শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬

করোনা ঝুঁকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদেশফেরৎ যুবকের বিয়ের চেষ্টা, বাধা ইউএনও আছিয়া

প্রকাশিতঃ শনিবার, মার্চ ২১, ২০২০, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

 

চট্টগ্রাম : বিশ্বব্যাপী করোনা আতঙ্কের মাঝেই গত শুক্রবার দুবাই থেকে ফিরেছেন এক যুবক। কোয়ারান্টাইনে থাকার শর্তে হাতে ‘হোম কোয়ারান্টাইন’ সিল নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরেন তিনি।

১৪ দিন দূরের কথা, একদিনই থাকেননি কোয়ারান্টাইনে। উল্টো পরদিন থেকে বিয়ের নেশায় দৌড়ঝাঁপ, কনে দেখাদেখি শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে খোঁজও পেয়েছেন কনের। দুই পরিবারে চলছে বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণের আলোচনা।

মেয়েপক্ষ চান আগামি বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবারই নির্ধারণ হোক বিয়ের দিন। কিন্তু ছেলেপক্ষ বা হবু বর চাইছেন তার আগেই শুভ কাজটি সেরে ফেলতে।
শুক্রবার নাকি তারও আগে হবে বিয়ে – সেই দরকষাকষির মাঝেই হবু বরের বাড়িতে গিয়ে হাজির বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন।

এরপর কোয়ারান্টাইনে না থাকার অপরাধে ১০ হাজার টাকা অর্থ‌‌‌দণ্ডের পাশাপাশি আগামি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত (বিদেশ ফেরতের ১৪ দিন) বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার মুচলেকা নেন বিদেশ-ফেরৎ যুবক থেকে।

এর ব্যত্যয় হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেও বলে সতর্ক করেন ইউএনও। সেই সাথে এই সময়ের মধ্যে কোনো বিয়ে নয় মর্মে হুঁশিয়ার করে দেন তিনি।

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে ওই যুবকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে এই অর্থদণ্ড ও হুঁশিয়ারি দেন ইউএনও আছিয়া খাতুন। দণ্ডিত যুবকের নাম জাফর হোসেন। তিনি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের জনৈক শাহ আলমের ছেলে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও আছিয়া খাতুন শুক্রবার রাতে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ওই যুবক দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। বাধ্যতামূলক কোয়ারান্টাইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাধারণের সাথে মিশে যাচ্ছেন শুধু নয়, আগামি কয়েকদিনের মধ্যেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছিলেন। এমন খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করি। সাথে সাথে যুবকটির ঝুঁকিপূর্ণ তৎপরতা বন্ধ করি এবং অর্থদণ্ডসহ মুচলেকা নিই।’

বিদেশফেরৎ প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে জানিয়ে এর অমান্যতা হলে অর্থদণ্ডসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেন ইউএনও আছিয়া খাতুন।

এছাড়া একই দিন বিকেলে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওরশ মাহফিলের আয়োজন করায় পশ্চিম সারোয়াতলী মুনার মা’র শাহী জামে মসজিদ মাহফিল কমিটিকে ২০ হাজার টাকা এবং বাড়তি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করায় তিন ব্যবসায়ীকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও আছিয়া খাতুন।

এর মধ্যে মুন্সী মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আবছারকে ৫ হাজার টাকা, আবু তাহেরের ছেলে এরশাদকে ৩ হাজার টাকা ও আবু তাহেরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

করোনার অজুহাতে বাড়তি দামে নিত্যপণ্য বিক্রয়কারী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন।

একুশে/এটি