শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর দুই ‘স্মৃতির মিনার’

প্রকাশিতঃ সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯, ৪:০৩ অপরাহ্ণ

লালদিঘীতে ছয় দফার সমর্থনে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু

মহসীন কাজী : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম। বীর প্রসবিনী এবং বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি জুড়ে আছে তাঁর স্মৃতি। এখনও জাতির পিতার তেজোদীপ্ত ভাষণের স্মৃতি ধারণ করে আছে লালদিঘী ময়দান, জেএম সেন হলের মাঠ, পলোগ্রাউন্ড ময়দান কিংবা এমএ আজিজ (সাবেক নিয়াজ স্টেডিয়াম) স্টেডিয়াম।

সদরঘাটের হোটেল শাহজাহান, স্টেশন রোডের হোটেল মিসকা, রেস্ট হাউজ (এখন মোটেল সৈকত), পুরাতন সার্কিট হাউস, ইস্পাহানী ভবন, বাংলাবাজারে আমির হোসেন দোভাষের বাড়ি, ফিরিঙ্গি বাজারে জানে আলম দোভাষের বাড়ি, হালিশহরে এমএ আজিজের বাড়ি, দামপাড়ার জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাড়িসহ এই শহরে আছে জাতির পিতার অনেক স্মৃতি।

দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে লিখবো বলে ভাবছিলাম। তথ্যানুসন্ধানে দ্বারস্থ হই ষাটের দশকের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের। খোঁজ নিতে শুরু করি সম্ভাব্য উৎসগুলোর। একদিন পৌঁছে যাই বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাসভবনে। উদ্দেশ্য-তাঁর পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। দামপাড়ার বাসার নিচে গ্যারেজের কাছে কয়েকজনকে নিয়ে আলাপে ব্যস্ত তিনি। কুশল বিনিময়ের পর বললাম আসল কথা। জানতে চাইলাম, তাদের সংরক্ষণে তাঁর বাবার সাথে জাতির পিতার চিঠিপত্র, ছবি কিংবা স্মৃতিবাহী কোনো কিছু আছে কিনা। তাঁর স্মৃতিতে কতটুকু আছে বঙ্গবন্ধু। প্রশ্ন শেষ না হতেই এক কথায় বললেন, ‘কিছুই নেই। যুদ্ধের সময় সব নষ্ট হয়ে গেছে।’ পাশে ছিলেন মাহতাব চৌধুরীর এক প্রবাসী বন্ধু। তিনি জানতে চাইলেন কী কারণে আমি এসব খুঁজছি। একটু খুলে বলার পর তিনি ভাবলেন একটু। ডুব দিলেন স্মৃতির গভীরে। বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সাথে যাদের ভাবসখ্য তাঁদের বেশির ভাগই বেঁচে নেই। তবে এখনও দু’জন বেঁচে আছেন। যারা জাতির পিতার কাছে যেতে পারতেন। তাঁদের আছে অনেক স্মৃতি। তাঁরা হলেন- নূর মোহাম্মদ চৌধুরী ও শাহ বদিউল আলম।

তিনি জানালেন, ‘অনেক বড় বড় নেতা বঙ্গবন্ধুর কাছে ঘেঁষতে পারতেন না। চট্টগ্রাম, ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর কাছে উনারা খুব সহজে যেতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুও নূর মোহাম্মদ, শাহ বদিকে পছন্দ করতেন।’ একই কথা জানালেন মাহতাব চৌধুরীর আরেক বন্ধু চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তিনিও এক সময় ছাত্রলীগ করতেন। তারপর তাদের সাথে যোগাযোগের উপায়ও বাতলে দেন। সেল নম্বরের পাশাপাশি ঠিকানা দেন।

চট্টগ্রাম শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি মির্জা আবু মনসুরের কাছে জানতে চাইলাম উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা। তাঁরাও বললেন, একই কথা। জানালেন, ‘নূর মোহাম্মদ এবং শাহ বদি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ষাটের দশক থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত এই দু’জনের সাথে জাতির পিতার যোগাযোগ ছিল। বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম আসলে বিমান বন্দর কিংবা রেল স্টেশন থেকে শুরু করে সবসময় ছায়ার মতো থাকতেন। বঙ্গবন্ধু তাঁদের স্নেহ করতেন।’

চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর দুই ‘স্মৃতির মিনার’

নূর মোহাম্মদ চৌধুরী এবং শাহ বদিউল আলম সম্পর্কে জানার পর আমার কৌতূহল বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিভিন্ন মাধ্যমে এমন আর কে আছেন চলতে থাকে সে অনুসন্ধানও। সন্ধান পাই অনেকেরই, কিন্তু এই দুজনের মতো ঘনিষ্ঠ কেউ এখন আর নেই। চট্টগ্রামে জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন- আমির হোসেন দোভাষ, জানে আলম দোভাষ, এমএ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, শেখ মোজাফফর আহমদ, এমএ ওহাব, এম এ মান্নান, সিরাজুল হক মিয়া, ইসহাক মিয়া, সুলতান কন্ট্রাক্টর, নুরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। তাঁদের কেউ বেঁচে নেই।

এরই মধ্যে বৃষ্টিস্নাত এক দুপুরে ফোন দিই আমার কাছে ‘হিরো’ বনে যাওয়া নূর মোহাম্মদ চৌধুরীকে। পরিচয় দিয়ে জানালাম আমার ইচ্ছার কথা। বললাম, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিকথা শুনতে চাই- এজন্য একদিন সময় চাইলাম। আমি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাঁর স্মৃতিচারণ শুনব এ কথা শুনে তিনি আমাকে ধন্যবাদ দেন। আমার সাথে বসার সময় দেন দুইদিন পর।

বাসা খুঁজতে বেগ পেতে হয়নি। এলাকায় পরিচিত মানুষ। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। কথাবার্তায়ও বনেদিভাব। বাসায় ঢুকতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন চা-নাশতা নিয়ে। খাওয়া আর আছরের নামাজের পর খুলে দেন স্মৃতির ঝাঁপি। বললেন, আওয়ামী লীগের কথা। শোনালেন বঙ্গবন্ধুর কথা। নিজেই বললেন, ‘আমি এবং আমার বন্ধু শাহ বদি দু’জনেই ছিলাম বঙ্গবন্ধুর কাছের লোক। চলুন, শাহ বদির কাছে যাই। ও আর আমি একসাথে আড্ডাচ্ছলে আপনাকে সব শোনাব।’

বয়সের ঘর আশি ছুঁই ছুঁই নূর মোহাম্মদ চৌধুরী আমাকে নিয়ে ছুটলেন শাহ বদির বাসার উদ্দেশে। বাসায় গিয়ে পেয়ে যাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির দীর্ঘকালের সাক্ষী এবং জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর শাহ বদিউল আলমকে। তিনিও আমার আগ্রহের কথা শুনে আশ্চর্য! একপ্রকার আক্ষেপ নিয়েই বললেন, ‘আমাদের খোঁজ এখন আর কেউ নেয় না। যিনি নিতেন তাঁকে তো বেঈমানের বাচ্চারা শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের খোঁজ নিয়ে কী লাভ। কী হবে শুনে আমাদের কথা।’ এসব বলতে বলতে চোখ ছলছল করছিল। চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। স্বাভাবিক হয়ে শুরু করলেন স্মৃতিচারণ। একজনের কিছু একটা ছুটে গেলে আরেকজন মনে করিয়ে দেন। এভাবে টানা চারঘণ্টার আড্ডা চলে ইতিহাসের দুই সিপাহশালারের সাথে।

নূর মোহাম্মদ চৌধুরীকে লেখা বঙ্গবন্ধুর লেখা চিঠি

নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখেন ১৯৫৪ সালে। তখন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় চট্টগ্রাম আসেন শেখ মুজিব। লালদিঘী ময়দানের বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন তাঁরা। সেখানে শেখ মুজিবের ভাষণ শুনে ভক্ত হয়ে যান মুসলিম হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র নূর মোহাম্মদ।

সেই নির্বাচনে শহরের ছোবাহানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে নৌকায় ভোট দেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং মুসলিম লীগের রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেন জহুর আহমেদ চৌধুরী। তখন সংবাদপত্রে হেডলাইন হয়, ‘মাছির কাছে হাতির পরাজয়’।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের শুরু থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। রাজনীতি পাঠের শুরুতেই অভিষিক্ত হন শহর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে।
১৯৬৪ সালে ফাতিমা জিন্নাহর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এনডিএফ’র আরেক জনসভায় লালদিঘী ময়দানে আসেন শেখ মুজিব। তখনও দর্শকসারির প্রথম কাতারে থেকে শোনেন প্রিয় নেতার বক্তব্য। একইদিন নিয়াজ স্টেডিয়ামে (বর্তমানে এমএ আজিজ) পরিচিতি সভায় বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচিত হন। ‘তুই নূর মোহাম্মদ না, আমি তোকে চিনি বলে জড়িয়ে ধরেন এতেই মহাখুশি তরুণ নূর মোহাম্মদ।

উল্লেখ্য, ওই পরিচিতি সভায় আইউব খান বক্তব্য দেয়ার সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘আইউব খান মুরতাবাদ’ স্লোগান উঠায় মাঝপথে তিনি বক্তব্য বন্ধ করতে বাধ্য হন। হট্টগোলের একপর্যায়ে সেখানে লাঞ্ছিত হন তখনকার এমপিএ আলীম উল্লাহ চৌধুরী। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ২৭ জনকে আসামী করে আলীম উল্লাহ হত্যাচেষ্টার মামলা হয়। মামলায় আসামীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে জামিনের ব্যবস্থা করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী আবুল কাশেম সাবজজ ও ফটিকছড়ির আইনজীবী আবদুল হালিম।

সেদিনের আরেকটি ঘটনার বর্ণনা দেন শাহ বদিউল- আলীম উল্লাহ চৌধুরীর উপর আক্রমণের পর পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আবদুর রহমান খানকে (যুক্তফ্রন্ট সরকারের পাটমন্ত্রী) আটক করে চট্টগ্রামের তৎকালীন এডিসি (জেনারেল) ইনাম আহমেদ চৌধুরীর জিম্মায় দেন। বঙ্গবন্ধু তখন সার্কিট হাউজ প্রান্তে জিপে বসা ছিলেন। আবদুর রহমানকে ছাড়িয়ে নিতে আমাকে এবং ইদরিস আলমকে এডিসির কাছে পাঠান বঙ্গবন্ধু। এডিসিকে গিয়ে নেতার নির্দেশের কথা জানালাম। বলি, উনি যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী ছিলেন, উনাকে ছেড়ে দিন। তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে আবদুর রহমান খানকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। ঘটনাটি লক্ষ করলেন বঙ্গবন্ধুও। লিডার তখন শুধু এটুকু বলেছিলেন- ‘শুনবে, সময় আসলে সবাই কথা শুনবে।’

নূর মোহাম্মদ ১৯৫৭ সালে মেট্রিক পাসের পর ভর্তি হন সিটি কলেজে (নাইট কলেজ)। ততদিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। স্থানীয়ভাবে জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর অনুসারী। থাকতেন চৌধুরীর সাথে। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগে অপরিহার্য হয়ে উঠেন তারা দুই বন্ধু। পরবর্তীতে সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেদের যুক্ত রাখতেন তারা। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়মিত হয়ে উঠায় ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন তারা।

১৯৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন নূর মোহাম্মদ ও শাহ বদির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ছয়দফার সমর্থনে অনুষ্ঠিত লালদিঘী ময়দানের জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন তারা। এতে ছয়দফা তুলে ধরে ঐতিহাসিক বক্তব্য দেন শেখ মুজিব। সভায় সভাপতিত্ব করেন জহুর আহমেদ চৌধুরী। সভা শুরুর আগে গান গেয়ে জনসভা জমিয়ে তুলেন মোহাম্মদ শাহ বাঙালি (শফি উল্লাহ) ও বদন আহমদ দিদারি। বঙ্গবন্ধু ছয়দফাকে বাঙালির মুক্তিসনদ উল্লেখ করেন। এটি ছিল লালদিঘী ময়দানে তখনকার সময়ের সবেচেয়ে রাজনৈতিক জনসভা।

নূর মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, লালদিঘীর জনসভা শেষ করে লিডার (বঙ্গবন্ধু) উঠেন হোটেল শাহজাহানে। সেখানে লিডারের সাথে সাক্ষাৎ করি। পরদিন ভোরে তিনি সিরাজুল হক মিয়ার জিপে চড়ে চলে যান নোয়াখালী। তিনি জানান, টাকার উপর স্লোগান লিখেও আমরা ছয়দফার পক্ষে প্রচারণা করেছি। পাশাপাশি ক‚পনের মাধ্যমে মুজিব ফান্ডের অর্থ সংগ্রহ করি।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু তখন জেলে, চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজনে যুক্ত ছিলেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, শাহ বদি, প্রয়াত নুরুল ইসরামসহ অন্যরা

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু আটক অবস্থায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ১৯৬৮ সালের ১১ আগস্ট নূর মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে চিঠি লিখেন। এ প্রসঙ্গে জানান, আগতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকার কমলাপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ময়েজউদ্দিন আহমেদ। মামলার খরচের জন্য গঠিত তহবিলের কুপন আনতাম উনার কাছ থেকে। তহবিলের টাকা

তুলে তাঁকে দিয়ে আসতাম। বিষয়টি জানতেন বঙ্গবন্ধু। তখন জেল থেকে বঙ্গবন্ধুর চিঠিপত্র আদানপ্রদান করতেন ময়েজউদ্দিন। একদিন তিনি আমাকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে লেখা বঙ্গবন্ধুর একটি চিঠি এনে দেন। চিঠিটি পেয়ে যেন আমি আকাশের চাঁদ পাই। আমার এমন খুশি লেগেছিল যা-ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

১৯৬৯ সালে নূর মোহাম্মদ চৌধুরী শহর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হন। ’৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর সাথে ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী ও চকরিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ১১ জানুয়ারি এমএ আজিজের জানাজায় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত হলে তখনও সাথে ছিলেন নূর মোহাম্মদ ও শাহ বদি। জানাজায় ফজলুল কাদের চৌধুরী অ-মুজিব বলে বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরতে গেলে বাধা দেন শাহ বদি।

নূর মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার আর বদির এমন সম্পর্ক হয়ে যায় চট্টগ্রাম আসলেই আমাদের খুঁজতেন। তাঁর সাথে দেখা করতে আমাদের কোনো বাধা ছিল না। স্বাধীনতার পর যখন তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে তখনও বঙ্গবন্ধুর কাছে যেতে আমাদের কোনো প্রটোকল ডিঙ্গাতে হতো না।

তখনকার মুদ্রায় লিখে ছয়দফার প্রচারণা চালাতেন নূর মোহাম্মদ ও শাহ বদি

‘দিন-তারিখ মনে নেই। আমি আর বদি একদিন গণভবনে যাই। তখন গণভবনের কঠোর নিরাপত্তা-বেষ্টনি পার হতে আমাদের বেগ পেতে হয়। বিষয়টি লিডারকে জানানোর পর তিনি গেইটের সিকিউরিটির লোকজনকে ডেকে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে যাতে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ হয়। এরপর যতদিন গণভবনে গিয়েছি আর কেউ আটকাতে পারেনি। আরেকবার ৩২ নম্বর বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদেরকে ভিতরে যেতে না দিয়ে জেরা করতে থাকেন। এসময় তিনতলায় দাঁড়িয়ে কবুতরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলেন লিডার। আচমকা নিচে খেয়াল করলেন আমাদের উপস্থিতি, উপর থেকে ডাক দেন। এরপর আমরা সোজা ভেতরে ঢুকে যাই। বলেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের ১ জুলাই জহুর আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর শুনে চট্টগ্রাম ছুটে আসেন শোকার্ত বঙ্গবন্ধু। জানাজা শেষে প্রিয় বন্ধুর দাফনের তদারকি শেষে ঢাকায় ফিরে যান। এসময়ও কাছে ছিলাম আমরা।

