সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

চবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশিতঃ সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯, ২:৩৫ অপরাহ্ণ


চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে নগরগামী সাড়ে ৫ টার ট্রেনে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দু’গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের ৩ ছাত্রলীগ
কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন।

বিবদমান গ্রুপ দুটি হলো- সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ‘সিক্সটি নাইন’ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ‘বিজয়’ গ্রুপ।

এর মধ্যে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ও বিজয় গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

জানা যায়, বেলা সাড়ে ৫টার শাটলে সিট ধরা নিয়ে বিজয় গ্রুপের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বকতিয়ার হোসেনকে সিক্সটি নাইন গ্রুপের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কিছু নেতাকর্মী মারধর করে।

পরে এই ঘটনা বিজয় গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে সিক্সটি নাইন গ্রুপের দুই কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজিবুল হক ও দেলাওয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে মারধর করে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। পরে দুই পক্ষে বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে রামদা, রড় ও লাঠি দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘আমাদের এক জুনিয়র কর্মীকে মারধর করার জেরে শোকের মাসে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি। বিকালে এমন ঘটনা ঘটলেও রাত পর্যন্ত সমাধানের জন্য সাধারণ সম্পাদক টিপু বা তার কোন প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাই জুনিয়ররা আমাদের না জানিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ঘটেছে।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে নওফেল ভাইয়ের গ্রুপের দায়িত্বে আছেন আমার সভাপতি। তাই তার সঙ্গে কথা বলেছি। সমাধান হয়ে যাবে বিষয়টি। এর বাইরে কেউ ছাত্রলীগের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে নাই। সভাপতি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করিনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রিফাত রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। যারা মারামারি করেছে এবং যারা উসকানি দিয়েছে উভয়পক্ষকে বিচারের আওতায় আনা হবে।

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিই। উভয়পক্ষ আমাদের উপস্থিতিতে নিজ নিজ হলে চলে যায়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।