সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

হুইপ ও তাঁর পুত্রকে শেখ কামাল টুর্নামেন্টের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার দাবি

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১, ২০১৯, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের আবাহনী ক্লাব কার্যালয়ে সৃষ্ট ঘটনাবলী নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহাসচিব ও সংসদের  হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুনকে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন দিদারুল আলম চৌধুরী।

প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক, মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল চৌধুরী এ প্রসঙ্গে একুশে পত্রিকার কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে আসার পর হুইপ ও তার পুত্রকাণ্ডের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত টুর্নামেন্ট  থেকে তাদের বিরত থাকার অনুরোধ জানান; এবং অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে  বলেন, আপনি টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এবং আবাহনী পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। আবাহনী আমাদের আবেগ-অনুভূতির জায়গা। আবাহনীকে হাতিয়ার করে নানা অপকর্মের মাধ্যমে যারা পক্ষান্তরে আমাদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করেছেন তাদেরকে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামালের নামে ১৯ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে দয়া করে রাখবেন না। -বলেন দিদারুল আলম।

একই সাথে এই টুর্নামেন্টের সকল প্রকার হিসাব-নিকাশের জবাবদিহিতামূলক পরীক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

দিদার বলেন, আমার কোনো পদ-পদবীর প্রয়োজন নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যখন ইতিহাস থেকে দূরে রাখা যায়নি আজ অথবা কাল চট্টগ্রাম আবাহনী প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি অবশ্যই আমার মিলবে।

সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ১২ বছর আবাহনীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নিজের পকেটের কয়েক কোটি টাকা এবং মূল্যবান সময় ক্লাবের স্বার্থে ব্যয় করেছেন জানিয়ে তাঁকে টুর্নামেন্ট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন দিদার।

পাশাপাশি আবাহনীর জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত যারা বিভিন্ন সময় সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ফুটবল কমিটি, ক্রিকেট কমিটি ও অন্যান্য উপ-কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাদেরকে ভিআইপি মর্যাদায় খেলা দেখার সুযোগ দেয়া, আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর যে সকল কর্মকর্তা-সদস্য তখন থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবের স্বার্থে অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছেন এবং ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাদেরকে গ্যালারির একটি স্থান নির্ধারণ করে খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন দিদারুল আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, আগামী ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ৩য় আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা যারা বঙ্গবন্ধু, শেখ কামাল ও তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের শ্রদ্ধা-ভালবাসার প্রতিচ্ছবিতে আবাহনীকে ভালবাসি, আজ এই টুর্নামেন্টকে সর্বদিক থেকে সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষ্যে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে যা যা করা প্রয়োজন তা-তা করতে হবে। আমার সাথে এই ক্লাবে জন্মলগ্ন থেকে জড়িত থেকে যারা বিভিন্নভাবে আর্থিক ও কায়িক পরিশ্রমে বিভিন্ন অবদান রেখেছেন, এমনকি অনেকেই আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়েছেন। কেকেআরসি নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম আবাহনী ক্রীড়া চক্র করার ব্যাপারে প্রয়াত ইকবাল খানসহ (তামিম ইকবালের পিতা) যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের কোনো স্বার্থ বা চাওয়া-পাওয়ার কিছু ছিল না। ছিল শুধু ভালবাসা।

আমাদের শপথ নিতে হবে যে এই টুর্নামেন্টে শহীদ শেখ কামালের আত্মা ও তাঁর সম্মান জড়িত, তাই নিজ নিজ ধর্মের শপথ নিয়ে এই টুর্নামেন্টটি সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য স্ব-স্ব অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। যোগ করেন দিদার।

তিনি বলেন, বিদেশী দলগুলো যাতে বুঝতে পারে, বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের জনক শেখ কামালের এই ক্লাব ও তার সমর্থকগণ খেলার জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। যাদের রক্তে ক্রীড়া-প্রেম আছে, তাদের কাছে কোনো প্রকার সুবিধা পাওয়াটা মুখ্য নয়।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবে জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃংখলাবাহিনীর অভিযানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেন হুইপ। একই সাথে প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলমকে টেলিফোনে নগ্ন হুমকি দিয়ে সেই সমালোচনাকে এগিয়ে দেন তার পুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুন।