বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা ভাইরাস : বন্দরকেন্দ্রিক উৎকণ্ঠার উৎসমূল পরিদর্শনে সুজন

প্রকাশিতঃ সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২০, ১০:১৪ অপরাহ্ণ

ট্টগ্রাম : বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার গাড়ি প্রবেশ করে। প্রতিটি গাড়ির সাথে একজন চালক এবং একজন সহকারী থাকে। এছাড়া পণ্য ডেলিভারিসহ অন্যান্য কাজে বন্দরে আরো প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের বন্দরে প্রবেশ। তাছাড়া জাহাজে করে বিদেশ থেকেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে নাবিক এবং ক্রু বন্দরে প্রবেশ করে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির শ্রমিকরা প্রতিদিনই বন্দরের অপারেশনাল কাজে বিদেশি জাহাজে প্রবেশ করে। এ কারণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি করোনা ঝুঁকিতে থাকায় চট্টগ্রামবাসীর উৎকণ্ঠাও বেশি।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি সরেজমিনে জানতে সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে গেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

এসময় তাকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম। এরপর তার কার্যালয়ে মতবিনিময়সভায় মিলিত হন খোরশেদ আলম সুজন।

সুজন বলেন, আমরা আশা করবো চট্টগ্রাম বন্দর একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবহারকারী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের কাজে যোগদানের পূর্বে মাস্ক, তরল সাবান অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার এবং হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করানোর আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া বন্দরের সকল প্রবেশ পথে থার্মাল মিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করার জন্যও বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এছাড়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য নগরীর অন্যান্য হাসপাতালের পাশাপশি চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালিত হাসপাতালেও আইসুলেশন ব্যবস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানান জনাব সুজন। তিনি বন্দর হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিই সরবরাহ করারও আহবান জানান। প্রয়োজনবোধে বন্দর হাসপাতাল থেকে অন্যান্য হাসপাতালে পিপিই সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ করেন। তাছাড়া বন্দরের আশেপাশে বিভিন্ন বস্তি এবং নিম্ন আয়ের লোকজনদের মাঝেও মাস্ক, তরল সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করার আহবান জানান। বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রবেশ মুখ প্রতিনিয়ই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিয়মিত ব্লিচিং পাউডারও ছিটানোর অনুরোধ জানান খোরশেদ আলম সুজন।

মো. জাফর আলম নাগরিক উদ্যোগের উপস্থাপিত প্রস্তাবনার সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ এবং এর বিস্তার রোধে আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। গত ২০ মার্চ (শুক্রবার) সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্বেও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বন্দরের করণীয় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি সভা করেছি। বিশেষ করে বন্দরে আগত জাহাজে কোনো নাবিক অথবা ক্রু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেওয়ার পর হেলথ অফিসার কর্তৃক জাহাজ পরিদর্শন করে করোনামুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পরই উক্ত জাহাজকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে চীন থেকে আগত জাহাজসমূহ ১৪ দিন এবং অতিরিক্ত ২দিন সহ মোট ১৬ দিন কোয়ারেন্টাইনের পর বন্দরে বার্থিং দেওয়া এবং বাংলাদেশে আগত কোনো জাহাজের নাবিক অথবা ক্রু অসুস্থ হলে তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স জাহাজও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সুজনকে অবিহত করেন জাফর আলম।

জাফর আলম জানান, বিদেশি জাহাজে উঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী পরিধান করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের কাজে যোগদানের পূর্বে সাবান দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা পরিমাপক স্ক্যানার দ্বারা তাপমাত্রা পরীক্ষা করে কাজে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। বন্দরের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া বন্দর হাসপাতালে কর্মরত সকল ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিই’র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য হাসপাতালের পিপিই সরবরাহের জন্য অর্থেরও জোগান দেওয়া হবে বলে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন তিনি।

তিনি যে কোন প্রয়োজনে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ফোন নাম্বার ২৫২০২২৪ এ যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ ইলিয়াছ, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, সমাজকর্মী মোরশেদ আলম প্রমুখ।

এদিকে, নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে নগরীর নালাপাড়া, গোসাইলডাঙ্গা ও পতেঙ্গা এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহে বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ে ওয়াসার এমডির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুততার সাথে ভোগান্তি দূর করার অনুরোধ জানান। ওয়াসার এমডি দ্রুততার সাথে সমস্যা সমাধান করে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করবেন বলে সুজনকে আশ্বস্ত করেন।

সুজন নগরবাসীকে যে কোনো ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান।

একুশে/প্রেসবিজ্ঞপ্তি/এটি