রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬

দিয়াজের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের ‘অপরাজনীতি’!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২, ২০২০, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজনীতি থামছেই না। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর নিজ বাসা থেকে দিয়াজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও এ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়নি তিন বছরেও।

এদিকে এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একশ্রেণীর মানুষ চট্টগ্রাম নগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজনীতি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িয়ে স্ববিরোধী নানা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের বিব্রত করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

কখনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কখনো রাজনীতিবিদ, কখনো ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের এ ঘটনায় জড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও ছাত্ররাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই দিয়াজের পরিবার নানাভাবে দিয়াজের মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করছে বলে অভিযোগ করছেন মামলা সংশ্লিষ্টরা। তারা এ মৃত্যুকে পুঁজি করে বিশিষ্টজনদের বিব্রত করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ারও চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক লীগ আয়োজিত দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে দিয়াজের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বক্তব্য দেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন।

এ সময় তিনি প্রেসক্লাবের ভেতরে মেয়রের ব্যক্তিগত চরিত্রহনন করেও চিৎকার করতে থাকেন। এ নিয়ে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছ্বেদ করতে হয়। মূলত এই চক্রটি আমাকে এ মামলায় জড়িয়েছে। এদের সঙ্গে দুইজন শিক্ষকও জড়িত। তাছাড়া তারা কখনো আমাকে, কখনো ছাত্রলীগের সভাপতি, সাবেক সভাপতিসহ ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযুক্ত করে আসছে। দিয়াজের মৃত্যুর তিন বছর পর এসে তারা বহুল আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীমকেও এ মামলায় আসামী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির আবেদন জানিয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিগত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডিকেও এ ঘটনায় জড়িয়ে বক্তব্য প্রদানসহ নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে নানাভাবে বিব্রত করেছে তারা। আমরা দেখেছি গণমাধ্যমের গুটিকয়েক কর্মীকে খবর দিয়ে এনে কেউ কেউ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞান হয়ে যায়, বিলাপ করে, অনশনে বসে গেছে দিয়াজের বিচারের দাবিতে। রাস্তাঘাটে বিশিষ্টজনদের বিব্রত করে তারা মিডিয়া কাভারেজ নিয়েছে গত তিন বছর ধরে। এছাড়া চবি ছাত্রলীগের কমিটি, শিক্ষকদের কোনো নির্বাচন এলেও তারা সক্রিয় হয়। আমার পিএইচডি ও পদোন্নতির সময়ও তারা বিশেষজ্ঞের ভূমিকা রাখছে।

ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার নেতা নাছির ভাই। ১৯৯০ সাল থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বীর চট্টলার গণমানুষের অভিভাবক আ জ ম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে আওয়ামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছেন। সামনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তারা এখন নেমেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভিত্তিক কোনো এজেন্ডা নিয়ে, এটি এখন স্পষ্ট। মূলত তারা চট্টগ্রামে দিয়াজের মৃত্যুকে পুঁজি করে বিশেষ বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত। চবি ও চট্টগ্রাম নগরে অনৈতিক রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি আলোচনায় থাকতেও তারা দিয়াজের মৃত্যুকে ব্যবহার করছে। এ মামলাটির যদি তদন্ত শেষ না হয় তাহলে এভাবেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তিকে তারা এজেন্ডাভিত্তিক ভিকটিম বানাবে। চট্টগ্রামের কিছু বিশিষ্টজনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পেতে ওই বিশিষ্টজনদের বিব্রত করার মিশনে নেমেছেন তারা। তিনি আরো বলেন, মামলাটির এজাহার দেখলেই দেশের মানুষ বুঝে যাবে মামলাটি যে মিথ্যা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল টিপু একুশে পত্রিকাকে বলেন, উনি (দিয়াজের মা জাহেদা আমিন) গত তিন বছর ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামে বা বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের সামনে শুয়ে পড়েন। একেকবার একেকজনকে ধরে তিনি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। রাস্তাঘাটে হ্যারাসমেন্ট করছেন। উনি যদি মানসিক বিকারগ্রস্থ না হন, তাহলে তিনি পেইড এজেন্ট হয়েই এ ধরনের কাজগুলো করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই মনে করে।

তিনি আরো বলেন, সামনে সিটি মেয়র নির্বাচন। বর্তমানে সিটি নির্বাচন ঘিরে ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তারা নাছির ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দীর্ঘদিন ধরেই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।

টিপু আরো বলেন, দিয়াজ ভাই আমাদের গ্রুপের নেতা ছিলেন, বড় ভাই ছিলেন। আমরা সম্মান করতাম তাকে। উনার বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। আইনী প্রক্রিয়ায় এটি সমাধান হবে। এখনতো আর দিয়াজ ভাই ইস্যু নেই। এখন তারা নিজেদের রাজনৈতিক নোংরা মানসিকতার কারণে নোংরা কাজগুলো ক্রমাগত করেই যাচ্ছেন। আ জ ম নাছির জননেতা, জননন্দিত নেতা। উনাকে নিয়ে অতীতেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল, এখনো চলছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি, হবেও না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বাংলার মুখ গ্রুপের একটি অংশের উপর প্রভাব বিস্তার করছে দিয়াজের পরিবার। বাংলার মুখ গ্রুপটির নেতাকর্মীরা সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী দাবি করলেও মূলত এই গ্রুপটির একটি অংশ দিয়াজের পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট। এরা বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন বিব্রত করলেও এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ বাংলার মুখ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। দিয়াজের বোন জোবাঈদা ছরওয়ার নিপার সহযোগী হিসেবে পরিচিত বাংলার মুখ গ্রুপের নেতা মাসুদ খান দুর্জয় একুশে পত্রিকাকে বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। বাংলার মুখ গ্রুপের অপর নেতা চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ মামুনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনে ইতোমধ্যে নিজেদের একটি বলয় সৃষ্টি করেছে দিয়াজের পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দিয়াজের পরিবারের সদস্যদের কথায় ‘উঠাবসা’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতার অভিযোগ, অন্যান্য মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় রয়েছে। এসব মামলার আসামীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তির বেশ কিছু ছবিও দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রলীগের সঙ্গে হওয়া প্রক্টরিয়াল বডির বৈঠকে দিয়াজ হত্যা মামলার আসামীদের দেখে চবি প্রশাসনের দায়িত্বপালনকারী একজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। অথচ দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিরা এখনো চার্জশিটভুক্ত নন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিয়াজের পরিবারের কথা অনুযায়ী ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং করছে।

