শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

‘সামশুল যুবদলের সেক্রেটারি, নিউমার্কেট মোড়ে আ’লীগের গণ্ডগোলেও জড়িত’

একুশে পত্রিকাকে ডবলমুরিং যুবদলের তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ আহমদ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, অক্টোবর ১, ২০১৯, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : যুবদল এবং জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে এবার মুখ খুললেন ৮০’র দশকে ডবলমুরিং থানা যুবদলের সভাপতি এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সৈয়দ আহমদ। তিনি বলেন, আমি ছিলাম ডবলমুরিং থানা যুবদলের সভাপতি, আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আজকের আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

এসময় নিউ মার্কেটের মোড়ে আওয়ামী লীগের মিটিংয়ে সামশুল হকের বোমা হামলার বিষয়ে দিদারুল আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য বলেও স্বীকার করেন বিএনপি নেতা সৈয়দ আহমদ।

একই সাথে তৎকালীন মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা একরামুল করিম আবারও জোর দিয়ে বললেন, সামশুল হক চৌধুরী যুবদল ডবলমুরিং থানার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এটা সত্য। তিনি আমাদের কর্মী ছিলেন। আমাদের সাথে রাজনীতি করেছেন।

সেসময়কার রাজনৈতিক স্মৃতি ও নানা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মঙ্গলবার বিকেলে একুশে পত্রিকাকে এক ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন সৈয়দ আহমদ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান প্রথম যখন জাগ দল করেন তখন একটা কমিটি করেছিল; এই কমিটিতে সম্মেলনের মাধ্যমে আমি ডবলমুরিংয়ের সভাপতি ও সামশুল হক সেক্রেটারি হয়েছিল। তখন আরিফ মঈনুদ্দীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন। পরে তারই নেতৃত্বে, উৎসাহে আমরা যুবদল করি। তখন মহানগরের যুবদল সভাপতি ছিলেন বাকলিয়ার আবদুর রহিম। তিনিই প্রথম আমাকে সভাপতি ও সামশুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি অনুমোদন দেন। পশ্চিম মাদারবাড়িতে এ কমিটির সম্মেলন অনু্ষ্ঠিত হয়।

এরপর থেকে সামশুল হক আমাদের সাথে কাজ করছেন। উনার সাথে আমাদের ঘটনা, অনেক স্মৃতি। নিউমার্কেট মোড়ে যে ঘটনা হয়েছিল, গণ্ডগোলের যে কথা দিদার সাহেব বলেছে এটা কিন্তু মিথ্যা নয়। বলেন সৈয়দ আহমদ।

সৈয়দ আহমদ আরও জানান, জাতীয় পার্টির আমলে উনি (সামশুল) কমিশনার প্রার্থী হয়ে গেলেন, আলকরণের। তখন ভোট দিতে হতো না, কালেকশন করতে হতো-অনেকটা আজকের প্রক্রিয়ার মতো। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলকরণের ইউসুফ, ইউসুফের ভাই লাইয়া, বক্কর-টক্কর আরো কয়েকজন মিলে তাকে কমিশনার হতে সাহায্য করেছিল। কমিশনার হওয়ার পর রেয়াজউদ্দিন বাজারে একটা হকার সমিতি করেন সামশুল। সেখানে অনেক পয়সার লেনদেন হতো। ওখান থেকেই মূলত তার (সামশুল) উত্থান শুরু। বিশেষ করে টাকা-পয়সার উপার্জন। যোগ করেন সৈয়দ আহমদ।

প্রয়াত দস্তগীর চৌধুরীর সাথে সামশুলের সম্পর্ক ভালো ছিল; যেহেতু জাতীয়পার্টি করতো। আমরা বন্ধুবান্ধব ছিলাম। একপর্যায়ে দস্তগীরের সাথে সামশুলের এমন ভাব হয়ে গেলো! অন্যদিকে দস্তগীরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দিদারুল আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিলো। তাই সামশুলকে আবাহনীতে ঢুকিয়ে দিলো দস্তগীর। দস্তগীর তখন সিজেকেপির নেতা।

সৈয়দ আহমদ বলেন, আমরা অনেকদিন একসাথেই ছিলাম। আমি দলবদল করলাম না। বিএনপিতেই রয়ে গেলাম। ও দেখলো যে বিএনপি থেকে এমপি হতে পারবে না। আওয়ামী লীগে চলে গেলো সামশুল। একটি কথা আমার এখনো মনে পড়ে। একদিন সে (সামশুল) শেখ হাসিনার সঙ্গে তোলা সুন্দর সুন্দর কয়েকটি ছবি দেখালো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এই পর্যন্ত কীভাবে গেলে, আমাকে বলো!

রাজনীতিতে একটি কথা আছে, আল্লাহ মেহেরবান তো গাধা বুদ্ধিমান, আওয়ামী লীগের মধ্যে হাসিনা মেহেরবান তো গাধা চ্যাম্পিয়ন-এমপি হওয়া যায়, মন্ত্রী হওয়া যায়। একইভাবে বিএনপিতে খালেদা মেহেরবান তো গাধা চ্যাম্পিয়ন। রাজনীতিতে যোগ্যতার বলে কেউ নেতা হয় এটা আমি বিশ্বাস করি না। নেতাদের আশীর্বাদ লাগে, আশীর্বাদ ছাড়া কেউ নেতা হতে পারে না।

যাই হোক, সামশুল বললো, আমার ছেলে রেহানার ছেলে-মেয়ের সাথে পড়াশোনা করে। সেই সুবাদে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক হয়ে গেছে, সেই হিসেবে ছবিগুলো তুলেছি। তখন আমি বললাম, তুই এই পথে আগা। তুই উন্নতি করতে পারবি। আসলে রাজনীতি করতে গেলে আশীর্বাদ লাগে, সেই আশীর্বাদ সামশুল হক ঠিকমতো পেয়েছিল।