক। বিশাল বিশাল ফ্লাইওভার। আমি অনেককে জিজ্ঞাসা করেছি যে এখানে তো মানুষই নেই। এত গাড়ি চলাচল করে না। কিন্তু এত বিশাল বিশাল সড়ক কেন? তখন বলেছে যে, না এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য। হয়তো ১০০ বছর পর এই সড়ক কাজে লাগবে। এভাবে উন্নয়ন করে চীন।

সুতরাং যারা একটি দেশকে এভাবে এগিয়ে নিতে পারে, যারা আগামী একশ-দেড়শ বছরের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে একটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব দেয় তাদের প্রতি তো অবশ্যই শ্রদ্ধা জানাতে হবে। তারা তো এগিয়ে যাবেই। ২০১৭ সালে আমি চীনে এসেছি, একটা অন্য বিষয়ে। এশিয়া গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনে। এই সম্মেলনে শুধু এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল না, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। ছিংতাও-এর মত জায়গায় কেন এই সম্মেলনটা আয়োজন করা হচ্ছে- বিষয়টা আমাকে অবাক করেছিল।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : কেন?
খ ম হারুন : এই কারণে অবাক করেছিল যে, এই শহরটার নামই আমি জানতাম না। ছিংতাও- নামটি আমি প্রথম জানি, এই এশিয়া গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে। চীন দেশে আমি এতবার এসেছি, কিন্তু এই শহরটার নামই জানতাম না।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : ছিংতাওকে কেমন দেখছেন? কেমন লাগে?
খ ম হারুন : এখন এখানে আসার পরে আমি যেটা দেখলাম, এটা তো প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটা শহর। এটা অনেক আগে থেকে সমৃদ্ধশালী। এবং এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সমুদ্র পরিবেষ্টিত। এখানকার সাগর পাড়ের স্থাপনাগুলো অসাধারণ। এখানে হয়তো চীনের আগে যারা বসতি স্থাপন করেছিল তাদেরও বেশকিছু ঐতিহ্য রয়ে গেছে। সে ঐতিহ্যগুলো ধরে রেখে চীন তার নিজের ভাবনা দিয়ে, নিজের পরিকল্পনা দিয়ে এই শহরকে যেভাবে সাজিয়ে তুলেছে এটা অকল্পনীয়। এটা পৃথিবীর যে কোনো দেশের বড় রাজধানী শহর বা বড় বন্দরনগরীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এটা অনেক এগিয়ে আছে।

সুতরাং এখানে যেখানেই গিয়েছি, সমস্ত জায়গায় পরিকল্পনার ছাপ। মানুষ যেখানে চলাচল করবে, এখানকার প্রত্যেকটা স্থাপনা সুপরিকল্পিত। এটা আমাকে খুব আকর্ষণ করেছে। এখানে যে এশিয়ার গণমাধ্যম শীর্ষ সম্মেলনটা হলো সেখানে চীন সরকার যে সহযোগিতা প্রদান করেছে, আমি তো এসব মিডিয়া সামিটে অনেক দেশে গিয়েছি কিন্তু আমার মনে হয়েছে তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে চীনের ছিংতাও শহরে যেটা হচ্ছে সেটা। অত্যন্ত জাঁকঝমকপূর্ণভাবে হয়েছে এবার।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : ছিংতাও শহর আপনার মনে কী ছাপ ফেলেছে? আজকে তো আমরা ঘুরে দেখেছি ছিংতাও এর খুব বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলো।
খ ম হারুন : সমুদ্রপাড়ের যে রাস্তাটা দিয়ে আমরা ঘুরলাম। সেখানে তো প্রচুর পর্যটক আসে। কিন্তু একটা বিষয় আমার কাছে অবাক লেগেছে, সেখানে প্রচুর নবদম্পতি আসে। তারা শুধু বেড়াতে আসে না, এখানে আসে নবদম্পতিরা ছবি তোলার জন্য। এই যে তারা সুন্দর সুন্দর ছবি তুলছে, তাদের বিয়ের পোশাক পরে। একটা দুটো না, অনেক অনেক যুগল এখানে আসছে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য। এখানকার সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে পরিবেশ, আবহাওয়া। পরিবেশটা খুব সুন্দর।

চীন আন্তর্জাতিক বেতার : আপনি তো চীনে পাঁচবার এসেছেন। অনেক জায়গা ঘুরে দেখেছেন। চীনের কোন কোন শহর আপনি সবচেয়ে পছন্দ করেন?
খ ম হারুন : এটা আমার পক্ষে বলা খুব মুশকিল। এই কারণে যে প্রত্যেকটার আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন সিয়ানে পোড়ামাটির সৈন্যদল-এই জিনিসটা তো আর কোথাও পাওয়া যাবে না। বেইজিংয়ের যে বিশালতা, চরিত্র হিসেবে বেইজিংয়ের যে বৈশিষ্ট্য এবং সেখানকার যে মহাপ্রাচীর এটা তো সারাবিশ্বের একটা বিস্ময়। পাশাপাশি চীনের রাজাদের সমাধির যে জায়গাগুলো, সেখানে হাজার হাজার বছর আগে তারা এসব যেভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে, এদের যে ঐতিহ্য, যে বিশালতা, সে সমস্ত রাজাদের প্রাসাদের সামনে যে জাদুঘর- তাদের ঐতিহ্যগুলো আমরা তুলে ধরতে পারি, বুঝতে পারি। বেইজিংয়ে যে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো এবং বর্তমানে রাজধানী হিসেবে তার যে বিশালতা এটা তো পৃথিবীর আর কোনো দেশে পাওয়া যাবে না।

ঠিক একইভাবে সাংহাই, এটি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমুদ্র বন্দর। পাশাপাশি সাংহাইয়ের যে সামুদ্রিক বা সমুদ্র পাড়ের যে স্থাপনাগুলো এবং সেখানের যে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ভবন, নতুন ও পুরনো ভাস্কর্য ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর সংমিশ্রণ সাংহাইতে অন্যরকম।

কুনমিংয়ের স্টোন ফরেস্ট বা পাথরের বন আর কোথাও তো পাওয়া যাবে না। ইউনানে যদি যাই, লিজিয়াংয়ের সেই জেড মাউন্টেন এবং সেখানকার আলাদা একটা ঐতিহ্য। তারপর ইটানিয়া যে সমুদ্রপাড়ের আলাদা একটা পর্যটন শহর। এই যে ছিংতাও এখানকার যে বিশালতা, একটা অন্য ধরনের পরিবেশ। এটাও সমুদ্র পাড়ে। এরকম প্রতিটি শহরের, প্রতিটি অঞ্চলের যে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য, এই বৈশিষ্ট্য তো আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সুতরাং একটার সাথে যদি আরেকটার তুলনা করতে বলা হয়, তাহলে তুলনা করা মুশকিল। একেকটা একেক দিক থেকে পছন্দ।

[চীন আন্তর্জাতিক বেতার থেকে কথাগুলো একুশে পত্রিকা পাঠকদের জন্য সাজিয়েছেন শরীফুল রুকন।]