বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬

জমির দালাল-আ.লীগ নেতা প্রতিরোধ করবে দুর্নীতি!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯, ৮:০৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় জমির দালাল-আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিদের্শনা অনুসারে উপজেলায় প্রথমবারের মত এ কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।

যদিও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কোন ধরণের ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ডমুক্ত থাকা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হওয়ার দুটি প্রধান শর্ত। কমিটিতে স্বেচ্ছাব্রতী এবং শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের সর্বস্তরের সৎ ও সক্রিয় ব্যক্তিদের রাখার বিধান রয়েছে।

সম্প্রতি কর্ণফুলী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি হয়েছেন মাহবুব আলম তাঁরা। তার পেশা মূলত চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপের হয়ে জমি কেনা-বেচার দালালি। ইদানিং নিজেকে পরিচয় দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে। সে পরিচয়ে ব্যানার পোস্টারও সাঁটান এলাকায়।

অভিযোগ আছে, রাজনীতির মাঠে প্রভাব বিস্তার ও বিরোধপূর্ণ জমি দখল নির্বিঘ্ন করতে মাহবুব আলম তাঁরা গঠন করেছেন একটি গ্রুপও। তাকে সমাজসেবক বিবেচনায় দেয়া হয়েছে কর্ণফুলী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব।

কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা এমএন ইসলামকে। ধর্মীয় প্রশিক্ষক পরিচয়ে কাজী এ এইচএম এহছান উল্লাহকে কমিটির সহ সভাপতি করা হয়েছে। তিনি হলেন মূলত জুলধা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)।

সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মহিউদ্দিন চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও কালারপোল হাজী ওমরা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন।

অধ্যাপক মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ এনে শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ভুক্তভোগীরা।

কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক শেখ আহমদ, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুর রহমান। নারী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে শারমীন সুলতানা ও খালেদা বেগম। তাঁদের নারী উদ্যোক্তা বলা হলেও উপজেলায় তাদের এ সংক্রান্ত কোনো কাজ বা পরিচিতি নেই।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ একুশে পত্রিকাকে বলেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হলেও সেটা দুদকে পাঠানো হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।