শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

থামানো যাচ্ছে না বড়শি-জুয়াড়িদের, কাল বসছে ভেলুয়ার দিঘীতে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৯, ২০২০, ৫:৩২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের ভেলুয়ার দিঘীতে আগামীকাল শুক্রবার বড়শি প্রতিযোগিতার নামে আবার জুয়ার আয়োজন করা হয়েছে। বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়া নিয়ে একুশে পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর প্রশাসনের তৎপরতায় গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভেলুয়ার দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডবলমুরিং থানাধীন ভেলুয়ার দিঘীটি রেলওয়ের মালিকানাধীন। এই দিঘীতে তেমন কোন মাছ নেই। প্রতিযোগিতার আগের দিন বিভিন্ন সাইজের ২০-২৫টি কাতল মাছ ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর যিনি সবচেয়ে বড় কাতল মাছ ধরতে পারবেন তাকে ৬ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হয়।

দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ, তৃতীয় পুরস্কার আড়াই লাখ এভাবে ১২টি পুরস্কার বাবদ সর্বোচ্চ ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। পুরস্কার পেতে হলে কাতল মাছই ধরতে হয়। প্রায় সময় কাতল মাছ ১২ জন ধরতে পারেন না, এমনকি সারাদিনে একটি মাছও পান না এমন অনেক টিকিট ক্রেতা থাকেন।

আগামীকাল শুক্রবারও কথিত বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১১০টি টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৪৪ লাখ টাকায়, প্রতিটি টিকিটের দাম ৪০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা যদি পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়, তাহলে আবার আয়োজকদের লাভ হবে কমপক্ষে ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে চক্রটি এভাবে আয়োজন করছে, আর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

একজন প্রবীণ মৎস্য শিকারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, আগে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, টিকিটের দামও কম ছিল, মাছও থাকতো পুকুরে, দিঘীতে। এখন বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে স্রেফ ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়া খেলা চলছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ভেলুয়ার দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে সেটা আমি জানি। কিন্তু সেখানে প্রতিযোগিতার আড়ালে যে এক ধরনের জুয়া চলছে, সেটা আমি এখন জানলাম। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

এর আগে বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়ার আসর বসানো নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে একুশে পত্রিকার আনোয়ারা প্রতিনিধি জিন্নাত আইয়ুবকে গত ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাতরী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। একইদিন আনোয়ারা থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন সাংবাদিক জিন্নাত আইয়ুব।

প্রসঙ্গত আনোয়ারার চাতরি ফতেহ খাঁন দিঘী, লামার হারেছ লেকসহ বিভিন্নস্থানে বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়ার আয়োজন নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর ‘বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জমজমাট জুয়া’ শিরোনামে একটি বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা। এরপর চাতরি ফতেহ খাঁন দিঘীতে বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়ার আয়োজন বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন আনোয়ারার ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমেদ। এ নিয়ে পরদিন আনোয়ারায় বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে জুয়া, বন্ধ রাখতে বললেন ইউএনও শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা।

কিন্তু ইউএনও’র নির্দেশনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ১০ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শুধু তাই নয়, একুশে পত্রিকার প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকিও দেয় চাতরী ফতেহ খাঁন দিঘীর মালিক আখতারুজ্জামানের ছেলে সরোয়ার জামান সুজন। বিষয়টি তুলে ধরে ‘আনোয়ারার ইউএনওকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল জুয়াড়িরা!’ শিরোনামে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় একুশে পত্রিকায়। এরপর ইউএনও’র তৎপরতায় আনোয়ারায় আপাতত কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।

এরপর থেকে নগরের ভেলুয়ার দিঘীতে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে একটি চক্র। এই চক্রের প্রধান আবু তালেব একুশে পত্রিকার কাছে দাবি করেছেন, তিনি আইন মেনে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন।