বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭

বিফলে যায়নি মোছলেমের কান্না, যেতে হয়নি খালি হাতে!

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২০, ১০:১৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) সংসদীয় আসনের উপ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে কেঁদে দিয়েছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

গত ২৮ নভেম্বর একুশে পত্রিকায় এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমি তো মনে করেছিলাম জীবন-সায়াহ্নে এসে আমাকে হয়তো খালি হাতে যেতে হবে। এসময় ঢুকরে কেদে দেন তিনি।

বলেন, ‘আমি তো মনে করেছিলাম জীবন সায়াহ্নে এসে আমাকে খালি হাতে চলে যেতে হবে। আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। আবার নির্বাচনের একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি দেশের মানুষ আমাকে দিয়ে কাজ করাতে পারবে। এবং আমাকে একটিবার সুযোগ দেয়া উচিত।’

তাঁর কান্নার এই ভিডিওটি একুশে পত্রিকার কল্যাণে ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই সহানুভূতিশীল হয়েছেন তাঁর প্রতি। তবে রাজনীতি-সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এটিকে ভালো চোখে দেখেননি। বলেছিলেন, এমপি হওয়ার জন্য বাচ্চার মতো কেঁদে দেওয়ার কী আছে। এতে করে মোছলেম সাহেব বরং ছোট হয়েছেন।

এরপর গত ৯ ডিসেম্বর শক্তিশালী অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুচ ছালাম ও সেলিনা খান বাদলকে পিছনে ফেলে ঠিকই মনোনয়ন পেয়ে যান মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। মনোনয়ন পাওয়ার দিন একুশে পত্রিকার সাথে কথাচ্ছলে বিষয়টি বলেই ফেলেছিলেন মোছলেম উদ্দিন; ‘আপনাদের (একুশে পত্রিকা) করা কান্নাজড়িত ভিডিওটি আমার জন্য অনেক কাজ দিয়েছে। অনেকে ভিডিওটি দেখেছেন, এমনকি গণভবনেও অনেকেই এব্যাপারে আমাকে জানতে চেয়েছেন।’-এমনতর উচ্ছ্বাস প্রকাশের পর একুশে পত্রিকার অব্যাহত সহযোগিতা চান মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।

কিন্তু দিনশেষে তাঁকে আর খালি হাতে যেতে হয়নি। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত উপ নির্বাচনে ৭৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো এমপি হলেন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পটিয়া আসন থেকে আওয়ামী লীগের দুদুবার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি প্রার্থী গাজী শাহাজাহান জুয়েলের কাছে পরাজিত হন মোছলেম উদ্দিন আহমেদ।


একুশে/এটি