সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘চট্টগ্রাম’-এর সরব উপস্থিতি

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী : বাংলাদেশের বাণিজ্যিক শহর হিসেবে চট্টগ্রামের সুখ্যাতি ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। আমি কর্মসূত্রে গত প্রায় দু’বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় বাস করছি। এখানে কাজের প্রয়োজনে আমাকে প্রায়শই কোরিয়ান ব্যবসায়ীদের সাথে সভা-সেমিনারে মিলিত হতে হয়। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা উঠলেই অনেক ব্যবসায়ীর মুখেই আমি চট্টগ্রামের নাম শুনে বেশ কিছুটা ভাবাবেগে আক্রান্ত হই।

দেখা গেছে, অনেক কোরিয়ান ব্যবসায়ীই চট্টগ্রামকে মাথায় রেখে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নতুন করে ব্যবসার চিন্তা করছেন। কোরিয়ার অনেক ব্যবসায়ীই বাংলাদেশের শুধুমাত্র একটি শহরের নামই কষ্ট করে মনে করতে পেরেছেন আর সেটি হল ‘চট্টগ্রাম’। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে চট্টগ্রামের বন্দর সুবিধা এবং পর্যটনগত সুবিধা থাকায় শহরটি তাদের বিবেচনায় সবার আগে রয়েছে। এখন যারা নতুন করে ব্যবসার চিন্তা করছেন তারা পূর্বসূরীদের অভিজ্ঞতা নিতে গেলে জানতে পারেন যে, চট্টগ্রামেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একমাত্র রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা যা তাদের ব্যবসায় সাহস জোগায়।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানী প্রস্তাব করেছেন চট্টগ্রামে একটি “শিল্পাঞ্চল” গড়ে তোলার। চট্টগ্রামকে বেঁছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তাদের সোজাসাপ্টা উত্তর- “চট্টগ্রামে অনেক কোরিয়ান কোম্পানী কাজ করছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালামাল পরিবহনের সুবিধা রয়েছে”। এ কারণে তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ার চিন্তা করছেন।

এমনও দেখা গেছে, কোনো কোনো কোরিয়ান ব্যবসায়ী সিউল থেকে ঢাকা বিমান বন্দর হয়ে সোজা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে চলে যান এবং সেখানে কাজ-সভা শেষ করে আবার কোরিয়া ফিরে আসেন। কেই কেউ একটু সময় নিয়ে কক্সবাজার ঘুরে আসেন। আবার অনেকে কোরিয়ায় বসে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানায় চাহিদা পাঠান এবং উৎপাদিত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করছেন এমন একজন কোরিয়ান চট্টগ্রামের ‘খাতুনগঞ্জ’, ‘আগ্রাবাদ’ ও ‘লালখানবাজার’ নামগুলো মনে করতে পেরেছেন। একজন কোরিয়ান ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেছে যিনি চট্টগ্রামে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্যান্য কোরিয়ান ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে থাকেন।

আমরাও চাই চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর এবং সেই সাথে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক সারা বিশ্বে। চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে উঠুক দক্ষিণ এশিয়ার পণ্য আমদানী-রপ্তানীর গেটওয়ে। আশা করা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইতে প্রস্তাবিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা’ উন্নয়নের কাজ সমাপ্ত হলে তাতে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করা যায়।