বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

বাস-সহকারির ‘যৌনহয়রানি’র ঘটনায় চবি ছাত্রীর মামলা

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯, ৫:২৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের স্টেশন রোড এলাকায় বাস-সহকারি ও চালকের ‘যৌনহয়রানি’ থেকে বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নগরের কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশুনির্যাতন আইনে ওই ছাত্রী নিজে বাদি দিয়ে একটি মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ‘লাফ দিয়ে বাস-সহকারির যৌন হয়রানি থেকে বাঁচলেন চবি ছাত্রী’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন স্বউদ্যোগে একুশে পত্রিকার সহযোগিতায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ওসি ভুক্তভোগী ছাত্রীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আশ্বাস দিলে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি তার পিতা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে কোতোয়ালী থানায় হাজির হন। এবং পুলিশের সহযোগিতায় অজ্ঞাত বাসটির হেলপার ও চালককে আসামি করে মামলা করেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন মামলার দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে একুশে পত্রিকাকে বলেন, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন বাস-হেলপার ও চালককে ধরার পালা। বাসটির নাম্বার বাদির জানা নেই। এরপরও বাসটি শনাক্ত করে আসামিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ লক্ষ্যে কোতোয়ালী থানার চারটি টিম একযোগে কাজ করছে।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, এ ব্যাপারে শক্ত মামলা হয়েছে। বাস এবং চালক-হেলপারদের আইডেনটিফাইয়ের চেষ্টা চলছে। আশা করছি শিগগির একটা ভালো খবর পাবেন।

প্রসঙ্গত, চবি’র অর্থনীতি প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ক্লাস শেষ করে আনুমানিক ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ১ নং গেইট হতে ৩ নং বাসে ওঠেন। বাসটি নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী ছাড়া সকল যাত্রী একে একে নেমে গেলে তিনি একা হয়ে যান। এসময় হঠাৎই বাসটি তার রুট পাল্টে স্টেশন রোডের দিকে চলতে শুরু করে।

তখন ভুক্তভোগী মেয়েটি নিরাপত্তার স্বার্থে বাস ড্রাইভারকে বাস থামাতে বললে হঠাৎই বাসের হেলপার তার দিকে ধেয়ে যায় এবং তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। সেসময় দম বন্ধ হয়ে আসলে মেয়েটি আত্মরক্ষার্থে তার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে হেলপারটিকে আঘাত করে চলন্ত বাস থেকেই লাফ দেয়। পরে এক রিক্সাওয়ালার সহযোগিতায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বাসায় ফিরেন। ঘটনার সময় বাসের ড্রাইভারটিও ‘মেয়েটাকে ধর ধর’ বলে হেলপারকে উৎসাহ জোগায়।

একুশে/এটি