শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

কেপিএমে পুরাতন স্ক্র্যাপের আড়ালে নতুন যন্ত্রাংশ পাচার!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০, ১:৫২ অপরাহ্ণ

 

কাপ্তাই প্রতিনিধি : কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পেপার মিল্স লি. (কেপিএম) থেকে রাতের আঁধারে পুরাতন স্ক্র্যাপ যন্ত্রাংশের আড়ালে কয়েক লাখ টাকার যন্ত্রাংশ পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় আটক হয়েছে ৩টি ট্রাক।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামের সাগরিকাস্থ মেসার্স ইকবাল এন্ড ব্রাদার্স ক্র্যাপ যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে কেপিএম’র সাথে আঁতাত করে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ পাচারের খবর পেয়ে আমরা চট্টগ্রামমুখী এই ট্রাকগুলো সন্ধ্যার পর কেপিএমের মূল ফটকে গতিরোধ করি। আটকৃক ট্রাকগুলোতে দেখি স্ক্র্যাপ যন্ত্রাংশের পাশাপাশি নতুন যন্ত্রাংশও পাচার করা হচ্ছে।

কাপ্তাই থানা পুলিশের এসআই মো. খলিল জানান, মালামাল গ্রহিতা গেইটপাশ ছাড়া গাড়িভর্তি মালামালের বৈধ কোন কাগজপত্র তাৎক্ষণিক দেখাতে পারেনি। এসময় উত্তেজিত জনতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে দ্রুত থানা হেফাজতে নিয়ে আসি।

ঘটনার পর ওই দিন চন্দ্রঘোনা ইউপি কার্যালয়ে রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় প্রশাসন ও কেপিএম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা সদরে উপস্থিত হলেও এ পর্যন্ত কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, কেপিএমের যোগসাজসে এসব যন্ত্রাংশ পাচারের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাতভর গোপন বৈঠক করে বিভিন্ন কাগজ হাতে ঘষামাঝার মাধ্যমে তৈরি করে কেপিএম কর্তৃপক্ষ। যার ফলশ্রুতি হিসেবে সকালে কেপিএমের প্যাডে বিসিআইসির ভুয়া সভার কথা উল্লেখ করে এবং সচিবের সাক্ষর জাল করে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সকলের সামনে কাগজ উপস্থাপন করে।

কেপিএমের ব্যবস্থাপক আহসান আলী ভূঁইয়া জানান, ট্রাকভর্তি আটক মালামালের বিসিআইসি কর্তৃক বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও বৈধ উপায় অবলম্বন করে করা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিলস থেকে মালবাহী ৩টি ট্রাক আটক করে স্থানীয় জনতা। যেখানে চকচকে নতুন প্যাকেটকৃত লোহার ব্লেড ও মালামাল রয়েছে। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেন। এসময় পুলিশের কাছে উপস্থাপনকৃত কাগজপত্রে বিসিআইসি’র অনুমোদিত কোন কাগজ দেখাতে পারেনি কেপিএম কর্তৃপক্ষ।

কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক বলেন, বিসিআইসির বোর্ড সভার অনুমোদন ছাড়া এমন কাজ (স্ক্র্যাপ বিক্রয়) যদি কেপিএম কর্তৃপক্ষ করে থাকে, তাহলে আমি এটাকে চুরি বলবো। আমার মনে হয় উচ্চ পর্যায়ের একটি মহল কেপিএমের এমডি’কে এ ঘটনা থেকে বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কাপ্তাই থানা অফিসার ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন জানান, বর্তমানে কেপিএমে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশের টহল দল মোতায়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিসিআইসির বোর্ড সভার অনুমোদিত বৈধ কাগজ উপস্থাপন করা হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হবে।

একুশে/আরএম/এএ