মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

পৃথিবীর আলো দেখছে ১৩ শিশু

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার

প্রকাশিতঃ সোমবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৯, ২:৪৮ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: দুই বছর বয়সী কন্যাশিশু শহিদা বেগম। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শিশুটি জন্মগতভাবে অন্ধ ছিল। চোখে ছানির কারণে দেখতে পাচ্ছিল না সে। অবশেষে রঙিন পৃথিবীর আলোয় আলোকিত হলো তার জীবন।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে শহিদা বেগমসহ ১৩ জন বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় শিশুর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর অদ্য ২৮ অক্টোবর সোমবার চোখের বাঁধন খুললে ৯ রোহিঙ্গা ও ৪ জন স্থানীয় শিশু স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। পাশাপাশি ঔষধসহ যাবতীয় সেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর অস্ত্রোপচার শুরু হয়।

রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশে হাসপাতালে চোখের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় চক্ষু হাসপাতালে এই কার্যক্রম চালু হয়। শিশুদের অস্ত্রোপচার করেন চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেরাজুল ইসলাম ও ডা. নাসিমুল হগনি চৌধুরী। এতে সহযোগিতা দেন কিউসিভি এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নিলুফার ইয়াসমিন, এমআইএস কনসালটেন্ট মকবুল হোসেন, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ (ক.বা.শ) হাসপাতালের ম্যানেজার (অপারেশন এন্ড প্রোগাম) শহিদ উদ্দিন মাহমুদ, অপটোমেট্টি আবদুল আউয়াল (কাজল) ও স্টাফ প্রবাল দে।

কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের (কিউএফএফডি) সহায়তায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত ‘কাতার ক্রিয়েটিং ভিশন (কিউসিভি) এক্সপান্ডিং আই কেয়ার ইন সাউথ ইস্ট বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ও ক.বা.শ হাসপাতালের তত্বাবধানে এই অস্ত্রোপচারে টেকনিক্যাল সার্পেট দিচ্ছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল।

অপারেশন সম্পন্ন হওয়া রোহিঙ্গা শিশুরা হল, আবু তাহেরের পুত্র মো. এরফান (১২), মো. ইউনুছের পুত্র মো. ছাদেক (২), আমির আলীর পুত্র লালু (৩.৫), সুলতানের পুত্র এনায়েত উলাহ (১০), এয়াসের কন্যাশিশু শহিদা বেগম (২) ও তাসমিনা তারা(৬), ইলিয়াসের পুত্র শহিদ (১৪), মুকবুল আহম্মদের পুত্র আতাউল্লাহ লাহ (১২), নুর ইসলামের পুত্র সালমান (৩)। কক্সবাজারের স্থানীয় শিশুরা হল, রাসেল আহমদের কন্যা জেসি মনি (১৩), আবু জাবেরের পুত্র রফিক আলম (১১), রসিদ আহমদের পুত্র তারেক (৭), কামাল হোসেনের পুত্র রবিউল (১০)।

এর আগে চক্ষু চিকিৎসার জন্য অরবিস পরিচালিত বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের এবং নিয়মিত স্কুল সাইট টেস্টিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় শিশুদের চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা প্রদানের জন্য ক.বা.শ হাসপাতালে এবং অস্ত্রোপচারের জন্য চটগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর শিশুদের বাবা-মা অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে জানান, আমরা অনেক আনন্দিত। এতদিন সন্তানের চোখ নিয়ে যে দুঃশ্চিন্তা ছিল তা এখন কেটে গেছে। আমরা অরবিসসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাদের সন্তানদের চোখের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে। এই চিকিৎসার ফলে আমাদের সন্তানদের সঠিক ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় শিশুর চোখ পরীক্ষার পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার শিশুকে চশমা প্রদান করা হয়।