’৭৪ সালের দিকে বঙ্গবন্ধু আমাকে আর বদিকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দেন। দলের অভ্যন্তরে গোয়েন্দাগিরি ছিল আমাদের কাজ। এ জন্য মাস শেষে নিজ হাতে আমাদের বখশিষ দিতেন। এ জন্য আওয়ামী লীগের কেউ কেউ আমাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ’৭৪ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে আমাদের কাউন্সিলর করা হয়নি। আমরা কারও কাছে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সোজা লিডারের কাছে নালিশ করি। লিডারকে বলি, স্যার আমরা চলে যাব, নাকি থাকব। তিনি বললেন, কী হয়েছে তোরা যাবি কেন। বললাম, আমাদের কাউন্সিলর করা হয়নি। তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডেকে নেন তাজউদ্দিন আহমদ এবং তোফায়েল আহমেদকে। তাদের বলেন, ওদের দু’জনের নাম যেন প্রথম অধিবেশনে কো-অপশনের তালিকায় থাকে। সপরিবারে নিহত হওয়ার কিছুদিন আগে কোরবানির ঈদের সময় আমি আর বদি দেখা করতে গেলে আমাদের তিন হাজার টাকা দেন কোরবানির গরু কেনার জন্য। সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসলে লিডারের সাথে আমরাও যাই বেতবুনিয়া ভূউপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সেখান থেকে যাই কাপ্তাইয়ে। হেলিকপ্টারে যান বঙ্গবন্ধু। লিডারের সাথে শেষ দেখার বর্ণনা দিয়ে চোখ মুছছিলেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রায় ৮০ বছরের জীবনে আমার জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত জাতির জনকের মৃত্যু সংবাদ।

ছয়দফাসহ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে গঠিত হয় মুজিব ফান্ড। এ ফান্ডের জন্য টাকা তুলতেন নূর মোহাম্মদ ও শাহ বদিরা…

নূর মোহাম্মদ চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও সপ্তাহান্তে ঘুরে আসেন দামপাড়ায় জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাড়ি। সেখানে নেতার পুত্র মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সাথে আড্ডা দিয়ে আসেন। অতীত স্মৃতি রোমন্থন করেন। যতদিন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া বেঁচেছিলেন তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি চিনতেন নূর মোহাম্মদ ও শাহ বদিকে। শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার বিয়ে-পরবর্তী চট্টগ্রামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনেও তারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

লালদিঘী ময়দানে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন মুসলিম হাইস্কুলের ছাত্র শাহ বদিউল আলম। ১৯৫৫ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় খেলতে গিয়ে লালদিঘী মাঠে দেখেন হাজার মানুষের জটলা। কোনো একটি মিটিং হচ্ছে তাই খেলা হচ্ছে না। কিশোর বদিউল বসে যান মিটিং-এর সামনে দর্শকসারিতে। মঞ্চে ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ ভাসানী, জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এমএ আজিজ।

শাহ বদিউল বলেন, ‘গোফওয়ালা তরুণ বয়সী একজন বক্তব্য দিতে উঠেন। মাইকের ঘোষণায় জানতে পারি তাঁর নাম শেখ মুজিব। তাঁর বক্তব্যের স্টাইল আর ব্যক্তিত্ব আমাকে মোহিত করে। এমন বক্তব্য অতীতে শুনিনি। তারপর থেকে শেখ মুজিব আসার খবর পেলে তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য প্রতিটি মিটিংয়ে ছুটে যেতাম।

১৯৫৬ সালে নেতাদের বিশাল বহর নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে নেতাদের বহরে ছিলেন মানকির শরীফের পীর, জাকারিয়া শরীফের পীর, অল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি গোলাম মো. খান লুন্ধখোর, সিন্ধির জিএম সাইয়েদ (সিন্ধুর গান্ধী হিসেবে পরিচিত) প্রমুখ। আমার খেয়াল নেই সেদিকে। আমি তখনও শুনতে যাই শেখ মুজিবের ভাষণ। ভাষণ শুনে মুগ্ধতা সঙ্গী করে বাসায় ফিরি। একই বছর সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও দুর্নীতি দমন বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে আবার লালদিঘী ময়দানে আসেন শেখ মুজিব। ওই সময়ের বক্তব্য এখনও কানে বাজে। তিনি বলেছিলেন- কে, কোথায়, কীভাবে দুর্নীতি করে তা তিন পয়সা খরচ করে পোস্ট কার্ডে লিখে আমাকে জানালে আমি দুর্নীতিবাজকে বের করে আনবো।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে নূর মোহাম্মদ চৌধুরী ও শাহ বদি (পেছনে সানগ্লাস ও চেক শাট পরা

