শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্দোলন কেন? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ


ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বহিষ্কার করার পরও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, এই ঘটনা খুব সকাল বেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে।

‘যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হল। তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, ‘আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হল। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া… কোন রুম, কোথায়, কারা ছিলো যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে অ্যারেস্ট করো। যে কটাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রশ্নটা আমার। পুলিশকে আসতে দেবে না, আলামত নিতে দেবে না। আমি আইজিকে বললাম, বলা যায় না এর মধ্যে কী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আছে? ফুটেজ পেলে পরে তারা ধরা পড়ে যাবে এজন্য তারা… পরবর্তীতে এই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে এবং একটা কপি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসে। সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা দরকার ছিল, যেটা করা হচ্ছে এখন।

‘এটা একটু খোঁজ করেন, কেন বাধা দেওয়া হল। তিনটে ঘণ্টা সময় কেন নষ্ট করল? আমি জানি না এর উত্তর আছে কিনা। তাদের ছাত্রসংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যারাই জড়িত হোক না কেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তারপরও আন্দোলন কিসের জন্য? এই আন্দোলনে কারা?

আবারর হত্যার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরারের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এসেছে ইন্টারনাল ইনজুরি। মানে তার শরীরের বাইরে কোন ইনজুরি নেই। তাকে এমন কায়দায় পেটানো হয়েছে যেন বাইরে কোন ইনজুরি না হয়। যেভাবে ২০০১ সালে আমার দলের নেতাকর্মীদের পেটানো হতো। এটাও কিন্তু সন্দেহের বিষয়। যাই হোক এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করা হবে।

ত্রিপুরায় গ্যাস রপ্তানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি তা এলপিজি মানে তরল গ্যাস। আমরা আমদানি করছি বাল্কে, তারপর তা বোতলজাত করে আমাদের নিজেদের দেশে সরবরাহ করছি এবং কিছু ত্রিপুরায় রপ্তানি করছি। এটাই হলো বাস্তবতা। ২০০১ সালে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করার জন্য আমেরিকান কিছু কোম্পানি এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্টও অনুরোধ করেছিলেন। সর্বশেষ জিমি কার্টার যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট তিনি এসেছিলেন তখন তত্বাবধায়ক সরকার ছিলো লতিফুর রহমান। তাঁর সরকারি বাসায় আমাদের তখন দাওয়াত দিয়েছিলেন।

‘আমি ও প্রয়াত জিল্লুর রহমান সাহেব ও বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া ও প্রয়াত মান্নান ভুঁইয়া সেখানে যায়। সেখানে প্রস্তাব করা হল গ্যাস চুক্তির বিষয়ে। আমি এটা পারবোনা বলে চলে এলাম। আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলাম আমাদের দেশে কি পরিমান গ্যাস আছে তা আগে জরিপ করতে হবে। জরিপ ছাড়া এই গ্যাস আমরা বিক্রি করতে পারিনা। এই কথার কারণে আমি সেবার নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু খালেদা জিয়া ও মান্নান ভুঁইয়া থেকে গেলেন। জিমি কার্টারের সাথে তাদের বেশ আলোচনা হলো এবং গ্যাস রপ্তানির চুক্তিটা হলো। কাজেই আজকে যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছি বলে কথা তুলছে সেই বিএনপি জামাত জোটই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারও আগে বিল ক্লিনটন এসেছিলেন। তিনিও আমাকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁদের যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি ছিলেন সে দেশের গ্যাস কোম্পানির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরা পরে আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে দাওয়াত করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলাম। কাজেই এখন যারা গ্যাস বিক্রির প্রশ্ন তোলে ২০০১ সালে তারাই কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিলো। রিচার্ডসন ছিলো তখন যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি মিনিস্টার। আমি তাঁকে বললাম যে আমাদের কি পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে তা আপনারা জরিপ করে দেন। তিনি তখন তাঁদের একজন বিশেষজ্ঞ মি.হামফ্রে‘কে পাঠালো। তাঁরা কিন্তু সার্ভে করে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। কাজেই বাংলাদেশের কোন স্বার্থ শেখ হাসিনা কোনদিন বিক্রি করবে এটা কোনদিন হতে পারেনা।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় আমরা যখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে চাইলাম তখন ভারত আমাদের থেকে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে গিয়েছিলো। কথা ছিলো ভারত তাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সে বিদ্যুৎ আমরা কিনবো। আমরা এখন তাদের থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনছি। কাজেই এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা যদি কিছু চায় তা আমাদের দিতে হবে। কারণ ১৯৭১ সালের কথা যারা মনে রাখবেন, সেসময় আমাদের দেশের মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো ত্রিপুরায়। ত্রিপুরাবাসী তাদের আশ্রয় দিয়েছিলো, খাদ্য দিয়েছিলো। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই ত্রিপুরা একটি ঘাঁটি ছিলো। ট্রেনিং থেকে শুরু করে যুদ্ধ পরিচালনা সব সেখান থেকে করা হতো। ত্রিপুরা সেই সময় আমাদের জন্য একটা শক্তি ছিলো। খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক আমাদের সবসময় আছে এবং সেটা থাকবে।