সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

সকাল হলেই চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোট, ব্যাপক নিরাপত্তা

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১২, ২০২০, ৮:০৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম: কাল সোমবার সকাল হলেই শুরু হবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়ামে অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্বাচন উপকরণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে।

উপ-নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির একই জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

অন্য প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত।

এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার। আর শহরে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১হাজার ৯৮৮জন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং, পোলিং মিলিয়ে ৩ হাজার ৭৬৭ জন নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। নগরী ও উপজেলায় ১৭০টি কেন্দ্রের ১ হাজার ১৯৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ইভিএম পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সেনা সদস্যরা থাকবেন। একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৯ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

এছাড়া নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যের সমন্বয়ে ১৪টি মোবাইল ফোর্স, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৬ প্ল্যাটুন এবং ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ২ জন জুডিসিয়াল ও ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে শহর অংশে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর সমসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট বোয়ালখালীতেও থাকবে ভোটের দিন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। আমরা ইতোমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

বাংলাদেশ জাসদের নেতা মইন উদ্দিন খান বাদলের মৃতুতে আসনটি শূন্য হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাদল জোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ শরিকদের আসনটি ছাড়েনি।

এদিকে সংঘাত ঠেকানো এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন নানা ব্যবস্থা নিলেও প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষ প্রার্থী বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসী ও আসামিদের জড়ো করছেন বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ। তিনি নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলছেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের দিন এলাকায় না থাকার জন্য, ভোটের কাজে অংশগ্রহণ না করার জন্য হুমকি চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ১ হাজার ২৫০ জন পুলিশ ও ৮৪০ জন আনসার সদস্য বোয়ালখালীতে মোতায়েন করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সুন্দর নির্বাচন হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর কিছু ঘটার কারণ নেই। সংঘাত হলে মোকাবিলার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য নগরীতে প্রায় ১৭০০ পুলিশ সদস্য রোববার দুপুরের পর থেকে ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন রয়েছে।