মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের অফিস!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুলাই ৫, ২০১৯, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রবেশদ্বার

হিমাদ্রী রাহা : প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোনো পরিত্যক্ত জনপদের প্রবেশদ্বার। ঢুকতেই টয়লেট-বর্জ্যে সয়লাব চারপাশ। এসব মাড়িয়ে দু-কদম উপরে উঠলে চোখে পড়বে জংধরা একটি সাইনবোর্ড। যেটিতে লেখা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়। প্রায় ৪ একর জায়গার পুরো এলাকাটিই জঙ্গলাকীর্ণ। দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাত হয়েছে বেশ কিছু জায়গা। সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। এই অধিদপ্তরের পরিচালকের বসার কক্ষটিও জরাজীর্ণ। বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে সানসেটের অংশ। এমনই বেহাল দশা চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫ নং লয়েল রোডে অবস্থিত বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ের।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসের এমন দূরাবস্থার কারণ জানতে কথা হয় এই অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির-এর সাথে। তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেলো, বাহ্যিক দূরাবস্থার চেয়ে অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট।

পরিচালক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর। একজন মাত্র দারোয়ান দিয়ে চলে পুরো অফিসের নিরাপত্তা তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ। নেই স্থায়ী ভবন। ১৯৯৩ সাল থেকেই টিনশেডের অস্থায়ী কার্যালয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে এই অফিস কার্যক্রম।

জীর্ণশীর্ণ টিনশেড অফিস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের

এছাড়া একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার পরিচালক হয়েও নেই নিজস্ব গাড়ি। বরাদ্দকৃত গাড়িটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে ব্যবহার করছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে কার্যালয়ের গ্যারেজে পড়ে থাকা মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ২০০২ মডেলের পুরোনো অকেজো একটি গাড়িকে সম্প্রতি মেরামত করে চলাচল-উপযোগী করা হয়।

নতুন গাড়ির চাহিদাপত্র না দিয়ে পুরোনো গাড়ি মেরামত প্রসঙ্গে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, দেখুন আগে তো দেশসেবা। তারপরে নিজের চিন্তা। নতুন গাড়ি কখন পাবো না পাবো সে আশায় বসে না থেকে আমার তো কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাই ১৭ বছরের পুরোনো এই গাড়িটিকে মেরামত করে আমি কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।

পরিচালক বলেন, পার্শ্ববর্তী ফেয়ারী হিলে ব্রিটিশদের নির্মিত ভবনে একসময় এই অফিসের কার্যক্রম চলতো। পরবর্তীতে তা ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়লে ১৯৯৩ সাল থেকে এই অস্থায়ী কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২৬ বছরের পুরোনো এই কার্যালয়টির অবস্থাও বর্তমানে অনেকটা নাজুক। দেখুন আমি যেখানে বসি তার মাথার উপরেই সানসেট খসে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া ৪ একর জায়গার বেশকিছু অংশ বেহাতও হয়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীর দখল করে কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে বেশকিছু দোকান ও মার্কেট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘিরে অবধৈ দখল

এসব বিষয়ে কথা হয় স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ-এর সাথে। তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, অফিসের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সাততলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছি যার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। আশা করি মাস তিনেকের মধ্যেই সেটি হস্তান্তর করতে পারবো। চারপাশে নতুন করে সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ করা হবে। যার কাজ ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া জঙ্গলাকীর্ণ জায়গাটির সৌন্দর্যবর্ধণের জন্য নতুন কিছু কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই এসবকিছু দৃশ্যমাণ হবে।

একুশে/এইচআর/এটি

ছবি : আকমাল হোসেন