শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

মেয়র হতে চান বাবা-ছেলে দুজনই!

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

ঢাকা : আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবা-ছেলে দুজনই মেয়র হতে চান। তাই মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার জ্যেষ্ঠ পুত্র চান্দগাঁও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা, তরুণ শিল্পপতি মুজিবুর রহমান।

এদিকে, বাবা-ছেলের একইসাথে মেয়র হতে চাওয়া নিয়ে রাজনীতিতে রীতিমতো হাস্যরস তৈরি হয়েছে। শুধু তা নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মহলে এ নিয়ে হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা।

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন নামে ফেসবুকে একজন লিখেছেন, নুরুল ইসলাম বিএসসি সাহেব, আপনার কি এখনো সে বয়স আছে? আর আপনি তো একসময় মন্ত্রী ছিলেন! অন্যদেরকে সুযোগ করে দেয়া কি আপনার সমীচিন নয়? আপনারা এভাবে যদি বারবার পদের জন্য দৌড়াদৌড়ি করেন বাকী যারা সারাবছর মাঠে, ময়দানে আছে তারা কোথায় যাবে?

’৮০ দশকে দেশের প্রথম সারির শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ওই সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে আসীন হয়ে সরাসরি দলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দুবারই পরাজিত হন। ২০০১ সালে মনোনয়নবঞ্চিত হলেও ২০০৮ এর নির্বাচনে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জোটগত স্বার্থে দলের মনোনয়ন পান জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। সরকার গঠনের দেড় বছরের মাথায় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে মনোনয়ন-বঞ্চনার পুরস্কার পান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী হয়ে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর কোতোয়ালী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সেই থেকে ৮২ বছর বয়সেও নুরুল ইসলাম বিএসসি আশায় বুক বেধেছেন মনোনয়ন-বঞ্চনার স্বীকৃতি হয়তো তিনি পাবেন। আগের মতোই নেত্রী তাকে ডেকে নিয়ে মন্ত্রীসভায় বসাবেন। এক্ষেত্রে বিএসসি সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, ২০০৮ সাল থেকে যারা এমপি-মন্ত্রী, তারা এখনো এমপি-মন্ত্রী। সেই দিক বিবেচনায় নুরুল ইসলাম বিএসসি ৫ বছর এমপি এবং সাড়ে তিনবছর টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতাসীন অন্য অনেকের চেয়ে রাজনীতিতে ত্যাগ, অবদান বেশি হওয়ার পরও বিএসসি ক্ষমতার বাইরে। এই যুক্তিতেই তিনি মনোনয়ন নিয়েছেন। কিন্তু কোন যুক্তিতে তার ছেলেও একই পদের জন্য মনোনয়ন নিয়েছেন সেই ব্যাখ্যা অবশ্য খোদ তাদের কাছেও নেই।

রাজনীতি-সচেতনদের মতে, রাজনীতিবিদদের উত্তরাধিকারদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে যাওয়ার যে অসম প্রতিযোগিতা ও সংস্কৃতি রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তার বাইরে নন বিএসসি সাহেবও। সন্তানকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকে গেলো সংসদ নির্বাচনেও চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছিলেন বিএসসি-পুত্র মুজিবুর রহমান। কিন্তু মনোনয়ন দূরের কথা, আলোচনায়ও ছিলেন না মুজিবুর রহমান।

এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অন্য রাজনীতিকদের সন্তানরা যেখানে কিছুটা হলেও নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পেরেছেন, সেই নিরিখে মুজিবুর রহমানের ভাবমূর্তি খুব বেশি গণ্য করার মতো নয়। উপরন্তু ভূমিদখলসহ নানা জটিলতায় জড়িয়ে বদনাম তৈরি হয় বিএসসি-পুত্রের।

মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন ফরম কেনা বাবা-পুত্র কারো সঙ্গেই এব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বুধবার বিকেলে থেকে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।