শাহ বদিউল আলম জানান, তারপর থেকে বাদ যায়নি চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর কোনো সভা, সমাবেশ। এরই মধ্যে নজর কাড়েন জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর। কাছে টেনে নেন তিনি। ১৯৬১ সালে মেট্রিক পাসের পর ১৯৬২ সালে নিয়মিত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এরই মধ্যে বন্ধুত্বের গাঁটছড়া নূর মোহাম্মদ চৌধুরীর সাথে। তারপর থেকে দু’জনের যূথবদ্ধ চলা। এসময় তিনি শহর আওয়ামী লীগের সদস্য নিযুক্ত হন। দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন তাঁর রাজনীতির আইডল শেখ মুজিবের।

শাহ বদিউল জানান, সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কাঁঠাল বাগানে বিচারপতি ইব্রাহিমের বাসায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হয়। তখন আমি ঢাকায় বেড়াতে যাই। আমাদের নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর সাথে নবাবপুরের সেন্ট্রাল হোটেলে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে কাউন্সিলে নিয়ে যান। সেখানে দেখা হয় শেখ মুজিব, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও তাজউদ্দিনের সাথে। ১৯৬৩ সালে মৃত্যুর পূর্বে শেষবারের মতো চট্টগ্রাম আসেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সাথে ছিলেন শেখ মুজিব। লালদিঘী ময়দানের জনসভায় আইউববিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন তারা। এ জনসভায়ও উপস্থিত ছিলেন শাহ বদিউল।

১৯৬৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী লালদিঘী ময়দানে ছয়দফার জনসভা আয়োজন ও প্রচারণায় ভ‚মিকা রাখেন শাহ বদি, নূর মোহাম্মদ। নেতাদের সাথে মঞ্চেই ছিলেন তারা। শাহ বদিউল জানান, তিনি ১৯৬৮ সালে শহর আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর উপপ্রধান। বাহিনীর প্রধান ছিলেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। ২৫ মার্চ লালদিঘী মাঠে তাদের সদস্যদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি জানান, স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সকল আন্দোলন, সংগ্রামে তারা সক্রিয় ছিলেন। শহরের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় মিটিং, মিছিল আর হরতালে তাদের ডাক পড়ত। আছাদগঞ্জের স্থানীয় তরুণ বলে কথা, তাই সাহসও কম দেখাতেন না নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। মারপিঠেও ছিলেন শক্তপোক্ত। এ কারণে কেউ কেউ তাকে ‘লোহা চৌধুরী’ ডাকতেন। তাঁর এ অভিধা একসময় বঙ্গবন্ধুর কানেও পৌঁছে যায়। অন্তপ্রাণ, কর্মীবান্ধব নেতাও কখনো-সখনো নূর মোহাম্মদ চৌধুরীকে ‘লোহা চৌধুরী’ সম্বোধন করে উপস্থিত মহলে হাস্যরস ছড়িয়ে দিতেন।

