বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

অশালীন পোশাকে সংবাদ পাঠ, নিন্দার ঝড়

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ১০, ২০১৯, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : অশালীন পোশাকে সংবাদ পাঠ করে নিন্দার ঝড় তুলেছেন বিজয় টিভির সাজিয়া আফরোজ নামের এক সংবাদ পাঠিকা।

৯ আগস্ট শুক্রবার রাত ১১টার বিজয় টিভির সংবাদে অনেকটা খোলামেলা পোশাকে সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা প্রকাশ করছেন অনেকেই। সংবাদ পাঠের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন অভব্য কার্যকলাপ দৃষ্টিকটু ও আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে অভিমত প্রকাশ করছেন অনেকেই।

এনটিভির সংবাদ পাঠক রাইসুল হক ফেসবুকে লেখেন, ‘সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে এই ধরনের পোশাক কতটা আমাদের ডিসেন্ট প্রতিনিধিত্ব করে? আর আমাদের সিনিয়রদের দেখানো পথটাকে অসম্মানিত করে। হয়তো আমি ব্যকডেটেড। পোশাকের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় বিজয় টিভি কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হওয়া দরকার।’

এটিএন নিউজের সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপক সাবিনা সাবী লিখেছেন, ‘আমাদের গণমাধ্যমে একটা নিউজ রুমের সবচেয়ে অবহেলিত জাতি বলে বিবেচনা করা হয় প্রেজেন্টেশন টিমকে। নিউজরুমের বাকীরা মনে করে এরা গোবর সর্বস্ব চেহারা সর্বস্ব জাতি। এরা কাজ করতে আসেনি। সেখান থেকে সবাই যখন মাথা উচু করে নিজের সম্মান নিজের মেধাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লড়াই করছেন তখন এই গুটিকতেক প্রেজেন্টারদের গ্লামার সর্বস্ব হয়ে ঝুলে থাকার চেষ্টাটা নেহায়েত লজ্জার। দয়া করে আপনারা নিজেদের এহেন নাদানির জন্য জনতার সামনে অন্যদের ছোট করবেন না। কারণ এই অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। পারসোনাল লাইফ আর পাবলিক লাইফ এক করার প্রয়োজন নাই। নিউজরুমে যখন পা দিয়েছেন তখনই মাথায় ঢুকিয়ে নিবেন যে নিউজরুমের যে জায়গায় কাজ করেন না কেন দিনশেষে আপনি একজন সাংবাদিক। প্লিজ সবাই কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি না করে কথাগুলো যদি মাথায় ঢুকিয়ে নেই সকলের মংগল হবে এটা আমার বিশ্বাস।’

সংবাদ পাঠকদের সংগঠন ন্যাশনাল ব্রডকাস্টার অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ)এর যুগ্ম সম্পাদক ও মাই টিভির সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপক ডা. সাকলায়েন রাসেল একুশে পত্রিকাকে জানান, এমন পোশাক পরে সংবাদ পাঠ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

একজন সংবাদ পাঠক শুধু একটি টিভি চ্যানেল নয় পুরো গণমাধ্যমেরই প্রতিনিধিত্ব করে। বিজয় টিভির সংবাদ পাঠিকা যে পোশাক পড়ে সংবাদ পাঠ করেছেন তা কোনোভাবেই আমাদের গণমাধ্যম কিংবা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না।

উনি ব্যক্তিগতভাবে যে পোশাকই পরিধান করেন না কেন সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, কিন্তু উনি যেহেতু সংবাদ পাঠের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেক্ষেত্রে শালীনতার বিষয়টি তাঁর মাথায় থাকা উচিত ছিলো। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমরা বিজয় টিভি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশাকরি তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। বলেন সাকলায়েন।

তবে এ ব্যাপারে বিজয় টিভির নির্বাহী পরিচালক নায়লা বারী জানান, বিনোদনমূলক চ্যানেল হিসেবে বিজয় টিভি প্রতিষ্ঠিত। ফলে এই চ্যানেলের সব কিছুই বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং বিনোদনকে রিপ্রেজেন্ট করে। নিউজ প্রেজেন্টার শাড়ি এবং ব্লাউজ পড়েছিলো, কিন্তু একটু ফ্যাশন্যবল। যা সাধারণ বৃত্তের বাইরে। মিডিয়ার সবাই বৃত্তের বাইরে কাজ করে নতুন কিছু নিয়ে আসতে চায়। ফলে এটি স্টাইলের একটি অংশমাত্র। বাঙালি একসময় ব্লাউজ পড়তো না। আমরা পদ্মা নদীর মাঝিতে কপিলাকে তাই দেখেছি। কিন্তু সভ্য সমাজে ব্লাউজ একটি অপরিহার্য অংশ। ফলে এই ডিজাইনটিকে মোটেও খারাপ বলে আমি মনে করি না। কারণ বর্তমানে সব ফ্যাশন হাউজগুলো স্লিভ্লেস ডিজাইনের ব্লাউজ প্রমোট করে। তাহলে নিউজে নয় কেন?

একুশে/এইচআর/এটি