বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬

চসিক বইমেলার ধারাবাহিকতা রাক্ষার আহ্বান মেয়র নাছিরের

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

 

চট্টগ্রাম : নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও যেন ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলার ধারাবাহিকতা থাকে সে ব্যাপারে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ‘অমর একুশে বইমেলায় ২০২০ চট্টগ্রাম’-এ সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কর্তৃক আয়োজিত একুশে সম্মাননা ও একুশে সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মেয়র নাছির বলেন, এবার বইমেলায় গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ স্টল হয়েছে। গতবারের ভুল ত্রুটি দূর করে এবারের বইমেলা সাজানো হয়েছে। আগামীতেও জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এ মেলা আয়োজনের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র এব্যাপারে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও যেন ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলার ধারাবাহিকতা থাকে সে ব্যাপারে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান সিটি মেয়র।

তিনি বলেন, আমি এই শহরের আদিবাসি। আমার পিতা, দাদা এ শহরে জম্ম গ্রহণ করেন। আমার জম্মও এ শহরে। সেই ধারাবাহিকতায় আামি এ শহরের অনেক ভালো-মন্দের সাথে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত হই। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে আসা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, আমি এদেশের মাটি ও মানুষকে অন্তরে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমৃত্যু এটি থাকবে। এ নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকবো। এ নগরবাসীর কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। বেঁচে থাকলে, এ ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৪ আগস্ট মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে আমার। গত মেয়র নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি চিরঋণি।

সিটি মেয়র বলেন, একুশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে। এটি চির অম্লান হয়ে থাকবে। এ ভাষা যত বেশি অন্তরে ধারণ করবো, লালন করবো আন্তর্জাতিকভাবে ততো বেশি গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে। নগরীর ঝুপড়ি দোকানে ইংরেজি সাইনবোর্ড, সামাজিক অনুষ্ঠানে ইংরেজিতে নিমন্ত্রণপত্র ছাপানোকে বিকৃত মানসিকতা বলে মন্তব্য করে মেয়র।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১১ জনকে একুশে সম্মাননা ও ৪ জনকে একুশে সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

ভাষা আন্দোলনে আবু তালেব চৌধুরী (মরণোত্তর), শিক্ষায় অধ্যক্ষ এ এফ এম মোজাফফর আহমদ (মরণোত্তর), চিকিৎসা সেবায় প্রফেসর সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ হারুনুর রশীদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হারিছ, সাংবাদিকতায় আখতার উন নবী (মরণোত্তর), সংগঠক প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগঠক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, ক্রীড়ায় সিরাজ উদ্দিন মো. আলমগীর, সংগীতে ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, সমাজসেবায় সন্ধানী চমেক ইউনিটকে একুশে সম্মাননা স্মারক এবং কথাসাহিত্যে (অনুবাদ) ড. মাহমুদ উল আলম, প্রবন্ধ গবেষণায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবিতায় ওমর কায়সার ও শিশুসাহিত্যে আকতার হোসাইনকে সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অমর একুশে বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি