শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭

নগরবাসীকে করোনা থেকে রক্ষায় মেয়রের কাছে সুজন গেলেন সদলবলে!

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ২২, ২০২০, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : করোনা ভা্ইরাসের ঝুঁকি বাড়িয়েই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মেয়রের কাছে আহ্বান জানাতে গেলেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নগরের টাইগারপাস নতুন মেয়র কার্যালয়ে মেয়রের সঙ্গে দেখা করে করোনা ভাইরাস থেকে নগরবাসীকে রক্ষার অনুরোধ জানান সুজন। এসময় তিনি অন্তত ১০-১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে যান, যাদের কারো মুখে কোনো মাস্ক বা সংক্রমণ প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও তাদের স্বাগত জানান এবং প্রায় একঘণ্টা ধরে ঘনিষ্ঠভাবে বৈঠক করেন।

এ সময় মেয়রকে উদ্দেশ্য করে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা চট্টগ্রামের জনগণ খুবই উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রামও ঝুঁকির বাইরে নয়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এখনো স্বীকৃত কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর প্রতিরোধও সম্ভব হচ্ছে না। আর সে কারণেই ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ভাইরাস থেকে দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি দেশের মানুষকে আতংকিত না হয়ে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এছাড়া এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকরা সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাই আমরা চট্টগ্রামের জনগণও এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছি।

এছাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিদেশফেরৎ যাত্রীদের চিহ্নিতকরণ এবং এসব প্রবাসীদের প্রশাসনের সহায়তায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে চসিক এর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান সুজন।

এসময় মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় মেয়রের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সুজন।

নগরবাসীকে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আপনারা বারেবারে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করবেন। নিজের আঙ্গিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন। বিভিন্ন সামাজিক এবং ধর্মীয় সমাবেশ পরিহার করবেন। নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন। একমাত্র সচেতনতাই পারে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি দিতে।

এছাড়া ইতিমধ্যে নগরবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি কর্পোরেশন। নগরজুড়ে মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সকল ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীদের করোনাভাইরাস নিয়ে জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের সুরক্ষার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মজার বিষয় হচ্ছে, দুই নেতাই বৈঠকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার আহ্বান জানালেও তারা বৈঠক করছেন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন জনসমাগম বজায় রেখে।

সচেতনমহলের অভিমত, প্রকৃতপক্ষে তারা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কথা মুখে বললেও বাস্তবে কেউ তা পালন করছেন না। এর ক্ষতিকর দিক কতটা ভয়াবহ হতে পারে প্রকৃতপক্ষে সেই ধারণাও তাদের নেই বলে মনে করেন অনেকেই।

ফলে প্রতিদিনই তারা জনসমাগমের নিষেধাঙ্গা অমান্য করে কর্মসূচি পালন করছেন, বাড়াচ্ছেন করোনা ঝুঁকি।

এর আগে শনিবার নগরের চকবাজার এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে হাত ধোয়ার সামগ্রী বিতরণ করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিষয়টিকে আত্মঘাতি, ভয়ানক বলেও অভিহিত করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে, করোনা বিষয়ক উদ্ভুত আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে জনসমাগম ঘটিয়ে কেন এমন কর্মসূচি, কেন শোডাউন, মেয়রই বা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করবেন কীভাবে-এমন প্রশ্ন নিয়ে খোরশেদ আলম সুজনের মুখোমুখি হলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, মূলত মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষার অনুরোধ করতে গিয়েছিলাম। সেই সাথে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি মেয়রকে।

অনুরোধটি টেলিফোনে নয় কেন, সাথে লোকজনকেও থাকতে হবে কেন – এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, ‌’বেশি মানুষ নিয়ে যাইনি তো, মাত্র কয়েকজন। ঠিক আছে আর লোক নিয়ে যাবো না। এখন আমি হাফ কোয়ারান্টাইনে।’