শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

চট্টগ্রামে ডাক্তারদের পিপিই’র জন্য তহবিলের প্রস্তাব ইফতেখার সাইমুলের

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পিপিই ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক চিকিৎসক। এমন অবস্থায় চট্টগ্রামের ডাক্তারদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

রোববার ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, জন্ম-মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। মহান আল্লাহর উছিলায় এই পৃথিবীতে মানুষ জন্ম-মৃত্যু ও সুস্থতার জন্য যাদের কাছে যান বা যাদের দ্বারা মানুষের রোগমুক্তি ঘটে তারা হলেন আমাদের ডাক্তারগণ। ডাক্তার সুস্থ থাকলেই রোগী সুস্থ থাকবে। তারাই যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে রোগীদের কে সুস্থ করে তুলবে? রোগীর সুস্থতার জন্য, সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তার, সহকারী ও নার্সদের পিপিই খুবই প্রয়োজন।

শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী আরো লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় সকল প্রাইভেট সেক্টরের ডাক্তারগণ, বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক/হাসপাতালে নিরাপত্তা তথা পিপিই না থাকার কারণে রোগী দেখছেন না, লিখে দিয়েছেন রোগী দেখা হয় না। ডাক্তাররা নিজেদের নিরাপত্তা সংকটের কারণে, পিপিই না থাকার কারণে এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণে হয়তো বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু শুধু পিপিই এর জন্য যদি ডাক্তারগণ রোগী না দেখেন, রোগীকে সুস্থ না করেন তবে চট্টগ্রাম বিশাল এক মহামারীর সম্মুখীন হবে।

‘এটাও ভেবে দেখা আবশ্যক যে একজন ডাক্তারের নিকট বা প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিকগুলোতে শুধু করোনা রোগীই চিকিৎসা সেবা নিতে যায় না। আর এমন নয় যে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের অন্য রোগবালাই উধাও হয়ে গেছে। করোনা ছাড়া বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষগুলো কোথায় যাবে? তারাও কি এই পিপিই এর কারণে তাদের চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?’ বলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

‘সদিচ্ছা থাকলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ডাক্তাররা মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজনে নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশির তথা সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট আলাদা ইউনিট করে অন্যান্য জটিল রোগীদের নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারেন। তাছাড়া এই সংকট থেকে উত্তোরণের পথ তো আমাদেরই বের করতে হবে।’

পিপিই নেই বলে তো আর বসে থাকা যাবে না মন্তব্য করে শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, এই সাময়িক দুঃসময় থেকে উত্তোরণের জন্য আমি মনে করি বিএমএ, স্বাচিপ, রেড ক্রিসেন্ট, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন সময় দুর্যোগকালীন সময়ে, সংকটে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এগিয়ে এসেছেন তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, আমার জানামতে চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপ, ক্লিপ্টন গার্মেন্টস সহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা পিপিই তৈরি করছে। বিএমএ, স্বাচিপ, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি আরো যারা মানবিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান আছে তারা প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে ফান্ড গঠন করতে পারেন এবং এক্ষেত্রে ফান্ড কালেকশানের জন্য বিত্তবানদের আহ্বান করতে পারেন। এইভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিপিই তৈরি করে ডাক্তারদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

‘আমরা তথা চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকে সব ধরনের সার্ভিস চার্জ দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি, প্রয়োজনে ডাক্তার বা হাসপাতাল/ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীদের থেকে পিপিই এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চার্জ কর্তন করতে পারেন এবং সেই টাকা পিপিই তৈরির জন্য যে ফান্ড হবে সেখানে দিয়ে দিবেন এবং পিপিই সংগ্রহ করবেন।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে পিপিইগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করে বা আমদানি করে চট্টগ্রামের দুঃস্থ ও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানের ব্যবস্থা নিতে বিএমএ, স্বাচিপ, লায়নস ক্লাব অব ইন্টারন্যাশনাল, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সহ বৃহত্তর মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আইনজীবী নেতা শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

তিনি বলেন, ডাক্তারদের পিপিই’র জন্য এই তহবিল গঠনে নগরবাসীর সহায়তা প্রয়োজন হলে আমি বিশ্বাস করি এই ক্রান্তিকালে বীর চট্টলাবাসী অবশ্যই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবেন। এবং এই সংকট দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।