শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

ক্রিকেটার না হলে কী হতেন আকরাম?

প্রকাশিতঃ বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯, ৪:২২ অপরাহ্ণ


হিমাদ্রী রাহা : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান। বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। এ স্বপ্ন পূরণ হয়েছিলো আকরাম খানের হাত ধরে, ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। সেই আকরাম খান ক্রিকেটার না হলে কী হতেন?

একুশে পত্রিকার এই প্রশ্নে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আকরাম খান বলেন, ক্রিকেটার না হলে ব্যবসায়ী হতাম।

ক্রিকেটার হিসেবে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের কথা বলতে গিয়ে সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলেন, আমাদের পরিবারটাই ছিলো স্পোর্টস ফ্যামিলি। আমার বড়ভাই, আমার আব্বা-চাচা সবারই খেলার প্রতি আগ্রহ ছিলো। আর আমাদের বাসার পাশেই যেহেতু স্টেডিয়াম সেহেতু মাঠেই পড়ে থাকতাম সবসময়। ফুটবলের সময় ফুটবল ক্রিকেটের সময় ক্রিকেট খেলতাম। একসময় নিজেকে ক্রিকেটেই স্থায়ী করি। পরে চিটাগং স্টার সামার খেলি। তারপর ফার্স্ট ডিভিশন খেললাম।

‘এরপর ধাপে ধাপে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাই। আামার প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৯৮৮ সালে ঘরের মাঠ এম এ আজিজ স্টেডিয়ামেই। খুব এক্সাইটেড ছিলাম সে ম্যাচ নিয়ে। কারণ তখন তো আর এখনকার মিডিয়ার মতো এতো প্রচার প্রসার ছিলো না। তাছাড়া তখন খেলা মানেই আবাহনী মোহামেডানের ফুটবল ম্যাচ। ক্রিকেট খুব একটা দেখতো না। যাই হোক ধাপে ধাপে ক্রিকেটও একসময় জনপ্রিয় হতে লাগলো।’ বলেন আকরাম খান।

একসময় জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে চট্টগ্রামের খেলোয়াড় উঠে আসলেও বর্তমানে খুব একটা ভালো খেলোয়াড় আমরা পাচ্ছি না। তার অন্যতম কারণ হলো মাঠসংকট। চট্টগ্রামে যে কয়টা খেলার মাঠ রয়েছে তার বেশিরভাগই দখল হয়ে গেছে নয়তো খেলার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

দেশে অনেক মেধাবী ক্রিকেটার আছে জানিয়ে আকরাম খান বলেন, একথা সত্যি যে শুধু চট্টগ্রাম নয় সারাদেশেই অনেক মেধাবী ক্রিকেটার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু মাঠের অভাবে তারা খুব একটা প্র্যাকটিসের সুযোগ পাচ্ছে না। লীগ খেলার জন্য হয়তো এমএ আজিজ স্টেডিয়াম বা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম আছে। কিন্তু লীগ পর্যন্ত উঠে আসতে অর্থাৎ শিশু বয়স থেকে খেলাধূলার জন্য মাঠ কই? বাইরের দেশগুলোতে দেখুন প্রতিটা স্কুলেই মাঠ আছে। কিন্তু আমাদের দেশে কয়টা স্কুলে মাঠ আছে? কয়টা স্কুলের ছেলেরা খেলাধূলার সুযোগ পাচ্ছে? আমরা খুবই ভাগ্যবান যে আমরা খেলাধূলার জন্য অনেক মাঠ পেয়েছি। আমরা প্যারেড ফিল্ডে প্র্যাকটিস করতাম, রেলওয়ে ফিল্ডে প্র্যাকটিস করতাম, আউটার স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করতাম। কিন্তু সেসব জায়গায় এখন আর খেলার পরিবেশ নেই। আমি নিজেও অনেক চেষ্টা করেছি কয়েকটা মাঠ খেলার উপযোগী করতে। কিন্তু এটা আসলে একার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সমাজ সচেতন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্মৃতিচারণ করে আকরাম খান বলেন, সেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জয়টা আমাদের ক্রিকেটকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। সেদিনের সেই জয়ের উপর ভিত্তি করেই আমরা ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ খেলি। বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে পরাজিত করি। পরবর্তীতে টেস্ট স্ট্যাটাস পাই। বলা যায় ‘৯৭ সালের সেই জয় আমাদের অনেক প্রাপ্তি এনে দেয়।

‘৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করে আকরাম খান বলেন, সেই জয়টা আমাদের কাছে স্বপ্নের এক জয় ছিলো। পাকিস্তানের সেই দলটি ছিলো সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস থেকে শুরু করে সাঈদ আনোয়ার কিংবা শোয়েব আকতার। তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। সেই ম্যাচে আমি ৪২ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলাম। যেটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

নতুনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আকরাম খান বলেন, ক্রিকেটার হতে চাইলে যে বিষয়টা বেশি দরকার তা হলো ইচ্ছাশক্তি। আগে ইচ্ছা থাকতে হবে। তারপর মনস্থির করে প্র্যাকটিস চালিয়ে যেতে হবে। সফলতা একদিন আসবেই ইনশাল্লাহ্।