সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

‘চোখ থাকতে অন্ধ, কান থাকতে বধিররাই উন্নয়নকে অস্বীকার করবে’

মেয়র নাছিরের ৪ বছর

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুলাই ২৬, ২০১৯, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

হিমাদ্রী রাহা : যারা চোখ থাকতে অন্ধ, যারা কান থাকতে বাধির, যারা উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিতভাবে বিরোধিতা করবেন তারাই শুধু এই চার বছরের দৃশ্যমান উন্নয়ন চোখে দেখবেন না বলে মন্তব্য করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহ্বাজ আ জ ম নাছির উদ্দীন।

৪ বছর পূর্তিতে একুশে পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

মেয়র বলেন, আমার মূল্যায়ণ করতে হলে আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে কেমন ছিলো নগরীর অবস্থা আর আমি দায়িত্ব নেয়ার চার বছর পর কেমন হয়েছে সেটা বিবেচনা করতে হবে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীন পরিবেশ ও নগরের সার্বিক বিষয়ে যথেষ্ট পরিবর্তন এনেছি। আমি না নগরবাসীই এসব বলবে।

মেয়র আরো বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ ছিলো তা হলো রাস্তাঘাট ঠিক রাখা। আপনারা জানেন বছরের পর বছর এখানে জলাবদ্ধতা হয়। রাস্তাঘাট নষ্ট হয়। তাই এসব রাস্তাঘাট নিয়মিত মেরামত করতে হয়। এছাড়া সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান পিডিবি, কর্নফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশান কোম্পানি, ওয়াসা এরা নিয়মিত বিভিন্ন কাজে রাস্তা কাটছে। কেউ বলে কাটছে কেউ না বলে কাটছে। এসব কাটা জায়গা নিয়মিত সংস্কার করে রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী রাখাও কিন্তু অনেক বড় কাজ। আমি মহান রাব্বুলআলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে নগরীর রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী রাখতে পেরেছি। এছাড়াও নগরের যত আইল্যান্ড আছে, রিং ডিভাইডার আছে সব জায়গায় সৌন্দর্য্যবর্ধনের কাজ করেছি ও করে যাচ্ছি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মেয়র নাছির বলেন, আগে চট্টগ্রাম শহরে সাড়ে ১৩শ’ ময়লার স্পট ছিলো। সেখান থেকে আমরা এখন সাড়ে ৭শ’ কমিয়ে ফেলেছি। আগে এয়ারপোর্ট থেকে পেনিনসুলা পর্যন্ত আসতে নগরের দু’ধারে বিশাল বিশাল ময়লার স্তুপ দেখা যেতো। এখন কি দেখা যায়? আপনি দিদার মার্কেট বলেন, বিআরটিসি বলেন, মহল মার্কেট বা স্টেশন রোড বলেন, এসব জায়গায় আগে বিশাল বিশাল ময়লার স্তুপ জমে থাকতো। এখন আর নেই। ময়লার স্তুপ সরিয়ে কিছু কিছু জায়গায় আমরা ফুলের বাগান করেছি। এছাড়াও আপনি ওয়ার্ডগুলোর যত ভেতরে প্রবেশ করবেন উন্নয়ন তত দৃশ্যমান হবে। এই চার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কাজ করেছি আমরা। আরো বেশকিছু প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আছে।

আলোকায়নের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আগে নগরের অনেক জায়াগা সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকতো। এখন নগরের এমন কোনো সড়ক বা অলি গলি নেই যেখানে সড়ক বাতি নেই। আমরা পুরো শহরকে আলোকায়নের আওতায় এনেছি। মোট কথা হল এই চার বছরে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে এই নগরীর।

বিদায়ী বছরের প্রত্যাশা নিয়ে মেয়র নাছির বলেন, আমার হাতে আর এক বছর সময় আছে। এই সময়টুকুতে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নগরবাসীর সেবা করে যেতে চাই। শুধু মেয়র হিসেবে নয়, একজন সেবক হিসেবে আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

একুশে/এইচআর/এসসি