সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বোয়ালখালীর ইউএনও’র সাথে এএসপি টুটুলের অসৌজন্যমূলক আচরণ

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৯, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : বোয়ালখালীতে সাংসদ মইন উদ্দিন খান বাদলের জানাজাপূর্ব শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক এডিশনাল এসপি বোয়ালখালীর ইউএনও’র সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। ঘটনাটি হতবাক করেছে সমবেত সবাইকে।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রয়াত সাংসদের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তৈরি করা প্যান্ডেলে ব্যানার টাঙানো নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাংসদ বাদলের মরদেহকে শেষ সম্মান জানানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে স্মৃতিসৌধের সামনে বানানো প্যান্ডেলে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে একটি ব্যানার টাঙাচ্ছিলো কিছু পুলিশ।


এসময় ইউএনও আছিয়া খাতুন স্মৃতিসৌধকে ঢেকে না দিয়ে ব্যানারটি অন্য স্থানে টাঙানোর অনুরোধ জানান । বিষয়টি দেখে তেড়ে আসেন পুলিশের এডিশনাল এসপি আফরুজুল হক টুটুল।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। শেষপর্যন্ত এএসপির নির্দেশে অন্যান্য পুলিশ জোর করে স্মৃতিসৌধ ঢেকে দিয়েই ব্যানারটি টাঙিয়ে দেন। একজন নেতার শোক অনুষ্ঠানে পুলিশ অফিসারের এমন অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণ হতবাক করেছে উপস্থিত সবাইকে।

উপস্থিত লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন বা পরিষদের কারো সাথে নূন্যতম ভদ্রতা বা সৌজন্য দেখাননি এএসপি টুটুল।

জানতে চাইলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন এর সত্যতা স্বীকার করে একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা উপজেলার স্মৃতিসৌধকে সামনে রেখে এমপি সাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জায়গা রেখেছিলাম। কিন্তু এএসপি আফরুজুল হক টুটুল এসে স্মৃতিসৌধ ঢেকে দিয়েই ব্যানার টাঙিয়ে দেন। আমি উনাকে অনুরোধ করলাম যে, যেহেতু এটা স্মৃতিসৌধ, আর এটা নির্মাণে এমপি স্যারের অনেক অবদান ছিলো তাই আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সেটা ঢেকে দিইনি। আপনার ব্যানারটাও স্মৃতিসৌধকে ঢেকে না টাঙালে ভালো হয়। পরে সেটা ওখান থেকে সরানো হলো।

এরপরই উনি আমার স্টাফদের হুমকি দিতে থাকেন। বলেন, যারা ঐ ব্যানারে হাত দিয়েছে সবাইকে উনি ধরে নিয়ে যাবেন। দেখে নেবেন। আমি বললাম, আপনি আমার স্টাফদের সাথে নয়, আমার সাথে কথা বলুন, কী সমস্যা আমাকেই বলুন। কিন্তু উনি আমার সাথে কথা না বলে তার মতো করেই আচরণ করে গেছেন। বলেন ইউএন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এএসপি আফরুজুল হক টুটুলের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

শনিবার রাত ১২ টার দিকে পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনাকেও মোবাইল ফোনে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

একুশে/এইচআর/এটি