সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

‘আমরা কথা বললেই রাজার সঙ্গে শত্রুতা হয়ে যায়’

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ৭:০৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা : জনগণের মধ্যে নাগরিক বোধ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। দলটি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। অন্য যেকোনো দলের তুলনায় মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বেশি। আমরা এখন প্রজায় পরিণত হয়েছি। আমরা কথা বললেই তো রাজার সঙ্গে শত্রুতা হয়ে যায়।

সংসদ সদস্য মইনউদ্দিন খাঁন বাদলকে দেখিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, উনারা আমাদেরকে কিছু বলতে বলেন। অথচ উনারা সংসদ সদস্য। জনগণের কথা উনাদেরই বলার কথা। আমরাই যদি বলতে থাকি, তাহলে সংসদ আছে কীসের জন্য? সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে বাদল ভাইদের পারমিশন দেয়া হয়েছে। আমাদের তো কোনো পারমিশনই দেয়া হয়নি।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণা ও আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে তোমরা কারা? আমরাই (সরকার) সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, যা খুশি তাই করব। তোমরা কারা? আমরা কথা বললেই তো রাজার সঙ্গে শত্রুতা হয়ে যায়। সত্য কথা বলার কারণেই মিথ্যা মামলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে জেলে যেতে হয়েছে।

সুলতানা কামাল বলেন, সরকার মালিক শ্রমিক বা পথচারী কেউ নিজ দায়িত্বের কথা স্বীকার করেন না। সবাই এড়িয়ে যান। এ দায়িত্ব এড়ানোর কারণ হচ্ছে দেশে সুশাসনের অভাব।

সড়কের বিভিন্ন নৈরাজ্য ও অব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সুলতানা কামাল বলেন, যারা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা একেবারে সাধারণ মানুষ। যারা রাস্তায় চলাচলে বিভিন্ন ধরণের নিরাপত্তা পান তাদের তো সড়কে প্রাণ দিত হয় না। তারা অনেক নিরাপদেই রাস্তায় চলাচল করেন। আর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এ ধরণের আলোচনার আয়োজন করা হয়। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বরকে যাত্রী অধিকার দিবস ঘোষণার উদ্যোগে সংহতি জানান।

তিনি আরো বলেন, সরকারের অনেকে বলেন, দেশ সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো উন্নত হয়ে গেছে। এ কথা শুনে গর্ববোধ করি। কিন্তু হংকং-সিঙ্গাপুরের পরিবহণ ব্যবস্থা তো অনেক উন্নত। আমাদের দেশের সড়কগুলো এত অনিরাপদ কেন? রাস্তা ভালো না, ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ খায়; আরো অনেক সমস্যার কথা বলতে শুনি। কিন্তু কথা হচ্ছে, এগুলোর কারণে যাত্রীরা কেন ভোগান্তির শিকার হবে? কাজের জন্য প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এখন গাড়িতে উঠে আমরা বসার জায়গা পাব কিনা সেটা নিয়ে ভাবি না, ভাবি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কিনা! মেয়েরা ভাবে সম্মান নিয়ে, ধর্ষিত না হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব তো!

তিনি বলেন, যাত্রী অধিকারকে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করেই কথা বলতে হবে।

যাত্রী অধিকার দিবসের ঘোষণা উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই আলোচনাসভার আয়োজন করে। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ এর ঘোষণাপত্র পাঠ করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

একুশে/এসসি