বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

করোনা রোগী বাঁচাতে ‘পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি’র পরামর্শ চবি শিক্ষকের

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ


ইফতেখার সৈকত, চবি : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে ‘পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি’র পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

এর আগে এ প্রাণরসায়নবিদ ‘পিসিআর মেশিন’ ব্যবহার করে তিন ঘন্টায় ৯৬ জন ব্যক্তির করোনাভাইরাস পরীক্ষার ধারণা নিয়ে ফেসবুকে লিখেন; যা সোমবার ‘তিন ঘন্টায় ৯৬ জনের করোনা পরীক্ষা পদ্ধতির অনুমোদন চান চবি শিক্ষক’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হোসাইন ভূঁইয়া লিখেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচানোর জন্য ১৮৯০ সালের ‘পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি’র এই পদ্ধতি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি নামকরণ হয়েছে, কারণ এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির শরীরে উৎপন্ন এন্টিবডি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

প্রাণরসায়নবিদ ড. রবিউল হোসাইন ভূঁইয়া জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম নিয়ে (ভাইরাস ও অন্যান্য ইনফেক্সাস এজেন্ট স্কিনিংয়ের পর) আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তি খুব তাড়াতাড়ি নিরাময় হয়ে উঠতে পারে। কারণ পূর্বে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড প্লাজমা অথবা সিরামে এন্টি-কবিড-১৯ এন্টিবডি উৎপন্ন হয়ে আছে, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের প্রবেশ করালে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাময়ে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি ফেসবুকে আরও লিখেছেন, এ ধরনের ব্লাড-প্লাজমা বা ব্লাড-সিরাম পদ্ধতির মাধ্যমে ১৯১৮ সালে H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস মহামারীতে ১৭০০ আক্রান্ত ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছে। যদিও তখন বর্তমান সময়ের তুলনায় জ্ঞানের ব্যপ্তি কম থাকায় কোন উপসংহারে আসা যায়নি। ২০০২-০৩ সালে সার্স আউটব্রেকের সময় আক্রান্ত ৮০ ব্যক্তির উপর একইভাবে আক্রান্ত থেকে নিরাময় হয়ে উঠা ব্যক্তির ব্লাড-সিরাম প্রয়োগ করা হয় হংকং-এ। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত নিরাময় হয়ে উঠে। তাছাড়া ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতির মাধ্যমে কিছু সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। করোনা রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে পরোক্ষ এন্টিবডি থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা কতটুকু কার্যকারিতা পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিশ্বের বড় বড় গবেষণাপত্রগুলোতে বিষয়টি নিয়ে লেখা প্রকাশ হয়েছে। তাড়াতাড়ি করোনাভাইরাসের জিন পরিবর্তনের সমস্যার কারণে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োগ করে কার্যকারিতা পাওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। আর যেহেতু করোনার কোন ওষুধ নেই তাই রোগী একদম চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সুফল মিলতে পারে। আর এই কাজ করা খুবই সহজ। চিকিৎসকরা এটি অনুসরণ করতে পারেন।