শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬

মোছলেম উদ্দিন আহমেদ : একজন সংগ্রামীর অজানা অধ্যায়

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ৬, ২০২০, ৮:০১ অপরাহ্ণ


মাসুদ ফরহান অভি : বীর বাঙালির কথা আসলেই ঐতিহাসিক কারণেই চলে আসে বীর চট্টলার কথা। বৃটিশ-বেনিয়া আর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে ভয়ঙ্কর এক দূর্গের নাম চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, বিনোদ বিহারীরা এই চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছিল বৃটিশ শাসকদের। বিদ্রোহের রক্ত নিয়ে বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের বীর সন্তানরা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও দেখিয়েছিলেন দাপট। তাদের দাপট আর কৌশলের কাছে তটস্থ থাকতে হয়েছিল রণসাজে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে। চট্টগ্রাম বন্দরের ‘অপারেশন জ্যাকপট’, সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস, ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা প্রথমবারের মতো সলিমপুর ওয়ারল্যাস স্টেশনে প্রেরণ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবি আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কারণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চট্টগ্রাম একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রাম শহরে তরুণদের নিয়ে গঠিত গেরিলা বাহিনী ছিল পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অন্যতম আতংক। এসব কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ নের্তৃত্বে ছিলেন তরুণেরা। তরুণদের গোটা চট্টগ্রাম জুড়ে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠিত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। মৌলভী সৈয়দ আহমেদ, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এসএম ইউসুফসহ বীর চট্টলার মানুষের অহংকার করার মত যে ক’টি নাম আছে সে নামের তালিকার শুরুর দিকেই রয়েছে মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নাম। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে মানুষগুলোর নের্তৃত্বই এ অঞ্চলকে করেছে সমৃদ্ধ করেছে সে তালিকায়ও রয়েছে মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নাম।

রবী ঠাকুরের কবিতায় যদি বলি, ‘আকাশতলে উঠল ফুটে আলোর শতদল/পাপড়িগুলি থরে থরে ছড়ালো দিক্-দিগন্তরে/ ঢেকে গেলো অন্ধকারের নিবিড় কালো জল’। এই মোছলেম উদ্দিন আহমেদরা মুক্তিসেনার দলকে সংগঠিত করেছিল বলেই এই চট্টগ্রামের খ্যাতি মিলেছে বীর চট্টলা হিসেবে। বর্গি যখন হামলে পড়লো তখন তারা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা, আবার উন্নয়নের কর্মী হিসেবে পাপড়ি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশ গড়ায় মগ্ন হলেন তারাই। পাকিস্তান কর্তৃক রেখে যাওয়া তলাবিহীন ঝুড়ি রাষ্ট্রের অন্ধকার মেঘ কাটিয়ে মুক্তিযোদ্ধারাই আলো ফুটিয়েছিল।

নিজের মেধা, মনন, সাহসিকতা আর দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ স্কুল জীবন থেকেই প্রতিনিয়ত রাজপথের ধুলো মাখিয়েছেন শরীর জুড়ে। তিনি ছিলেন ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মিছিলের অগ্রভাগের বিপ্লবী। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সমাবেশে কিংবা ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানে ছিল মোছলেম উদ্দিনের সক্রিয় অংশ গ্রহণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় সংগঠকের ভূমিকা পাশাপাশি বাংলার স্বাধীকার আদায়ের প্রতিটি সংগ্রামে মোছলেম উদ্দিন বীর চট্টলার একটি অনন্য সাহসী নাম। আমার বাবা জামাল উদ্দিন চৌধুরীও চট্টগ্রামের একজন মুক্তিযোদ্ধা। বাবার মুখেও মৌলভী সৈয়দ, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিনের নানা কৃতিত্বের গল্পও আমরা শুনেছি। বিশেষ করে কালুরঘাট সেতু এলাকায় পাক-বাহিনীকে পরাস্ত করার ইতিহাস আলোচনায় এলেই মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমেদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের বিষয়টি উঠে আসে বাবার মুখে।

শতাধিক বছরের যাতাকলে পিষ্ট জাতি টুঙ্গিপাড়ার ভিজেমাটিতে জন্ম নেয়া যে বিপ্লবীর শাণিত উচ্চারণে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তির নেশায় রক্তে আগুন ধরিয়েছিল, যার ইশারায় ৩০ লক্ষ সন্তান রক্ত ঢেলে স্বাধীনতা আনলো, সেই বঙ্গবন্ধু মুজিবকে হত্যার পরক্ষণে বীর চট্টলার সন্তানেরাই সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে। বাঁশখালী থানা এলাকার সন্তান চট্টগ্রাম যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি মৌলভী সৈয়দের নের্তৃত্বে সেই বিদ্রোহের সম্মুখভাগেও ছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগদানসহ সামরিক শাসকদের পা চাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল অনেকে, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কর্মী চট্টগ্রাম যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী সৈয়দ আহমেদের নের্তৃত্বে মোছলেম উদ্দিন আহমদেসহ হাতেগোনা কয়েকজন সামরিক শাসক মোশতাকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে।

