বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭

দিপুর পটিয়ার বাড়িতে যেন উৎসব

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ


কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম): যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য শাহাদাত হোসেন দিপুর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপে চলছে উৎসবের আমেজ।

বিশ্বকাপ জয় উপলক্ষে দিপুর গ্রামের বাড়ি হাবিলাসদ্বীপের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ মিছিল হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে পথে ঝুলছে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন; সর্বত্র বইছে আলোচনার ঝড়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিপু হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে থাকেননি। তার বাবা আবদুস ছবুর ছিলেন পেশায় একজন গাড়িচালক। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাড়িচালক ছিলেন। সেই সুবাদে পরিবার নিয়ে শহরে থাকতেন। তবে বছরে কয়েকবার গ্রামে বেড়াতে আসেন তারা। ওই সময় গ্রামের কিশোরদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। এলাকার মাঠে ক্রিকেটও খেলেন।

দিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সেমিপাকা ঘরে কেউ না থাকায় দিপুর দুই চাচা পরিবার নিয়ে থাকেন। এ সময় দিপুর চাচী মনোয়ারা বেগম, নাসিমা বেগম জানান, দিপু পড়াশুনার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই ক্রিকেট খেলতো। গ্রামে থাকি খেলাধুলা বুঝি না, তারপরও আমাদের পরিবারের সন্তান বিশ্বকাপ জিততে অবদান রেখেছে, তাতে আমাদের মন ভরে গেছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিপু যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন, এ খবর টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জানে গ্রামবাসী। বিশেষ করে গ্রামের কিশোররা বেশি খবর রাখে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামের মানুষ বাজারে গিয়ে রাকিবুলের খেলা দেখেছে।

গ্রামে ঢুকতেই দেখা হয় এমদাদ, শহিদ ও ইকবালের সঙ্গে। তারা চারজনই চরকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের ছেলের এমন কৃতিত্বে তারাও বেশ খুশি।

ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। আর সে দলেরই একজন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার চরকানাই গ্রামের শাহাদাত হোসেন দিপু। মুজিববর্ষের সূচনা লগ্নে জুনিয়রদের এই শিরোপা অর্জন বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

আর এই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম সেনানী পটিয়ার খুদে টাইগার শাহাদাত হোসেন দিপু। এই বিশ্বকাপ জয়ের ফলে সারা দেশে আনন্দের যে ঝড় উঠেছে তার ঝাপটা লেগেছে দিপুর বাড়িতেও। দিপুর আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-পড়শি, বন্ধু-বান্ধব সবাই এসে ভিড় করছে তার বাড়িতে।

দিপুর পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতো দিপু। যার কারণে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনযোগ ছিল। দিপু ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তিন বোনই বিবাহিত ও বড় ভাই আবুল হোসেন বাবু ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। অপরদিকে দিপুর মা গৃহিনী ফেরদৌস বেগমও ছেলের এই কৃতিত্বে মহাখুশি।

দিপুর বাবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরির কারণে পুরো পরিবার ১৯৮৩ সালে থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভাড়া বাসায় থাকত। বর্তমানে নগরীর শুলকবহর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তারা থাকেন। ২০১০ সালে শাহাদাতের পিতা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যখন মারা যায়, তখন দিপুর বয়স আট বছর। তখন থেকেই দিপু ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগী হয়।

শাহাদাত হোসেন দিপুর মা ফেরদৌস বেগম বলেন, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলতে শাহাদাত হোসেন দিপু গত ১ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে রওনা হয়। দিপুর এই কৃতিত্বের পেছনে আমার বড় ছেলে আবুল হোসেন বাবুর অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দিপু শুধু আমার ছেলে নয়, সারা বাংলাদেশের ছেলে। আমি তার জন্য, তার দলের জন্য দোয়া করি। তারা যেন আগামীতে আরো এগিয়ে যেতে পারে।

জানা যায়, জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নুরুল আবেদীন নোবেলের হাত ধরেই ক্রিকেট জগতে দিপুর পর্দাপণ। ইস্পাহানী ক্রিকেট একাডেমি থেকেই উঠে আসা দিপু এবার জয় করল বিশ্বকাপ। এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দারুণ খেলেছেন দিপু। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে করেছিলেন ১৬ রান। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ৪০ রান। বাংলাদেশ দলের এই বিশ্বকাপ জয়ে পটিয়ার ছেলে দিপুর ভূমিকা ছিল দেখার মতো। পটিয়ার ক্রিকেটের প্রিয়মুখ দিপু যুব বিশ্বকাপ দলে টাইগারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে কোন ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। বাকি সবগুলো ম্যাচই জিতেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপে তিন প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় আসে ৯ উইকেটে।

এরপর স্কটল্যান্ড উড়ে যায় ৭ উইকেটে। আর সে ম্যাচে স্পিনার রাকিবুল হাসান করেছিলেন হ্যাটট্রিক। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচটি। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে আকবর-শামীম-দিপুরা হয় গ্রুপের সেরা দল।