এদিকে মামলার এজাহারে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন উল্লেখ করেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মায়ের কাছ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদ, তৎকালীন সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জন দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা দিয়াজকে হত্যারও হুমকি দিয়ে আসছিল। দুই লাখ চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় দিয়াজের ঘরে গত ৩১ অক্টোবর রাতে লুটপাট চালিয়েছিল টিপুরা। এমন দুষ্কর্মের ধারাবাহিকতায় আসামিরা ১০ জন মিলে দিয়াজকে হত্যা করেছে।’

অথচ দিয়াজের মৃত্যুর পরদিন দিয়াজের মামা রাশেদ বিন আমীন, দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার নিপার স্বামী ছরোয়ার আলম দাবি করেছিলেন, টেন্ডারের সমঝোতার ২৫ লাখ টাকার চেকের অর্থ পরিশোধ না করতেই ছাত্রলীগের একটি অংশ দিয়াজকে হত্যা করেছে। এ সময় জাহেদা আমিনও ২৫ লাখ টাকার টেন্ডারসহ ছাত্রলীগের গ্রুপিংকে দায়ী করেছিলেন। কিন্তু মামলায় টেন্ডারবাজির ২৫ লাখ টাকার চেকের কথা এড়িয়ে গিয়ে ‘দুই লাখ টাকা চাঁদা’র কথা উল্লেখ করায় দিয়াজের মৃত্যুর কারণ নিয়ে খোদ প্রশ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরাই।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদ, ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি আলমগীর টিপু, সিনিয়র সহ সভাপতি মনসুর আলম, সহ সভাপতি আবদুল মালেক, যুগ্ম সম্পাদক আবু তোরা পরশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি আলমগীর টিপুর ভাই মোহাম্মদ আরমান, দিয়াজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম জিসান, আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদস্য আরেফুল হক অপু এবং অজ্ঞাত নামা আরও কয়েকজন মিলে দিয়াজের মায়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির যৌক্তিকতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতিসহ দশ জন মিলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যদি চাঁদা দাবি করা হয় তাহলে এক জনের ভাগে পড়বে বিশ হাজার টাকা। আবার দীর্ঘদিন ধরে সবাই মিলে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসলেও দিয়াজ কিংবা তার পরিবারের কেউ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা থানা-আদালতে এ বিষয়ে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন কেন অভিযোগ করেননি।

তাদের প্রশ্ন, দিয়াজের ঘরে লুটপাটের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় যে মামলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে সে মামলায়ও দিয়াজের মায়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই কেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, দিয়াজের বাবাও চবিতে চাকরি করেন। দিয়াজ যদি খুন হয়ে থাকে তাহলে তার বাবা কেন কখনো সন্তান হত্যার বিচার চাইলেন না?

এদিকে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর দিয়াজের মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ এটিকে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলায়ও হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত করে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে দিয়াজের পরিবারের দায়ের করা সিআর মামলাটি সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের আদেশ দেয় আদালত। এসময় ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগকে দিয়াজের মরদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তেরও আদেশ দেয় আদালত। ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ দিয়াজের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

এর প্রায় সাত মাস পর ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগ রিপোর্ট দেয়, দিয়াজের শরীরে আঘাতে চিহ্ন ও হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। যদিও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোমাতে চলে যাওয়ার পর দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোমাতে যাওয়ার জন্য ব্রেইনে যে আঘাতের উপস্থিতি থাকা দরকার তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই এ প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা

এদিকে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর দিয়াজকে তার স্ত্রীর তালাক দেওয়া, চবি ছাত্রলীগ উপ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক সায়মা জেরিন প্রিয়াংকার সঙ্গে প্রেম নিয়ে টানাপোড়েন, টেন্ডারের ২৫ লাখ টাকা চেক নিয়ে ছাত্রলীগের নিজ গ্রুপের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে শত্রুতাসহ নানা বিষয় সামনে আসে দিয়াজের মৃত্যুর পর।

এর মধ্যে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর আদালত দিয়াজের মায়ের দায়ের করা সিআর মামলাটি হাটহাজারী থানাকে এফআইআর হিসেবে নিতে আদেশ দেয়। আদালত মামলাটির তদন্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে সিআইডিকে নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু তিন বছরেও এর কোনো সুরাহা করতে পারেনি সিআইডি।

দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরীর দাবি, দিয়াজ হত্যার বিচার ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। চাপের কারণে সিআইডি চার্জশিট দিতে পারছে না।

দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে এখনো অন্ধকারে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, এখনো পর্যন্ত কনক্লুসিভ কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বিধায় আমরা মামলাটি শেষ করতে পারছি না। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে আমরা মামলাটির তদন্ত শেষ করবো।

### দিয়াজ মৃত্যু-রহস্য : ঢামেকের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন