শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান সুজনের

জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময়

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২০, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সাথে মতবিনিময় করছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন

 

চট্টগ্রাম : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিবাণিজ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের প্রতি আহ্বান জানান জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ, রমজান মাসে খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল রোধ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা চালুসহ বিভিন্ন বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল কলেজে ভর্তি, পুনঃভর্তির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সে সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বেতন, ফিসহ অন্যান্য আদায়কৃত অর্থ কি খাতে খরচ করা হচ্ছে তার কোন স্বচ্ছতা নাই। বর্তমানে নগরীতে সরকারি স্কুল কলেজের সংকটকে পুঁজি করে এ সকল স্কুল কলেজে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন উপলক্ষের নামেও টাকা নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অডিটও করা হয় না। সরকারি ব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানে অডিট এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট বিনীত আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন রমজানকে টার্গেট করে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীরা এখন থেকেই ভোজ্য তেল, সেমাই, লাচ্ছা সেমাই, নুডুলস, ঘিসহ প্রয়োজনীয় ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। আসন্ন রমজানে জনগণ যাতে কোন প্রকার ভোগান্তি কিংবা হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর প্রয়োজনীয় মওজুদ নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন প্রথমেই নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করেন। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে বর্তমান সরকার সদা সচেষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও জনগণের কল্যাণে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয় জনগণকে কেন্দ্র করে। তাই আমরাও সরকারের একটি অংশ হিসেবে কাজ করছি।

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল কলেজ নানা প্রকার অনিয়মের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময়ই সোচ্চার। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ফি আদায় করে তাহলে সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ হাজী মো. ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, নগর যুবলীগ সদস্য আব্দুল আজিম, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, অধ্যক্ষ কামরুল হোসেন, সোলেমান সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, অনির্বাণ দাশ বাবু, নাছির উদ্দিন, সফি আলম বাদশা, হাসান মো. মুরাদ, রকিবুল আলম সাজ্জী, উৎপল দত্ত, সালাউদ্দিন জিকু, কামরুল হাসান রানা, আব্দুল মালেক প্রমূখ।

একুশে/এএ