১৯৭৬ সালের ১১ আগস্ট ভারত সীমান্ত থেকে সামরিক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন মৌলভী সৈয়দ। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মৌলভী সৈয়দের লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাঁশখালীর লালজীবন গ্রামে, তাঁর বাড়িতে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই কবর খুঁড়ে সেদিন তাঁর দাফনের ব্যবস্থা করেছিল। মৌলভী সৈয়দকে ঘিরে যেন কোন আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্য টানা এক মাস তৎকালীন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা পাহারা দিয়েছিল তাঁর কবর। ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী হিসেবে মৌলভী সৈয়দের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেতা মৌলভী সৈয়দকে হত্যা করা হলেও উত্তরসূরী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ থেমে থাকেননি। এক পর্যায়ে তাকেও গ্রেফতার করে সামরিক সরকার। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে আসা মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে নানা সরকারি দায়িত্বের লোভ দেখিয়েছিল তৎকালীন সামরিক সরকার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ আশীর্বাদ পেয়ে বেড়ে ওঠা মোছলেম উদ্দিন এসব দায়িত্বকে প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

দেশমাতৃকার জন্য ছাত্রজীবন থেকে নিবেদিত প্রচার বিমুখ এই মানুষটির সমৃদ্ধ ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মনিয়োগের আহ্বান জানালে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রাম পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নগরের নানা সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেন। তিনি দুই দফায় চট্টগ্রাম পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে সংগঠিত করার পাশাপাশি তিনি ওই অঞ্চলে মানুষের ভালবাসাও অর্জন করেছেন অনন্যভাবে।

বোয়ালখালীর কদুরখীলে জন্ম নিলেও চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নেও যুদ্ধপরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের কঠিন কালপরিক্রমায় নির্লোভ-নির্মোহ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মোছলেম উদ্দিন কাজ করছেন দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দুরূহ ব্রত নিয়ে। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন।

এবং ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাক্কালে মোছলেম উদ্দিন ছাত্রদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন নগরজুড়ে। ১৯৭০ সালে তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বোয়ালখালী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে সম্মুখভাবে নেতৃত্ব দেওয়া মোছলেম উদ্দিন আহমেদ চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সাত মাস কারাভোগ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী মোছলেম উদ্দিন এই বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটেরও সদস্য ছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজের পরিচালক থাকাকালীন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। হযরত খাজা গরীবুল্লাহ শাহ মাজার ওয়াকফ স্টেটের দীর্ঘ দিন ধরে মোতোওয়াল্লীর পাশাপাশি সাত বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। বোয়ালখালীর বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী স্যার আশুতোষ কলেজ, সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ, চট্টগ্রাম শহীদ নগর সিটি করপোরেশন গার্লস হাইস্কুল, গোমদন্ডী পাইলট হাইস্কুল, কদুরখীল স্কুল এন্ড কলেজ, পূর্ব কদুরখীল স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমৃদ্ধ রাজনৈতিক জীবন প্রতিষ্ঠা, উচ্চশিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে শিক্ষানুরাগী হিসেবে খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও মোছলেম উদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এক বর্ণাঢ্য চরিত্রের নাম। এমন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শুধু নয়, গোটা চট্টগ্রামে আছে হাতেগোণা দু-এক জন। আজ বীর চট্টলার কথা এলেই সামনে চলে আসে মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামও।

২০০৯ থেকে অদ্যবধি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যবদলের দায়িত্ব নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সামষ্টিক আর্থ-সামাজিক সকল নিয়ামক বিবেচনায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সমাদৃত। বিশ্বের সফল রাষ্ট্রনায়কদের তালিকার শীর্ষভাগে সুপ্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সহচার্য পাওয়া মোছলেম উদ্দিন আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বকেই চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন।

চট্টগ্রামের গণমানুষের প্রাণের একটি দাবি আজ মিছিলে-স্লোগানে, মাঠে-ঘাটে, মুখে মুখে- তা হল কালুরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর উপর নতুন সড়ক সেতু নির্মাণ। পত্রপত্রিকায় আমরা নানাভাবে এ সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখেছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরের পক্ষ থেকে এ সেতু নির্মাণের ব্যাপারে আন্তরিকতা দৃশ্যমান হয়েছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনের মানুষের এ দাবিটি এখন যৌক্তিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে হৃদয়ের সবটুকু আবেগের সঙ্গে মিশে গেছে। মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকও এই কালুরঘাট সেতু। শুধু তাই নয়; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন নম্বর পাঁচলাইশ, চার নম্বর চাঁন্দগাও, পাঁচ নম্বর মোহরা, ছয় নম্বর পূর্ব ষোলশহর ও সাত নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডও সরকারের অন্যান্য এলাকার উন্নয়নের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে।

এ অঞ্চলের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে। সরকারদলীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সভাপতির দায়িত্বপালনকারী মোছলেম উদ্দিন আহমেদকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে পেয়ে এ অঞ্চলের রাজনীতি সচেতন ও গণমানুষ যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি তাঁর কাছে জনগণের প্রত্যাশার পারদও ঊর্ধ্বমুখী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু বোঝা গেছে, সরকার পরিবর্তনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের এ উপ নির্বাচন কোনো ভূমিকা রাখবেনা- এমন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হওয়ায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনের প্রতিই ঝোঁক বেশি এ অঞ্চলের ভোটারদের। তাই বীর চট্টলার এই বীর সেনানী যদি নির্বাচিত হন তাহলে তার হাত ধরে এ জনপদ কতটা সমৃদ্ধ হবে তা দেখার অপেক্ষায় চট্টগ্রামের মানুষ।

লেখক: সাবেক সহ সভাপতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি