মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘হরেক রকম পত্রিকার’ সাংবাদিক কারাগারে!

প্রকাশিতঃ শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামালের কাছে চাঁদা নিতে এসে পুলিশের কাছে আটক হয়েছেন জিয়াউল হক জিয়া নামের এক ভুয়া সাংবাদিক। তিনি নিজেকে ক্রাইম তালাশ, ক্রাইম পেট্রল নিউজসহ বিভিন্ন বেনামি সংবাদ মাধ্যমের ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেন। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অস্তিত্ব পায়নি পুলিশ।

শনিবার দুপুরে এই ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়াকে আসামী করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভুইয়া জানান, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির তিন নম্বর সড়কের সাত নম্বর বাড়ির বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামাল থানায় ফোন করে এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও আদায় করার বিষয়টি জানালে পুলিশের একটি ফোর্স সেখানে পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া জিয়াউল হক জিয়ার কাছ থেকে বেনামি বেশকিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড জব্দ করে। এসময় এক পর্যায়ে ফারুক নামে এক ব্যক্তির প্ররোচনায় জিয়া মুক্তিযোদ্ধার বাসায় যাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। শনিবার বিকেলে মোস্তফা কামালের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রঞ্জন বড়ুয়ার মামলায় জিয়াউল হক জিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বাদি রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, আসামী জিয়া ৭ নভেম্বর আমার মালিকের বাসায় এসে নিজেকে ক্রাইম পেট্রোল নিউজ২৪ডটকম এর ক্রাইম রিপোর্টার ও দৈনিক বাংলার দূত-এর সাংবাদিক পরিচয় দেন। পরে সবার অনুপস্থিতিতে মালিকের স্ত্রীকে বলে- আমার মালিক মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে বড় ধরনের রিপোর্ট হয়েছে। বিষয়টি তার সাথে সমঝোতা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তাকে ৫০০ টাকা বের করে দেন। শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে আবারও টাকা নিতে বাসায় আসলে জিয়াকে আটক করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতেই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জিয়াউল হক জিয়া বাসায় এসেছিল। পুলিশকে খবর না দিলে আমার বড় কোনো ক্ষতি হতো। ফারুক নামের একজনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সে আমার বাসায় এসেছে বলে জানিয়েছে।’