দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শিপইয়ার্ড মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি


চট্টগ্রাম: শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যুর হলে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম নামের একটি সংগঠন।

বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় অব্যাহতভাবে শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সফর আলী। তিনি বলেন, শিপ ইয়ার্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের সংখ্যা এবং আহতদের অবস্থা নিয়ে চলছে লুকোচুরি খেলা। বছরের পর বছর দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর হার বাড়লেও দায়ী মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ঠিকাদারের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করার ফলে শ্রমিকরা আহত বা নিহত হলে ইয়ার্ড মালিকরা এর দায় নিতে চায় না।

সফর আলী বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর ঠিকাদারদের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে নিহত শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা এবং এর সাথে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত ক্রাইসিস কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা সকল নিহত শ্রমিকের পরিবার পাচ্ছে কিনা তার কোনো তদারকি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে আছে- চলতি বছর সংঘটিত সব দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া, শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণ, কাটার আগে জাহাজ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্জ্যমুক্ত করা, শ্রমআইন-বিধিমালা ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন মেনে ইয়ার্ড পরিচালনা, ইয়ার্ডে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা, মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ অনুসারে নূন্যতম ১৬ হাজার টাকা মাসিক মজুরি নিশ্চিত করা এবং ইয়ার্ডগুলো নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন।