শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

পতেঙ্গা বিচে পতিতার ডাক!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯, ৬:২১ অপরাহ্ণ

হিমাদ্রী রাহা : সন্ধ্যা নামলেই পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয় আসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায়। একেতো সিডিএ আর বিদ্যুৎবিভাগের টানাটানিতে বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার সৈকত তার উপর সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সৈকতজুড়ে বেড়েছে পতিতাদের আনাগোনা। সবমিলিয়ে নতুন রূপে সজ্জিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত তার রূপ হারিয়ে পরিণত হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ১ টা পর্যন্ত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সৈকত জুড়ে অন্ধকার। এ সুযোগে সৈকতের নারকেল বাগান পয়েন্টে বসে আছে ৭-৮ জন পতিতা। অন্ধকার সৈকতে মোবাইলের আলোর ইশারায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত তারা। এক সময় পেয়ে যায় কয়েকজন খদ্দের। তাদের সাথে কথোপকনের পর এক এক করে নেমে যায় নারকেল বাগানে। সেখানেই চলে পতিতাবৃত্তি। অথচ সেই স্থান থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই রয়েছে পুলিশ বক্স।

৮টা থেকে ১টা এই পাঁচঘণ্টার পুরো সময়জুড়ে একগাড়ি টহল পুলিশকে দুইবার টহল দিতে দেখা গেলো নারকেল বাগানের পাশ দিয়ে। অথচ তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

খদ্দের সেজে কথা হয় এক পতিতার সাথে। নাম জানতে চাইলে নিজেকে পারভীন বলে পরিচয় দেয়। সে জানায় তারা মোট আট জন আছে এখানে। ২০০ টাকার বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়ে দেয় তারা। প্রতিদিন গড়ে শ’ খানেক খদ্দের আসে তাদের কাছে। খদ্দেরের নিরাপত্তার কথা জানতে চাইলে সে বলে, কীসের রিক্স? আমাদের সব ম্যানেজ করা আছে। প্রশাসন, নারকেল বাগানের ম্যানেজার, স্থানীয় কাউন্সিলর সব আমাদের ম্যানেজ করা। এতো ভয় কীসের। ভয় পেলে কেন আসছেন? চলে যান। আমাদের কাজে ডিস্টার্ব করবেন না।

কথা হয় সৈকত এলাকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক নিরাপত্তারক্ষীর সাথে। তার কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথমে এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে তথ্যপ্রমাণসহ দেখালে তিনি বলেন, দেখেন এসব ব্যাপার দেখার জন্য পুলিশ আছে, ট্যুরিস্ট পুলিশ আছে। আমরা ছোট মানুষ। তাছাড়া যারা এসব কাজে জড়িত তাদের হাত অনেক লম্বা। আমরা কিইবা করতে পারি।

আলো-আধারির সুযোগে পতেঙ্গা বিচ সংলগ্ন টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন এই জায়গাটিতেই পতিতারা ডেকে নেয় খদ্দেরদের

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারকেল বাগান এলাকাটি টি কে গ্রুপের মালিকানাধীন। আর পুরো জায়গাটি ব্যবস্থাপনার জন্য আমিন ও মঈনুদ্দিন নামে দুজন ব্যবস্থাপক রয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় ভাসমান পতিতাদের নিয়ে চলে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ। পরে আমিন ও মঈনুদ্দিনের সাথে যোগযোগের জন্য নারকেল বাগানে গেলে প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পড়ে সটকে পড়ে তারা।

এবিষয়ে জানতে কথা হয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি একুশে পত্রিকাকে জানান, আমি দেশের বাইরে ছিলাম বেশ কিছুদিন। আসলাম কয়েকদিন আগে। তাই কোথায় কী ঘটছে তার কিছুই তেমন জানি না। তাছাড়া অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি দেখার জন্য পুলিশ আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ আছে। আপনি ওদের সাথে কথা বলেন। তারপরও যেহেতু বিষয়টি জানলাম আমি চেষ্টা করবো সবার সাথে বসে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে।

এবিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে জানান, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। আপনারা যেহেতু বলেছেন বিষয়টি আমরা দেখবো।

পরে কথা হয় ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমীর সাথে। তিনি জানান, আসলে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর ছিলো না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। আশা করি আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে শীঘ্রই এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে পদক্ষেপ নেবো।

একুশে/এইচআর/এটি