বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬

জুয়া থেকে হুইপের ‘আয়’ নিয়ে লেখা সেই পুলিশ কর্মকর্তার জামিন

প্রকাশিতঃ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০, ৩:২৩ অপরাহ্ণ


ঢাকা: চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবে জুয়া নিয়ে লেখার জের ধরে জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সেই পুলিশ পরিদর্শক (বরখাস্ত) মাহমুদ সাইফুল করিম ওরফে সাইফ আমিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।

রোববার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির স্যোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল নিশাত।

১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারির আবেদন করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তিনদিন পর তিনি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে সায়েদুল হক সুমন বলেন, আসামি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ, নিরাপরাধ। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। আসামির কাছ থেকে জব্দকৃত আলামত মোবাইল ফোন, সিম, ফেসবুক এ্যাকাউন্টে সাইফ আমিন এর ধারণকৃত তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণে তর্কিত স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি। আসামি গুরুতর অসুস্থ, কিছুদিন আগে হার্টের অপারেশন করিয়েছেন। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ধার্য তারিখ ৫ এপ্রিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন।

গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী পাঁচ বছরে ১৮০ কোটি টাকা জুয়ার আসর থেকে আয়ের অভিযোগ করে স্ট্যাটাস দেন মাহমুদ সাইফুল করিম। পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মাহমুদ সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বলা হয়, চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে বাদীর নাম কোথাও আসে নাই। তাই বাদীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যা প্রকাশের মাধ্যমে বাদী সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদীর বিরুদ্ধে আসামির দেয়া বিতর্কিত পোস্টটি বিভিন্ন জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচার ও প্রকাশ হয়। এতে বাদী সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও বন্ধু মহলে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ ও হেয় প্রতিপন্ন হন। সামাজিক, পারিবারিক ও বন্ধু মহলে ব্যাপক মানহানি ঘটে। যার ফলে বাদীর নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার উপক্রম হয়।

পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ সাইফুল করিম (সাইফ আমিন) সর্বশেষ এয়ারপোর্টের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তিনি ফেনী জেলার সদর থানার পশ্চিম উকিলপাড়া গ্রামের আমিনুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।