বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

মুখে বালি গুঁজে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শ্যামলীর চালককে

হত্যার স্পট কর্ণফুলীতে

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

বাস-চালক জালাল

চট্টগ্রাম : গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক জালালকে হত্যার ঘটনাস্থল সিএমপির কর্ণফুলী থানা এলাকায়।

মঙ্গলবার রাত ৭টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত জেলা ও নগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পটিয়া ও কর্ণফুলী থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি বিশাল টিম সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নানা সমীকরণ শেষে নিশ্চিত হনম হত্যাকাণ্ড সংঘটনের স্পট কর্ণফুলী থানায়। মঙ্গলবার দিনগত রাতের মধ্যেই কর্ণফুলী থানায় এ ব্যাপারে মামলা হওয়ার কথা রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টার সময় কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা পটিয়া ও কর্ণফুলী থানা যৌথভাবে পরিদর্শন শেষে ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে পেরেছি। ঘটনা শুরু হয় পটিয়া সীমান্ত থেকে। আর ওই চালককে বাস থেকে নামিয়ে হত্যা করা হয় কর্ণফুলী থানা এলাকায়। আজ রাতে অথবা কাল সকালে এ ব্যাপারে থানায় মামলা হবে। এরপর শুরু হবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার কাজ। প্রয়োজনে আমরা দুই থানার পুলিশ যৌথভাবে কাজ করবো।

এদিকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুনে নিহত বাসচালকের চাচা রুহুল আমিন দুলু, ছোটভাই জুয়েলসহ স্বজনেরা মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম ছুটে আসেন। চমেক হাসপাতাল মর্গ থেকে জালালের লাশ গ্রহণ করে রাত ৯ টার দিকে স্বজনদের একগ্রুপ দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। বুধবার সকালে জালালের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি দিনাজপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছার কথা রয়েছে।

নিহত জালালের চাচা রুহুল আমিন দুলু মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে একুশে পত্রিকাকে জানান, তারা সন্ধ্যা থেকে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই রয়েছেন। ঘটনাস্থল কর্ণফুলী থানায় মর্মে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। সে অনুযায়ী কর্ণফুলী থানায় মামলা হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের ধরার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলেও জানান রুহুল আমিন।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস। পথে পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলা সংলগ্ন শিকলবাহা সেতু এলাকায় বাসটিকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে থামান অন্তত ৭ জন ব্যক্তি। এরপর তারা বাসে উঠে তল্লাশি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে বাসের চালক জালালের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ইয়াবা বের করে দিতে বলেন তারা। ইয়াবা নেই বলে জানালে চালককে লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করেন গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাথি মারতে মারতে অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে মুমূর্ষু জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জালালের ছোটভাই আবদুল মালেক দিনাজপুর থেকে ফোন করে একুশে পত্রিকাকে জানান, তার ভাইকে মুখে বালি ঢুকিয়ে, পানিতে চুবিয়ে, শ্বাসরোধ করে উলঙ্গ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসটির সুপারভাইজারকেও গুরুতর আহত করা হয়েছে, যিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ওই বাসের হেলপারকে এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি আবদুল মালেকের।

একুশে/এটি