বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মুকুলে ছেয়েছে আমগাছ, বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ

প্রকাশিতঃ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ২:০৩ অপরাহ্ণ


জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম): গাছে গাছে আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মিষ্টি ঘ্রাণ। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। পাখিরাও আম গাছে বসছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে আনোয়ারায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এর কৃষি জোনের আম গাছে।

প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগেভাগেই মুকুলে ছেয়ে গেছে আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আম গাছগুলো। থোকা থোকা মুকুলের ভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালপালা।

এবার বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ভালো ফলনের স্বপ্ন বুনছেন। উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের মুকুল দেখা যাচ্ছে কেইপিজেড কৃষি জোন, বৈরাগ, চাতরী, বটতলী, বারশত, রায়পুর,বরুমছড়া, হাইলধর, পড়ৈকোড়া, জুইদন্ডী এলাকার গাছগুলোতে।

কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আমের গুটি। বাগান মালিকেরা আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন।

আনোয়ারা উপজেলার গুয়াপঞ্চক গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় আম বাগান করেছেন মোঃ ঈসা; তিনি বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছ ইতিমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

এদিকে কেইপিজেড কৃষি জোনের গাছে গাছে এখন প্রচুর আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর সুগন্ধ। কেইপিজেড জোনের সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে।

কেইপিজেড জোনের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন খান বলেন, আম বাগানে এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি।

তিনি আরও বলেন, এবার গাছে গাছে অজস্র মুকুল দেখা যাওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।

উপজেলার সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সারোয়ার আলম বলছেন, প্রাকৃতিক কারণেই এবার আগেভাগেই আম গাছে মুকুল এসেছে। পরিচর্যা আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আমের উৎপাদন বাড়ছে।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।