শাহ বদির সঙ্গে লেখকের আলাপচারিতা, ইতিহাসের সুলুকসন্ধান…

মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির জনক যখনই চট্টগ্রাম আসতেন ডাক পড়ত নূর মোহাম্মদ, শাহ বদি জুটির। ঢাকায় গণভবন এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরেও ছিল তাদের অবাধ যাতায়াত। বঙ্গবন্ধু কীভাবে যেন জানলেন, শাহ বদি তার মায়ের যত্মআত্তি করেন না, খবর রাখেন না। সেই যাত্রায় বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম এসে হোটেল শাহজাহানের বিশ্রামের ফাঁকে অমনই পেয়ে বসলেন শাহ বদিকে-এই তুই নাকি মায়ের খবর রাখিস না! ঠিক নাকি? খবরদার, মায়ের অযত্ন, অবহেলা যেন না শুনি। বঙ্গবন্ধু এ অনুশাসনের গল্প শুনিয়ে শাহ বদি বলেন, আহা নেতা! মানুষের ঘরের খবর, মায়ের খবর সবই রাখতেন তিনি। যদিও মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগটি সঠিক নয় দাবি করে শাহ বদি জানান, মূলত নেতার কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ একজন মিথ্যা অভিযোগ করে কানভারি করেছিলেন।

শাহ বদি জানান, ’৭৪ সালের দিকে আমাদেরকে গোয়েন্দাগিরির দায়িত্ব দেয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে কর্নেল ফারুকের নেতিবাচক কথার বিষয়ে অবহিত করি।
একদিন মতিঝিল চেম্বার ভবনে গিয়েছিলাম এক কাজে। অনেকের সাথে কথা হয়। এক পর্যায়ে দেখলাম কর্নেল ফারুক উল্টাপাল্টা বলতে শুরু করেন। সাথে সাথে ৩২ নম্বরে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করি।

রাজকীয় ঢংয়ে বঙ্গবন্ধুর তামাকের পাইপে টান দেওয়া বেশ মুগ্ধ হয়ে খেয়াল করতেন শাহ বদি। নেতা পাইপে আয়েশ করে টান দেন-সেই দৃশ্যটা শাহ বদির কাছে অনন্য, অতুলনীয়। তাই চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার সময় কখনো ৬ টাকা চার আনা দামের এরিনমোর ব্র্যান্ডের টোবাকো নিয়ে যেতেন প্রিয় নেতার জন্য। স্মৃতির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে একদিন নেতার কাছ থেকে চেয়ে আনেন একখানা পাইপ। যে পাইপটি এখনো শ্রেষ্ঠ স্মৃতির বাহক হয়ে আছে শাহ বদির জীবনে।

তিনি বলেন, ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রেডিওতে সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সংবাদটি ছিল আমার কাছে এ যাবতকালে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ। বিশ্বে এমন নেতা বিরল। যিনি ২০ বছর পর কোনো কর্মীকে দেখলে নাম ধরে ডাক দিতেন। এমন কর্মীবান্ধব নেতা দুনিয়াতে আর আসবে না।

বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর শাহ বদি এবং নূর মোহাম্মদ বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কুলখানির আয়োজন করেন। শাহ বদিও এয়াকুব নগরের বাড়িতে আয়োজিত এই কুলখানিতে ছোবহানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ শামসুল হুদার নেতৃত্বে আলেমরা খতমে কোরআনে অংশ নেন। ‘৭৬ থেকে বখশিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনসার ক্লাবের পেছনের মাঠে ১৫ আগস্ট আয়োজনের মূল উদ্যোক্তাও তাঁরা। দিনভর মাইকে চলত ৭ মার্চের ভাষণ। ‘৮২ সালে এখানকার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য শেখ আবদুল আজিজ ও অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরী। অথচ তখন বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া ছিল অপরাধ। শাসক গোষ্ঠীর শ্যেনদৃষ্টি উপেক্ষা করে দুঃসাহসিক কাজটি করে যেতেন মুজিব আর্দশের দুই বন্ধু।

শাহ বদিউল আরও বলেন, লিডারকে হারানোর পর থেকে রাজনীতিতে আর নিয়মিত হতে পারিনি। মন বসেনি। জাতির পিতার মৃত্যুর পর আমাদের আর অভিযোগের জায়গাও নেই। তাই রাজনীতি থেকে সরে এসেছি। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী যতদিন ছিলেন খোঁজখবর নিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের কেউ আর আমাদের খোঁজ নেয় না।

মহসীন কাজী : যুগ্ম মহাসচিব, বিএফইউজে; বোর্ড সদস্য, চট্টগ্রাম ওয়াসা

একুশে/এমকে/এটি