সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে যেভাবে

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ জন্য দ্রুত শুরু করা হবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। সরকারের পক্ষ থেকে বৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে নেপথ্যে কাজ করেছেন চট্টগ্রামের সন্তান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে মেট্রোরেল নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুনয়-বিনয় করে অনুরোধ করেন ড. হাছান মাহমুদ। মেট্রোরেল করলে চট্টগ্রামের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি।

তবে সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল করার ব্যাপারে কিছু বলেননি। হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত মেট্রোরেল দশটি শহরে এক সাথে করেছে। চট্টগ্রামে যদি করা যায় তবে ভালো হবে।

এর ৬ মাস পর চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারও অনুরোধ করেন হাছান মাহমুদ। জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোরেলের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

সরকারের বর্তমান মেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) দ্বিতীয় সভায় পাশে বসা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল প্রকল্প নেয়ার প্রসঙ্গটি তোলার অনুরোধ জানান হাছান মাহমুদ। যদিও শুরু থেকে ওবায়দুল কাদেরেরও আগ্রহ ছিল এ ব্যাপারে।

মেট্রোরেলের প্রসঙ্গটি তুলতেই প্রধানমন্ত্রী কিছু বলার আগেই হাছান মাহমুদ বলেন, আপা, এখনই করে দিন। এখন করলে ভালো হবে। চট্টগ্রাম শহরে ৭০ লক্ষ মানুষ। মানুষ যখন বাড়বে তখন করা কঠিন হবে। এখন করলে সুবিধা হবে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাঁ। করতে হবে তো। কর্ণফুলী টানেল থেকে শুরু হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে চলে যাবে- এভাবে করতে হবে।

এ ঘটনার কয়েকদিন পর চট্টগ্রামে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সুধী সমাবেশ ছিল। সমাবেশের আগে খাবার টেবিলে বসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবার মেট্রোরেল করে দেয়ার আবদার করেন ড. হাছান মাহমুদ। মেট্রোরেল নির্মাণের ঘোষণা দিলে চট্টগ্রামবাসী উপকৃত হবে বলেও জানান তিনি।

পরে চায়নাকে দিয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে অনুরোধ করেন হাছান মাহমুদ। তিনি ওবায়দুল কাদেরকে জানান, চায়নার কোম্পানী দিয়ে মেট্রোরেল করা যায়। চায়নিজরা যেহেতু টানেল করছে, তাদের বললে হয়তো তারা সাশ্রয়ী মূল্যে মেট্রোরেল করে দিতে পারবে।

গত জুলাইয়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যাওয়ার আগে আলোচ্য সূচিতে চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের প্রসঙ্গটি ঢুকানোর চেষ্টা করেন তথ্যমন্ত্রী। এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাপানীদের দিয়েই চট্টগ্রামে মেট্রোরেল করা যায় বলে মত দেন। তখন হাছান মাহমুদ বলেন, যে-ই করুক, কোনো সমস্যা নেই। মেট্রোরেল হলেই হয়েছে। তখন প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন।

এরপর গত ১৪ অক্টোবর মন্ত্রীসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুনরায় চট্টগ্রামে মেট্টোরেলের ব্যাপারে অনুরোধ জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, চট্টগ্রাম শহরের জনসংখ্যা এখন ৭০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। নির্বিঘ্ন যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এখনই যদি মেট্টোরেলের উদ্যোগ নেয়া না হয় তাহলে ভবিষ্যতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

পরদিন ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মিটিংয়ে আবার মেট্রোরেলের কথাটা তুলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, করতে হবে তো। কোনদিকে কীভাবে করবে, আগে দেখ। দেখে বল। তখন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, তাহলে একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা যায়। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সমর্থন দেন। বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি করা যায়।

মূলত এভাবেই পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের স্বপ্নটি। আর সেই স্বপ্নটি যে আলোর মুখ দেখছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে সড়ক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য ইআরডিকে চিঠি দিয়েছি। শিগগির এ ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু হবে। চট্টগ্রামও মেট্রোরেলের অন্তর্ভুক্ত হবে। এই শহরের জনসংখ্যা বাড়ছে, কানেকটিভিটির খুব দরকার। চট্টগ্রামের অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনা মেট্রোরেল। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণ করে উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় সরকার।