শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

সাকিবভক্তের প্রতি নির্মমতায় বিচারকের আক্ষেপ

প্রকাশিতঃ সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ৪:১১ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : চটগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ফুল দেয়ার অপরাধে তাঁর এক ভক্তকে নির্মম নির্যাতন ও জেলে পাঠানোয় ফেসবুকে নিজের মনোবেদনা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস আদালতে কর্মরত অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

রোববার ফেসবুকে এই সংক্রান্ত এক পোস্টে নিজের আইন পড়াটাকে ভুল বলেও আক্ষেপ করলেন এই বিচারক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিজেদের ব্যর্থতার দায় ঢাকতে একজন সাকিব-ভক্তের প্রতি অতিমাত্রায় নির্মমতা দেখিয়েছেন উল্লেখ করে বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আসলে আমার আইন পড়াই ভুল হয়েছে। না পড়লে আইনের ভুল প্রয়োগ ও নির্মম প্রয়োগ বুঝতাম না। কষ্টও লাগতো না।

তিনি বলেন, প্রিয় খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরার জন্য, ছোঁয়ার জন্য ভক্তদের এ ধরনের পাগলামি নতুন নয়। চড় দিলেন, লাথি দিলেন, বেধড়ক মারলেন, মামলা দিলেন, হাজতে দিলেন। অনেক বেশি নিষ্ঠুরতা হয়ে গেল না?

‘আরে বাবা ফুলই তো দিয়েছে? আর তো কিছু না। এটা ভুল। মানছি। তবে প্রেমময় ভুল। এটার জন্য কড়া বকা, সতর্ক করা ও মুচলেকায় যথেষ্ট ছিল। এই ক্রিকেট ফ্যানরা বেআক্কেল! বেওস্তাদ! কেন যে খেলা দেখতে যায়? আইনশৃখংলারক্ষাবাহিনী এই নিরীহ বোকা ভক্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পারফরম্যান্স না দেখালেও পারতো।’ এমনটাই মনে করেন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, ভক্তটিকে মারধর করাটা বেআইনি। আর মারধর যখন করেই ফেলেছে, তখন মামলা না দিলেও পারতো! মামলা যখন দিলই তখন হাজতে না দিয়ে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে প্রতীকী জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া যেত। মারধর, মামলা, এগুলোর চেয়েও বড় কথা হলো-সে এতোগুলো মানুষের সামনে অপদস্ত হলো! তাঁর পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের কথা ভাবুন।

বিচারক মাহবুবুর রহমান বলেন, এক্ষেত্রে কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন এসেই যায়। নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ঢুকল কী করে? তাহলে কি ধরে নেয়া যায় এই বেষ্টনী ত্রুটিযুক্ত ছিল। আর এই প্রশ্নটি উঠবে বলে দৃষ্টি বা আলোচনা অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য এতো আয়োজন, এতো ক্যামোফ্লেজ? প্রশ্ন আলোচিত এই বিচারকের।

মাহবুবুর রহমান বলেন, অবশ্য পুলিশ অনেক সময় হিট অফ দ্য মোমেন্টে অতিরিক্ত মারধর করে ফেলে। এবং দায় ঢাকার জন্য ভয় পেয়েও মামলা করে বসে। বোকাটাকে বেশি মারধর করা হলো নাতো? ফেসবুক পোস্টে এ প্রশ্ন ও শঙ্কা জুড়ে দেন মাহবুবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের জহুর আহম্মদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের সাথে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সাকিবের বোলিং এর সময় গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়েন দর্শক ফয়সাল আহমেদ (২২)।

মাঠে ঢুকে ফয়সাল দৌড়ে সাকিবের কাছে গিয়ে স্যালুট দিয়ে হাঁটু গেড়ে ফুল বাড়িয়ে ধরলে সেটা গ্রহণ করেন সাকিব।

এরপরই তিনি এগিয়ে গিয়ে সাকিবকে জড়িয়ে ধরতে চান। সাকিব চাইছিলেন এড়াতে। কয়েকবার তাকে বিরত করার চেষ্টা করেন। বারবার অনুরোধে সাকিব তাকে জড়িয়ে ধরেন কিছুক্ষণের জন্য।

তারপর নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসেন। ফয়সালকে নিয়ে যান মাঠের বাইরে। এ সময় বিসিবির স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীরা ফয়সালকে প্রচণ্ড মারধর করেন, যার নেতৃত্বে লোকমান নামের একজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর রাতেই তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই তরুণকে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) করা মামলায় গত শনিবার কারাগারে পাঠায় আদালত।

ফয়সাল নগরীর এনায়েত বাজার জুবিলী রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি দৈনিক ভিত্তিকে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে স্টেজ সাজানোর কাজ করেন। এ কাজের আয় থেকেই তার পরিবারের জীবন চলে। ভালোবাসা থেকেই মাঠে ঢুকে সাকিবকে ফুল দেন বলে পুলিশকে ফয়সাল জানান। পুলিশকে তিনি আরও জানান, তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

এর আগে ২০১৬ সালে আফগানিস্তান বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে খেলা চলার সময় মাঠে ঢুকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে জড়িয়ে ধরেন এক ভক্ত। তবে এ ঘটনাকে বড় করে দেখেননি মাশরাফি। সে সময় নিরাপত্তারক্ষীরা মাশরাফির অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়।

একুশে/এসআর/এটি