সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

হৃদয়ে অনুরণন তোলা ডাকবাক্সগুলোয় মরিচা

প্রকাশিতঃ শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০, ৬:০৯ অপরাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম শিল্পী, (রাণীশংকৈল) ঠাকুরগাঁও : আগের দিনে চিঠি ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। আর সে চিঠি পাঠানোর জন্য ডাকবাক্সের ছিদ্র দিয়ে রেখে দেয়া হতো। পৌঁছে যেতো নির্দিষ্ট ঠিকানায়। এখন সেই ডাকবাক্সগুলোর আবেদন নেই। পড়ে থাকে অবহেলায়। বিবর্ণ-হতশ্রী রূপ নিয়েছে গ্রামবাংলার ডাকবাক্সগুলো। একই অবস্থা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল-এর ডাকবাক্সগুলোর।

ক’দিন আগে রাণীশংকৈলের ডাকঘরের পাশ দিয়ে যেতেই চোখে পড়ে মরিচাপড়া ডাকবক্সটি। মরিচীকায় ক্ষয়ে যাওয়া নোংড়া ডাকবাক্সটি মহাসড়কের পাশে অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে। কারণ একটাই, তার কছে আর চিঠি পড়ে না, কেউ আসে না চিঠি নিয়ে। খামেভরা চিঠি এখন শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠিানিক। এ আধুনিক সমাজে মানুষ এখন প্রবাসী স্বজনদের সঙ্গে কিংবা প্রিয়জনের যোগাযোগের সুযোগটা যখন ইচ্ছে তখনই অনলাইনে উপভোগ করেছে।

শুধু এই একটিই নয়, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ডাকঘরগুলোর সবকটিই নাজুক অবস্থা। উপজেলার প্রধান ডাকঘরটিতে সাইনবোর্ডটিও নেই। কর্তাবাবুরা চা-পানে গল্পগুজব করে সময় কাটান। সময়ের বিবর্তনে আজ ডাকঘরগুলো কোনোমতে দিনানিপাত করছে। একসময় ডাকঘরগুলো থাকতো প্রাণবন্ত, মুখরিত। রানার কিংবা ডাকপিয়নের অপেক্ষায় হাজার হৃদয়ের প্রাণ ফিরে পেতো।

খামেভরা কাগজের চিঠির জন্য মানুষ ডাকঘরের সামনে অপেক্ষা করতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা- কখন আসবে প্রিয়জনের চিঠি। রানীশংকৈল উপজেলায় ডাকঘরের অধিকাংশ ডাকঘর এখনো পাকাভবনে শোভা পাচ্ছে।

সম্প্রতি সোলার প্যানেল স্থাপন ও আসবাবপত্র নতুন করে তৈরি করা হলেও দাফতরিক কোনো কাজকর্ম তেমন নেই বললে চলে। প্রতিটি ডাকঘরে একজন মাস্টার, ডাকপিয়ন। তবে তারা যে বেতন পান তা দিয়ে ঠিকমত সংসার চালাতে পারেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। জেলা ও উপজেলার ডাকঘরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও গ্রাম্য ডাকঘরগুলো কোনোমতে দিন কাটছে।

রানীশংকৈল উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মোস্তফা আলম জানান, দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে এখন অনলাইনে সব কাজ। তবে ডাকবাক্সে চিঠি আসে না, কোনো কোনো দিন এক-দুইটা পাওয়া যায়।

অনলাইনের মাধ্যমে টাকা-পয়সা আদান-প্রদান হয়। অফিসের বাইরে একজন বলেন, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ই-মেইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, মেসেঞ্জারসহ প্রযুক্তির নানান সুবিধা এখন সবার ঘরে। শহরের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই গ্রাম। সবকিছুই এখন ডিজিটাল হয়েছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। হাতের কাছে মানুষ অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। সরকারি ডাকবিভাগের পাশাপাশি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসে চিঠিপত্র ও টাকা-পয়সা আদান-প্রদান করতে পারছে।