বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

পুলিশের ‘পজিটিভ’ ভাবনা জনগণের আস্থা বাড়াচ্ছে

প্রকাশিতঃ সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

হাসিনা আকতার নিগার : প্রবাদ আছে, ‘পুলিশ চাইলে সব পারে। ‘ আসলেই যে পারে তার প্রমাণ ইদানীং কালের চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু ঘটনা। নুসরাতের মামলার আসামিদের পিআইবি স্বল্প সময়ে গ্রেফতার করাটা এদেশের মানুষের কাছে অবাক করার মত বিষয়। আর এর মধ্যে দিয়ে পিবিআই’র প্রতি জনগণের যে আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিরাট অর্জন।

পুলিশের কাছে যাওয়া মানে হয়রানির শিকার, অর্থের লেনদেন ছাড়া কিছু হয় না- এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে অসহায় করে দেয়। এরপরেও অপরাধ সংঘটিত হলে কিংবা ন্যায়বিচার আর নিরাপত্তার প্রথম আশ্রয়স্থল পুলিশবাহিনী। সে থানা, পিবিআই, সিআইডি বা ডিবি- যে সেলই হোক না কেন, কোথাও না কোথাও মানুষকে যেতে হয় আইনী প্রতিকারের প্রথম ধাপে। আর এ সবগুলো সংস্থাতে কাজ করে পুলিশবাহিনীর সদস্যরা। তাই এ বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের বিবেকবোধ ও সচেতনতা খুব বেশি দরকার জনবান্ধব পুলিশ সেবা দিতে।

বাস্তব বিবেচনাতে বলতে হয় নুসরাতের মত সব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে না। কিন্তু সমাজে নারী নির্যাতন হত্যা রাহাজানিসহ নানা ধরনের ঘটনা ঘটে প্রতিদিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সকল ধরনের অন্যায় অবিচার বা নারী নির্যাতনের খবর রাখা সম্ভব নয়। আর তেমনটা প্রত্যাশা করাও ঠিক নয়।

সাধারণত প্রতিকারের আশায় অভিযোগ নিয়ে মানুষকে থানায় যেতে হয়। এমনই এক নারী হত্যার অভিযোগের আসামিকে চট্টগ্রামের হালিশহরের থানা ধরতে চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। তখন একুশে পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদটি প্রকাশ করলে চট্টগ্রামের পিবিআই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠে। আর সফল হলো খুনীকে ধরতে। একইভাবে পুলিশ হালিশহরের ফইল্লাতলীর আরেক খুনের আসামিদের গ্রেফতার করে শুধু মোবাইল সিমের কাগজ দিয়ে।

চট্টগ্রামের পুলিশ বাহিনীর এ সফলতাগুলো কেবল গল্প হয়ে থাকুক তা জনগণ চায় না। এ বাহিনী তাদের মেধা সাহসিকতা আর সততা দিয়ে জনগণকে সেবা দিবে এটাই প্রত্যাশা।

অবৈধ অর্থ, আকাশসম বিত্তবৈভব আয়েশী জীবন দিতে পারে। তাতে অসততার সংকোচ থাকে। কিন্তু দায়িত্বপালনে সততা নিষ্ঠা থাকার প্রাপ্তির সুখটা হয় আত্মগর্বের। এমন মানসিকতাটা দেশের সকল মানুষকে বদলে দিবে। হয়তো এমন স্বপ্নের দিনটা এ দেশে হবে। কারণ সততার কাছে অসততা পরাজিত হয়। পুলিশ সমাজের অংশ। এরা আলাদা কেউ নয়। পুলিশ মানে ঘুষখোর – এ কথাটা বন্ধ করতে হলে নিজেদের অর্থলিপ্সু চরিত্রটা বদলাতে হবে।

এ প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম পুলিশবাহিনীর সকল স্তরে যে পজিটিভ চিন্তার সূচনা ঘটেছে তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আর এ চিন্তার কাণ্ডারি যদি শক্ত হাতে দাঁড় টানে তাহলে জনগণের আস্থা বাড়বে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

হাসিনা আকতার নিগার : কলামলেখক