শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩০ ভাদ্র ১৪২৬

বিসিবির নিরাপত্তা ডিউটি, কর্মীদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত চট্টগ্রামের কর্মীরা। পারিশ্রমিক চাইলে উল্টো হুমকি পেতে হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

সাধারণত আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া লীগ চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে কর্মী নিয়োগ করা হয়। এসব নিয়োগ দেয়া হয় বিসিবির স্থানীয় সমন্বয়কারীর মাধ্যমে। ম্যাচ প্রতি ১০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত বিসিবি’র নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়। যাদের জন্য বিসিবি’র পক্ষ থেকে বরাদ্দ থাকে পারিশ্রমিক।

কিন্তু পারিশ্রমিক বরাদ্দ থাকলেও তা পান না অভিযোগ করে শরীফ মীর্জা নামে এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আমরা যারা নিরাপত্তায় কাজ করি তাদের জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে ২০০ টাকা খাবার বাবদ কেটে রেখে ৮০০ টাকা করে দেয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৭টি ট্যুর হয়ে গেলো। একটি ট্যুরেরও টাকা পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আমার কার্ড হলেও টাকা না পাওয়ায় আর ডিউটি পালন করি না। বকেয়া টাকা কবে পাবো জানতে চাইলে ফোনে হুমকি দেন। কে হুমকি দেয় জানতে চাইলে বলেন, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে যারা লিঁয়াজো করেন তারাই।

আসিফ ইমরান নামে আরেক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আমি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের চট্টগ্রাম সফর, বিপিএলসহ প্রায় ৭টির মতো ট্যুরে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু আমাদের জন্য যে পারিশ্রমিক বরাদ্দ ছিলো তা জানতামই না। আপনি (প্রতিবেদক) বলার পর জানতে পারলাম যে নিরাপত্তাকর্মীদের নামে অর্থ বরাদ্দ হয়।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কথা হয় বিসিবির নিরাপত্তায় চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োজিত আবদুর রশীদ লোকমানের সাথে। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, দেখুন এখানে যারা বিসিবির নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করে তাদের জন্য দৈনিক ৫শ’ টাকা করে বরাদ্দ থাকে। এভাবে ৫ দিনের একটি ম্যাচের জন্য প্রত্যেক কর্মী পাবে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু বিসিবি এই টাকা দেয় ঢাকা থেকে একাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে। শুধু আড়াই হাজার টাকার জন্য ঢাকায় গিয়ে চেক নেয়া সম্ভব নয় বিধায় বেশ কয়েকটি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পরই আমি ঢাকায় গিয়ে চেকগুলো ইস্যু করি। কারণ ঢাকায় যাওয়া-আসাতে দশ হাজার টাকা চলে যায়। এ পর্যন্ত দুই বছরে প্রায় ৭টি ট্যুরের টাকা বকেয়া রয়েছে। বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে সিরিজের পরপরই বকেয়া টাকা নিরাপত্তাকর্মীরা অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে পেয়ে যাবে বলে জানান আবদুর রশীদ লোকমান।

তিনি বলেন, এই অল্প টাকার জন্য আমরা কেউ দায়িত্ব পালন করি না। দায়িত্ব পালন করি ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে।

একুশে/এইচআর/এটি