বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ, আ. লীগ নেতাদের সাথে প্রশাসনের ‘দূরত্ব’ আর থাকবে না

প্রকাশিতঃ বুধবার, আগস্ট ১৪, ২০১৯, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে প্রশাসনের ‘দূরত্ব’ দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে তথ্যমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপি, মেয়র, শীর্ষ রাজনীতিক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা প্রমুখ।

এর মধ্য দিয়ে প্রশাসনের সাথে নেতাদের ‘দূরত্ব’ দূর হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ ছিল, নেতাদের সাথে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের গ্যাপ রয়েছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে অনেক সময় তারা যথাযথ গুরুত্ব পান না। এসব সমস্যা দূর করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতারা অনেক বছর আগে থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভায় বসতে চেয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদগুলোতে চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাওয়া মন্ত্রীসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ ধরনের সভার উদ্যোগ নিয়েও পরে আর হয়নি। এরপর নতুন মন্ত্রীসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কাছে চট্টগ্রামের নেতারা আবেদন জানান, যাতে চট্টগ্রামে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রুদ্ধধার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের নানা দাবি ও অভিযোগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এদিকে আলোচনার একপর্যায়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, অনেক সময় বড় বড় অনুষ্ঠান বা দিবসের কর্মসূচিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা দাওয়াত পান না।

এ সময় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান প্রস্তাব রাখেন, এখন থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করার সময় মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগকে কমপক্ষে ১০টা করে আমন্ত্রণের কার্ড পাঠাবে। এরপর দলীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিবেচনা করবেন।

কারণ হিসেবে বিভাগীয় কমিশনার জানান, দলে কার গুরুত্ব কতটুকু সেটা প্রশাসনের লোকজন ভালো করে জানেন না। তারা চেনেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে।

বিভাগীয় কমিশনারের এই প্রস্তাব সবাই মেনে নেন। সভায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলে উঠেন, সবচেয়ে ভালো হবে এটা, কার্ড পাঠিয়ে দিন।

সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, নগরে ট্রাফিক জ্যাম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। রাতের বেলা চুরির ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে অবহিত করেন।

চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রস্তাব রাখেন প্রতি দুই মাস অন্তর যেন এ ধরনের সমন্বয় বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবে সবাই সম্মতি জানান।

সভার শেষের দিকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের সাথে দলীয় নেতাদের গ্যাপ, দূরত্ব দূর করার জন্য আমি একটা উদ্যোগ নিয়েছি। আমি আশা করছি যে, দুই মাস পরপর আমরা আবার বসবো। সবার সাথে একটু বসার সুযোগ হলে গ্যাপ থাকবে না।

সভার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান একুশে পত্রিকাকে বলেন, তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আমরা বসেছি, নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। এবার হয়েছে, এটা ভালো দিক।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় রাজনীতিবিদদের স্বাগত জানিয়ে আসছি। সরকারী কর্মচারী ও রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য একটাই। সেটা হচ্ছে- জনসেবা, মানুষের কাজ করা। এ ধরনের কাজে কোনো দ্বিমত থাকার অবকাশ নেই।

সভায় কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে জনসেবা। মূলত এটাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের আয়োজনে এ ধরনের সভার আয়োজন নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য যেভাবে প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছেন, এটা টেকসই করার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের বিকল্প কিছু নেই। এজন্য চট্টগ্রামের প্রশাসনের সাথে রাজনীতিবিদদের সমন্বয় দরকার। যাতে উন্নয়ন, বিভিন্ন কর্মসূচীর ক্ষেত্রে কোনো গ্যাপ না থাকে। উন্নয়নের প্রসব বেদনায় জনদুর্ভোগ যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে।

মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রামকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার সুফলটা যেভাবে পাওয়া উচিত, সেটা এখন পর্যন্ত আমরা পাচ্ছি না। উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ভোগান্তির কারণে জনগণের মধ্যে অসহিষ্ণুভাব তৈরী হয়েছে। এজন্য সমন্বয় নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। যে উদ্যোগের শুভ সূচনা হয়েছে সেটার যাতে ধারাবাহিকতা থাকে।