বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বিরোধিতার মুখে চবির হলে কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে না

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০, ৭:০৪ অপরাহ্ণ


চবি প্রতিনিধি : শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল কোয়ারেন্টাইনের কাজে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চবি উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার একুশে পত্রিকাকে বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকার যখন চাচ্ছিল একটি কোয়ারেন্টাইন করতে। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও শিক্ষক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হই।

উপাচার্য বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা ও এলাকাবাসী এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। যদিও এটি আমার একার সিদ্ধান্ত ছিলো না। সরকারের মানবিক আহ্বানের কারণে সাড়া দেওয়া। করোনা পরিস্থিতি সারাবিশ্বের বিপর্যয়। মানুষের পাশে মানুষকে থাকতে হয়। মানবিক আচরণ দিতে হয়।

তিনি বলেন, কিন্তু তাঁরা যখন না করেছে, আমি কথাটা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে জানিয়েছি। তারা একটু মন খারাপ করেছেন। তারপরও বলেছেন, আপনার সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু যাবে না। যেহেতু অনেকেই চাচ্ছেন না তাই হলটিতে আর কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হচ্ছে না।

এর আগে উত্তর চট্টগ্রামের সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের রাখতে চবির নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর বুধবার (২৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলটিকে কোয়ারেন্টাইন করার বিষয়টি পুণঃবিবেচনা করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতি দেয়। চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলাম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর সাম্প্রতিক কোয়ারেন্টাইন বিষয়ক নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, কোয়রেন্টাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকা হতে হবে জনবসতি থেকে দূরে এবং সুনির্দিষ্ট একটি দূরত্ব এক্ষেত্রে বজায় রাখতে হবে এবং আবাসস্থলে প্রতি রুমের সাথে সংযুক্ত শৌচাগার বা টয়লেট থাকতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত হলের খুব কম দূরত্বের মধ্যেই আশেপাশে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বসতি আছে এবং হলের রুমগুলোতে সংযুক্ত টয়লেট নেই যা এর নীতিমালার ব্যাতিক্রম। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ল্যানসেট গবেষণাপত্রে গত ২০ মার্চ ইরান ও ইটালিতে এই মহামাররি ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কোয়ারেন্টাইন সুবিধা তৈরিতে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনে চলেনি এবং ইউভি ও হট রুম সমৃদ্ধ নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ সুবিধা অনেক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ছিল না। এরকম সুবিধা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসেও নেই। তাই এটি কোনোভাবেই করোনা আক্রান্তদের জন্য উপযুক্ত আবাস নয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা নেই। এই ক্ষেত্রে সেই বর্জ্য নিশ্চিতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়বে যার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারি।