সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

রোহিঙ্গা শিশুদের জাতীয় শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি চায় ইউনেস্কো

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ


ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষার মধ্যে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত চলতি বছরের গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যে ১০ দেশে সর্বাধিক বাস্তচ্যুত মানুষ আশ্রয়ে রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। অথচ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ৯ দেশ ওই বাস্তচ্যুতদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের জাতীয় শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুপারিশ করা হয়েছে অভিবাসী ও বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা চাহিদা অনুযায়ী একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউনেস্কোর ঢাকা কার্যালয়।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে ভূমিকম্প, বন্যা ও নদীভাঙনে ৯০০টির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রতিবছর
বাংলাদেশ থেকে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী লেখাপড়ার জন্য বিদেশে চলে যায়। এতে করে মেধা পাচার হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেকে বিদেশে লেখাপড়া করতে যাচ্ছেন, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন। তারা বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে এসে সে মেধা নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার এ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৯-এ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নতির সঠিক চিত্র উঠে আসেনি। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সেসব বিষয় এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। তাই এমন প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, দাতা সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।