বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

ডিগ্রি নেই, তবুও তিনি চক্ষুবিশেষজ্ঞ!

প্রকাশিতঃ সোমবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯, ৮:১১ অপরাহ্ণ

 

আবছার রাফি : চক্ষু বিশেষজ্ঞ না হয়েও মিথ্যা পদ-পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে ডা. ওমর ফারুক নামে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এমবিবিএস পাশ করলেও নেই চক্ষু চিকিৎসার পর্যাপ্ত সনদ। অথচ নিজের নামের সঙ্গে ‘পিজিটি চক্ষু চিকিৎসক ও সার্জন’ জুড়ে সন্দ্বীপে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তিনি।

সন্দ্বীপের যে ৯টি ফার্মেসীতে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন সেগুলো হলো শিবের হাটের আজাদ ফার্মেসী (ইউনিট২), আকবর হাটের জনতা ফার্মেসী, গুপ্তছড়া বাজারের জনতা ফার্মেসী,প্যালিস্যার বাজারের মা ফার্মেসী, পৌরসভা মার্কেটের সোহাগ ফার্মেসী, নাজির হাটের সামীহা ফার্মেসী, তালতলী বাজারের মোস্তফা ফার্মেসী, মা ফার্মেসী ও মা বিতান।

অভিযোগ উঠেছে, মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে চক্ষু চিকিৎসক পরিচয়ে ওই চিকিৎসকের দেয়া ধারণানির্ভর ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতারক চিকিৎসক একদিকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভুল ও অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা।

এই ধরনের ভুয়া ডিগ্রি রোধে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল বিএমডিসি থেকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কোন কোন নিবন্ধিত চিকিৎসক/দন্তচিকিৎসক তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে পিজিটি, বিএইচএস, এফসিপিএস (পার্ট-১), (পার্ট-২), এমডি (ইনকোর্স) (পার্ট-১)-(পার্ট-২), (থিসিস পর্ব), (লাস্ট পার্ট), কোর্স কমপ্লিটেড (সিসি), এম (ইনকোর্স) (পার্ট-১)-(পার্ট-২), (থিসিস পর্ব) (লাস্ট পার্ট), কোর্স কমপ্লিটেড (সিসি) ইত্যাদি এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ফেলোশিপ এবং ট্রেনিংসমূহ যেমন এফআরসিপি, এফআরএইচএস, এফআইসিএ, এফআইসিএস, এফএএমএস, এফআইএজিপি ইত্যাদি উল্লেখ করছেন, যা কোনও স্বীকৃত চিকিৎসা শিক্ষাগত যোগ্যতা নয় এবং বিএমডিসি থেকে স্বীকৃত নয়।

বিএমডিসির দেয়া এমন সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি অমান্য করা ও স্থানীয়দের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. ওমর ফারুক একুশে পত্রিকাকে বলেন, চক্ষু চিকিৎসার জন্য যেসব ডিগ্রি দরকার সবগুলোই আমার আছে। সব নিয়মবিধি মেনেই আমি চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। চক্ষু সার্জন ও পিজিটি’র কোনো সনদ দেখানো যাবে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব আমার আছে। কিন্তু প্রতিবেদক তাকে সনদের কপি মেইলে পাঠাতে বলে আজ দিচ্ছেন, কাল দিচ্ছেন বলে দুই সপ্তাহ পার করেছেন, কিন্তু তিনি তা পাঠাতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজলুল করিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, চক্ষু চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ডিগ্রি না নিয়ে এধরনের চিকিৎসা দেয়া অন্যায়। আমি যেহেতু বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে এই প্রথম জানলাম তাই আমি খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন এস কে ফজলে রাব্বী একুশে পত্রিকাকে জানান, ডা. ওমর ফারুকের সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও চক্ষু চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমাদের অগোচরে ছিলো। আপনারা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন তাই আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উনি কোথায় কোথায় চিকিৎসাসেবা দেন, তার তালিকা বা কোনো প্রেসক্রিপশান আমাকে দিন। আমি যাচাই করে শিগগির ব্যবস্থা নেবো।

একুশে/এআর/এইচআর/এটি